ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত ইস্যুতে ডা. জাহিদকে যেসব প্রশ্ন করলেন পিনাকী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ অনলাইন: সম্প্রতি একটি টক শো-তে জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনিরকে ডা. জাহিদ প্রশ্ন করেন, “জামায়াতে ইসলামীতে কোনো অমুসলিম কি আমির হতে পারবে?” এই প্রশ্নের সূত্র ধরে, পিনাকী ভট্টাচার্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ডা. জাহিদের উদ্দেশে কিছু পাল্টা প্রশ্ন করেন।

পিনাকী ভট্টাচার্যের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো: ডাক্তার জাহিদ একটু উত্তর দিক। বিএনপিতে জিয়া পরিবারের বাইরে আর কেউ চেয়ারপারসন হতে পারবে? একজন আলেম কি সিপিবির প্রেসিডেন্ট হইতে পারবে?

সেই হিসাবে তো জামায়াত অনেক বেশী ইনক্লুসিভ। জামায়তে ইসলামীর আমির একজন হিন্দুকে হইতে বলাই তো হিন্দু এবং মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের জন্যই অপমানজনক। একটা ইসলামী দলের আমির কেমনে একজন হিন্দুকে হইতে হবে? আশ্চর্যজনক।

বিএনপি বা সিপিবি–এগুলো আইডিওলজিকালি ধর্মনিরপেক্ষ/জাতীয়তাবাদী/বামপন্থী দল, যেখানে নেতৃত্বে theoretically যেকোনো যোগ্য ব্যক্তি আসতে পারে। কিন্তু বাস্তবে পরিবারতন্ত্র বা পার্টির কাঠামোগত জড়তা সেইটা হইতে দেয় না।

অন্যদিকে জামায়াত আইডিওলজিকালি ইসলামিক পার্টি। এখানে হিন্দু আমির হওয়ার দাবি করা মানে পার্টির ঘোষিত সনদের বিরুদ্ধে যাওয়া। তাই এটাকে inclusiveness-এর মাপকাঠি করা আসলে ভুল তুলনা।

ইনক্লুসিভনেস মানে হচ্ছে—ভিতরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত বা বহুত্ববাদ কতটা জায়গা পাচ্ছে।

বিএনপি বা সিপিবির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক বা নির্দিষ্ট ব্লক দিয়ে নিয়ন্ত্রিত।

বিএনপিতে জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে চেয়ারপারসন বানানো সম্ভব হয়নি—এমনকি অস্থায়ী পরিস্থিতিতেও যেমন, খালেদা জিয়া জেলে থাকাকালে তারেক রহমানের হাতেই লিডারশীপ থেকেছে।

যদি জামায়াতকে হিন্দু আমির না দিতে পারার কারণে ‘এক্সক্লুসিভ’ বলা হয়, তবে বিএনপিকেও প্রশ্ন করতে হবে: মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে কেন কোনো হিন্দু বা বৌদ্ধকে কখনো দেশের প্রেসিডেন্ট বা দলের চেয়ারপারসন করা হয়নি?

একটা ইসলামি দলের আমির হিন্দু না হতে পারাটা আদর্শগতভাবে যৌক্তিক। কিন্তু তথাকথিত সেক্যুলার জাতীয়তাবাদী বা বাম দলগুলোর নেতৃত্বে কেন পারিবারিক রাজতন্ত্র কায়েম থাকবে? সেটাই আসল প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জামায়াত ইস্যুতে ডা. জাহিদকে যেসব প্রশ্ন করলেন পিনাকী

আপডেট সময় : ০২:১১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
প্রসঙ্গ অনলাইন: সম্প্রতি একটি টক শো-তে জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনিরকে ডা. জাহিদ প্রশ্ন করেন, “জামায়াতে ইসলামীতে কোনো অমুসলিম কি আমির হতে পারবে?” এই প্রশ্নের সূত্র ধরে, পিনাকী ভট্টাচার্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ডা. জাহিদের উদ্দেশে কিছু পাল্টা প্রশ্ন করেন।

পিনাকী ভট্টাচার্যের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো: ডাক্তার জাহিদ একটু উত্তর দিক। বিএনপিতে জিয়া পরিবারের বাইরে আর কেউ চেয়ারপারসন হতে পারবে? একজন আলেম কি সিপিবির প্রেসিডেন্ট হইতে পারবে?

সেই হিসাবে তো জামায়াত অনেক বেশী ইনক্লুসিভ। জামায়তে ইসলামীর আমির একজন হিন্দুকে হইতে বলাই তো হিন্দু এবং মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের জন্যই অপমানজনক। একটা ইসলামী দলের আমির কেমনে একজন হিন্দুকে হইতে হবে? আশ্চর্যজনক।

বিএনপি বা সিপিবি–এগুলো আইডিওলজিকালি ধর্মনিরপেক্ষ/জাতীয়তাবাদী/বামপন্থী দল, যেখানে নেতৃত্বে theoretically যেকোনো যোগ্য ব্যক্তি আসতে পারে। কিন্তু বাস্তবে পরিবারতন্ত্র বা পার্টির কাঠামোগত জড়তা সেইটা হইতে দেয় না।

অন্যদিকে জামায়াত আইডিওলজিকালি ইসলামিক পার্টি। এখানে হিন্দু আমির হওয়ার দাবি করা মানে পার্টির ঘোষিত সনদের বিরুদ্ধে যাওয়া। তাই এটাকে inclusiveness-এর মাপকাঠি করা আসলে ভুল তুলনা।

ইনক্লুসিভনেস মানে হচ্ছে—ভিতরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত বা বহুত্ববাদ কতটা জায়গা পাচ্ছে।

বিএনপি বা সিপিবির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক বা নির্দিষ্ট ব্লক দিয়ে নিয়ন্ত্রিত।

বিএনপিতে জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে চেয়ারপারসন বানানো সম্ভব হয়নি—এমনকি অস্থায়ী পরিস্থিতিতেও যেমন, খালেদা জিয়া জেলে থাকাকালে তারেক রহমানের হাতেই লিডারশীপ থেকেছে।

যদি জামায়াতকে হিন্দু আমির না দিতে পারার কারণে ‘এক্সক্লুসিভ’ বলা হয়, তবে বিএনপিকেও প্রশ্ন করতে হবে: মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে কেন কোনো হিন্দু বা বৌদ্ধকে কখনো দেশের প্রেসিডেন্ট বা দলের চেয়ারপারসন করা হয়নি?

একটা ইসলামি দলের আমির হিন্দু না হতে পারাটা আদর্শগতভাবে যৌক্তিক। কিন্তু তথাকথিত সেক্যুলার জাতীয়তাবাদী বা বাম দলগুলোর নেতৃত্বে কেন পারিবারিক রাজতন্ত্র কায়েম থাকবে? সেটাই আসল প্রশ্ন।