সুনামগঞ্জে নবীন-প্রবীণে জমে উঠেছে নির্বাচনি লড়াই
- আপডেট সময় : ১০:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ নিউজ ডেস্ক: সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি আমেজ জমে উঠেছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পথসভা, বাজার বৈঠক, গণসংযোগ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এ অবস্থায় প্রার্থীদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও প্রচারে ব্যস্ত দিন পার করছেন। দল বেঁধে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রার্থীদের জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। তারা দিরাই-শাল্লায় এবার প্রতীক বেছে নেবেন, নাকি যোগ্য প্রার্থী- সেই বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এবার কাগজের পোস্টার না থাকায় প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচার চালাচ্ছেন, পথঘাটে টাঙানো হচ্ছে ব্যানার ও ফেস্টুন। বিশেষ করে ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রীতিমতো সৃজনশীল প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই আসনে জোরে-শোরে বইছে নির্বাচনি হাওয়া।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী। তার বিপরীতে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
ভোটের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, আসনটিতে ততই নির্বাচনি উত্তাপ বেড়ে চলেছে। ভোটারদের এখন একটাই চিন্তা, দিরাই-শাল্লায় এবার কে হচ্ছেন আগামীর কাণ্ডারি? রাজনীতিতে নবীন ও বিজ্ঞ আইনজীবী শিশির মনির প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ নাছির চৌধুরী। এই দুই নবীন-প্রবীণের মধ্যেই লড়াই এখন তুঙ্গে।
নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে নিয়মিত প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সব প্রার্থী। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরী শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও প্রতিদিনই দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন, পথসভা, বাজার বৈঠকসহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম পালন করছেন। দুবারের সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবীণ নেতা হওয়ায় এই আসনে নির্বাচনি প্রচারে তার জন্য অনেকটা সহজ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ও স্বশীরে প্রচারে ব্যস্ত জামায়াত ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরও। তিনি তার নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে ভোটারদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তাছাড়া প্রচারে কৃষক, দিনমজুর, প্রবাসী ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীদের সঙ্গে নিয়ে অপর প্রার্থীর চেয়ে তিনি ভিন্ন পন্থায় এগোচ্ছেন। এতে দিন দিন অনেক ভোটারদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছেন শিশির মনির।
দিরাই উপজেলার বাসিন্দা রুদ্র মিজান বলেন, নাছির চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা৷ দল মত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে তিনি সকলের অভিভাবক৷ আমরা বিশ্বাস করি দল-মত নির্বিশেষে সবাই নাছির চৌধুরীকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবেন এবং এটা সারা বাংলাদেশের জন্য একটা চমক হয়ে দাঁড়াবে৷
তরুণ প্রজন্মের ভোট দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক উল্লেখ করে শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা আনিসুল হক চৌধুরী মুন বলেন, সারা বাংলাদেশের মধ্যে দিরাই-শাল্লা এখনো অবহেলিত রয়ে গেছে। একমাত্র শিশির মনিরের মাধ্যমেই এই এলাকার উন্নয়ন করা সম্ভব। তিনি বলেন, শিশির মনির ইতোমধ্যেই এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। জনগণও তাকে কাছে টেনে নিচ্ছেন। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে শিশির মনির বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।




















