ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের আলটিমেটাম ডাকসু নেতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮২ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে আলটিমেটাম দিয়েছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আলটিমেটাম দেন তিনি। বিবৃতিতে মুসাদ্দিক আলী বলেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে আমাদের দাবি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লীগের সব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে হবে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান শুরু করতে হবে।

চিরুনি অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চিরুনি অভিযান কিছুটা সন্তোষজনক বলা যায়। কারণ অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর আওতায় গত তিনদিনে সারাদেশে গ্রেফতার হয়েছেন ৪,৩৬০ জন। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু কোনো নিরপরাধ নাগরিককে হয়রানিমূলক গ্রেফতার করা যাবে না। কেবল প্রকৃত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদেরকেই গ্রেফতার করতে হবে।

তবে চলমান পরিস্থিতিতে এই গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার এখনো আশানুরূপ নয় উল্লেখ করে ডাকসু নেতা বলেন, কারণ বহু লীগের সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হয়নি। এদের হাতে কোনো অপরাধ (গুপ্তহত্যা, জঙ্গি মিছিল, অগ্নিসন্ত্রাস ইত্যাদি) সংঘটিত হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমকেই বহন করতে হবে।

মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ আক্ষেপের সুরে বলেন, আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক পরিশ্রম করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে। আর সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ, টাকা-পয়সার লেনদেন ইত্যাদির মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের জামিন দেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃত লীগের সন্ত্রাসীদের লাগাতার জামিন দেওয়া যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে এর দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকেই বহন করতে হবে বলেও সতর্কবার্তা দেন তিনি।

ওসমান হাদি ইস্যুতে মুসাদ্দিক আলী বলেন, ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সহযোগীদের গ্রেফতার করা হলেও মূল শুটার ফয়সালকে গ্রেফতারে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হাসিনাসহ অন্যান্য খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কিছু বক্তব্য দৃঢ় মনে হলেও, খুনিদের ফিরিয়ে আনার বাস্তব উদ্যোগ না নিলে এসব বক্তব্য ফাঁকা বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে খুনী হাসিনাসহ সব কসাইদেরকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার বাস্তব ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আর ভারতের প্রশাসন যদি এসব খুনীদের ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কুটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে।

ডাকসু নেতা বলেন, এসবের ব্যত্যয় হলে এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান আরও উন্নতি দেখাতে না পারলে সারাদেশের ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের আলটিমেটাম ডাকসু নেতার

আপডেট সময় : ১১:২৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় ডেস্ক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে আলটিমেটাম দিয়েছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আলটিমেটাম দেন তিনি। বিবৃতিতে মুসাদ্দিক আলী বলেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে আমাদের দাবি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লীগের সব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে হবে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান শুরু করতে হবে।

চিরুনি অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চিরুনি অভিযান কিছুটা সন্তোষজনক বলা যায়। কারণ অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর আওতায় গত তিনদিনে সারাদেশে গ্রেফতার হয়েছেন ৪,৩৬০ জন। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু কোনো নিরপরাধ নাগরিককে হয়রানিমূলক গ্রেফতার করা যাবে না। কেবল প্রকৃত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদেরকেই গ্রেফতার করতে হবে।

তবে চলমান পরিস্থিতিতে এই গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার এখনো আশানুরূপ নয় উল্লেখ করে ডাকসু নেতা বলেন, কারণ বহু লীগের সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হয়নি। এদের হাতে কোনো অপরাধ (গুপ্তহত্যা, জঙ্গি মিছিল, অগ্নিসন্ত্রাস ইত্যাদি) সংঘটিত হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমকেই বহন করতে হবে।

মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ আক্ষেপের সুরে বলেন, আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক পরিশ্রম করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে। আর সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ, টাকা-পয়সার লেনদেন ইত্যাদির মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের জামিন দেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃত লীগের সন্ত্রাসীদের লাগাতার জামিন দেওয়া যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে এর দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকেই বহন করতে হবে বলেও সতর্কবার্তা দেন তিনি।

ওসমান হাদি ইস্যুতে মুসাদ্দিক আলী বলেন, ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সহযোগীদের গ্রেফতার করা হলেও মূল শুটার ফয়সালকে গ্রেফতারে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হাসিনাসহ অন্যান্য খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কিছু বক্তব্য দৃঢ় মনে হলেও, খুনিদের ফিরিয়ে আনার বাস্তব উদ্যোগ না নিলে এসব বক্তব্য ফাঁকা বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে খুনী হাসিনাসহ সব কসাইদেরকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার বাস্তব ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আর ভারতের প্রশাসন যদি এসব খুনীদের ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কুটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে।

ডাকসু নেতা বলেন, এসবের ব্যত্যয় হলে এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান আরও উন্নতি দেখাতে না পারলে সারাদেশের ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।