আগস্টেই হচ্ছে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- আপডেট সময় : ১২:২৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ অনলাইন: জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে জটিলতা থাকায় নবম জাতীয় পে স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় আগস্টে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে পারে। এসব বৈঠকে সুপারিশের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেওয়া হতে পারে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।
গত ১৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সচিবালয়ে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের বিভিন্ন দিক, অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেল বাস্তবায়নের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার আরো সতর্কভাবে কাজ করছে কমিটি। নতুন বেতনকাঠামো তৈরিতে বৈষম্য ও অসন্তোষ এড়াতে সর্বোচ্চ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, শুরুতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা হলেও এখন তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী দুই ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।
নীতিগতভাবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ধাপভিত্তিক বাস্তবায়নে প্রধান বাধা প্রযুক্তিগত। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইএফটি (EFT) ও আইবাস++ (iBAS++) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে পুরো সফটওয়্যার কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে, যা নিয়ে সময়সাপেক্ষ ও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে একাধিক বৈঠক করেও কমিটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। নতুন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার জন্য বড় বরাদ্দ থাকলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটেনি। একটি সূত্রের মতে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্য সূত্রের দাবি, অক্টোবরের আগে তা জারির সুযোগ কম।
বৈঠকে কমিশনের প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেড বহাল রাখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪৮,৪০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ করার কথা থাকলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী এতে পরিবর্তন আসতে পারে।
নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি চাকরিজীবীরা সচিব কমিটির পরবর্তী বৈঠকের অপেক্ষায় আছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুতই এর গেজেট প্রকাশ করবে সরকার।




















