ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে জামায়াতের মানববন্ধন নিমগাছি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জামায়াত নেতা ডক্টর আব্দুস সামাদ রাবিতে নাট্য নির্দেশনা সপ্তাহ উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবি’র উদ্যোগে যুবকদের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ শুরু সমকালীন প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.)-এর নৈতিক শিক্ষা ও সুশাসন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে সবজির বাজার স্থিতিশীল, দাম বেড়েছে ডিম-মুরগীর ৩০ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে সারাদেশে বাস চলাচল স্বাভাবিক ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজশাহীর গৌরব পুনরুদ্ধারে পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ: ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফা

মক্কায় বিজয়ী চার হাফেজকে সংবর্ধনা, কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরও সম্মাননার ঘোষণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপির পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চারজন প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি হাফেজদের এ সাফল্য দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলেও কুরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, গতকাল জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত বিজয়ীদের সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মাননার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয়ী সব হাফেজকে নিয়ে সম্মানজনক সংবর্ধনার আয়োজনের কথাও জানান জামায়াতে ইসলামীর আমীর।

ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কুরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তাঁদের ন্যায্য অধিকার।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করছে। এ ধরনের সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষকদের সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সবাই মিলে প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাঁর ভাষায়, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মক্কায় বিজয়ী চার হাফেজকে সংবর্ধনা, কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরও সম্মাননার ঘোষণা

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপির পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চারজন প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি হাফেজদের এ সাফল্য দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলেও কুরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, গতকাল জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত বিজয়ীদের সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মাননার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয়ী সব হাফেজকে নিয়ে সম্মানজনক সংবর্ধনার আয়োজনের কথাও জানান জামায়াতে ইসলামীর আমীর।

ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কুরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তাঁদের ন্যায্য অধিকার।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করছে। এ ধরনের সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষকদের সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সবাই মিলে প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাঁর ভাষায়, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি।