ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি মুনাফিকের দল: শিবির সভাপতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে দলটিকে ‘মুনাফিক’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজশাহী মহানগর শিবির আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলুপট্টি মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে।

সরকার গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। একই সঙ্গে শাপলা চত্বর, ২৮ অক্টোবর, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পরবর্তী সহিংসতা এবং জুলাইয়ের ঘটনাসহ বিভিন্ন গণহত্যা ও গুম-খুনের বিচার দাবি করেন তিনি।

বিএনপির উদ্দেশে সাদ্দাম বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণ এর জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জনগণের ভোট ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। জনগণ যে সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রত্যাশা করেছিল, সরকার তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমি বিএনপি নিয়ে একটু স্টাডি করার চেষ্টা করছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, বিএনপি ঠিকই পানি খায়, কিন্তু একটু ঘোলা করে খায়।’

অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রথমে প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে বিএনপি তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ বলেন, তারা আগেই রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্বে না রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাদের সেই আশঙ্কাই সত্য হয়েছে।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সংশোধনের নাটকে যেতে চাই না, আমরা সংস্কারে যেতে চাই।’ একটি সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হলে আদালতের মাধ্যমে তা সহজে বাতিল হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক মো. মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিএনপি মুনাফিকের দল: শিবির সভাপতি

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে দলটিকে ‘মুনাফিক’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজশাহী মহানগর শিবির আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলুপট্টি মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে।

সরকার গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। একই সঙ্গে শাপলা চত্বর, ২৮ অক্টোবর, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পরবর্তী সহিংসতা এবং জুলাইয়ের ঘটনাসহ বিভিন্ন গণহত্যা ও গুম-খুনের বিচার দাবি করেন তিনি।

বিএনপির উদ্দেশে সাদ্দাম বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণ এর জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জনগণের ভোট ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। জনগণ যে সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রত্যাশা করেছিল, সরকার তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমি বিএনপি নিয়ে একটু স্টাডি করার চেষ্টা করছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, বিএনপি ঠিকই পানি খায়, কিন্তু একটু ঘোলা করে খায়।’

অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রথমে প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে বিএনপি তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ বলেন, তারা আগেই রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্বে না রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাদের সেই আশঙ্কাই সত্য হয়েছে।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সংশোধনের নাটকে যেতে চাই না, আমরা সংস্কারে যেতে চাই।’ একটি সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হলে আদালতের মাধ্যমে তা সহজে বাতিল হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক মো. মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা