ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় রাজশাহী: কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও উৎসবের আমেজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের শুরু। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তুলনামূলকভাবে বৃষ্টির দেখা মিলছিল না রাজশাহীতে। মাঝে দু-এক দফা বৃষ্টি হলেও তা ছিল অল্প সময়ের এবং পরিমাণেও কম। তবে সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার পর হঠাৎ করেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টার বর্ষণে একদিকে যেমন ধুয়ে-মুছে সতেজ হয়ে ওঠে নগরী, অন্যদিকে জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে। একই বৃষ্টিতে রাজশাহীতে ফুটে ওঠে দুই ভিন্ন চিত্র—কোথাও আনন্দ-উৎসব, কোথাও দুর্ভোগ।

বৃষ্টির পর শহরের ধুলোবালিতে ঢাকা সড়ক, ফুটপাত ও গাছপালা যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। দীর্ঘদিনের ধুলো জমে থাকা পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ঝকঝকে হয়ে ওঠে। সবুজে ঘেরা রাজশাহী নগরীর সৌন্দর্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই বর্ষণে। অনেকেই ছাতা হাতে বের হলেও কিছুক্ষণ পর ছাতা বন্ধ করে বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন অনেক তরুণ-তরুণী।

রাজশাহী কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বৃষ্টির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। কোথাও বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে আড্ডা, কোথাও আবার হাসি-আনন্দে কাটাতে দেখা যায় বিকেল। বর্ষার এই রূপ যেন অনেক দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটায়।

রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী আল ইমরান বলেন, “অনেক দিন পর এমন বৃষ্টি হলো। ভিজে ফুটবল খেলতে আলাদা একটা আনন্দ আছে। পড়াশোনার ব্যস্ততার মধ্যে এমন মুহূর্ত খুব কমই আসে। আজকের বিকেলটা আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তবে একই সময়ে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে দেখা দেয় ভিন্ন বাস্তবতা। টানা বৃষ্টিতে জিরো পয়েন্ট, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। কোথাও কোথাও নর্দমার পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে। এতে পথচারী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

বৃষ্টির কারণে অনেকেই কর্মস্থল, দোকান কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়েন। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অনেক অটোরিকশা চালক জলাবদ্ধ সড়কে যানবাহন চালাতে অনীহা প্রকাশ করায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

পথচারী এজাজ মাহমুদ মুজাহিদ বলেন, “বৃষ্টির কারণে বিকেল পর্যন্ত বাসা থেকে বের হতে পারিনি। এখন বের হয়ে দেখি হাঁটুপানি। এখনো দুপুরের খাবার খাওয়া হয়নি। পানি না কমলে সন্ধ্যায় অফিসে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে। অটোরিকশাও খুব কম চলছে, তাই চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে।”

শুধু সড়কেই নয়, নগরীর কয়েকটি নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি দোকান ও বাড়ির ভেতরেও ঢুকে পড়ে। অনেক দোকানদার ও বাসিন্দাকে বালতি ও পাম্প দিয়ে পানি সেচে বের করতে দেখা যায়। হঠাৎ কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার এমন চিত্র নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

একই বৃষ্টিতে তাই রাজশাহী যেন দেখেছে দুটি বিপরীত দৃশ্য। একদিকে প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে তার সজীব রূপ, তরুণদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি; অন্যদিকে জলাবদ্ধতা, যানসংকট ও নিত্যযাত্রার ভোগান্তি নগরবাসীর জন্য বৃষ্টির সৌন্দর্যকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। শ্রাবণের শুরুতেই এই বর্ষণ যেমন প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করেছে, তেমনি নগর ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও আবার সামনে এনে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় রাজশাহী: কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও উৎসবের আমেজ

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের শুরু। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তুলনামূলকভাবে বৃষ্টির দেখা মিলছিল না রাজশাহীতে। মাঝে দু-এক দফা বৃষ্টি হলেও তা ছিল অল্প সময়ের এবং পরিমাণেও কম। তবে সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার পর হঠাৎ করেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টার বর্ষণে একদিকে যেমন ধুয়ে-মুছে সতেজ হয়ে ওঠে নগরী, অন্যদিকে জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে। একই বৃষ্টিতে রাজশাহীতে ফুটে ওঠে দুই ভিন্ন চিত্র—কোথাও আনন্দ-উৎসব, কোথাও দুর্ভোগ।

বৃষ্টির পর শহরের ধুলোবালিতে ঢাকা সড়ক, ফুটপাত ও গাছপালা যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। দীর্ঘদিনের ধুলো জমে থাকা পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ঝকঝকে হয়ে ওঠে। সবুজে ঘেরা রাজশাহী নগরীর সৌন্দর্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই বর্ষণে। অনেকেই ছাতা হাতে বের হলেও কিছুক্ষণ পর ছাতা বন্ধ করে বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন অনেক তরুণ-তরুণী।

রাজশাহী কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বৃষ্টির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। কোথাও বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে আড্ডা, কোথাও আবার হাসি-আনন্দে কাটাতে দেখা যায় বিকেল। বর্ষার এই রূপ যেন অনেক দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটায়।

রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী আল ইমরান বলেন, “অনেক দিন পর এমন বৃষ্টি হলো। ভিজে ফুটবল খেলতে আলাদা একটা আনন্দ আছে। পড়াশোনার ব্যস্ততার মধ্যে এমন মুহূর্ত খুব কমই আসে। আজকের বিকেলটা আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তবে একই সময়ে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে দেখা দেয় ভিন্ন বাস্তবতা। টানা বৃষ্টিতে জিরো পয়েন্ট, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। কোথাও কোথাও নর্দমার পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে। এতে পথচারী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

বৃষ্টির কারণে অনেকেই কর্মস্থল, দোকান কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়েন। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অনেক অটোরিকশা চালক জলাবদ্ধ সড়কে যানবাহন চালাতে অনীহা প্রকাশ করায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

পথচারী এজাজ মাহমুদ মুজাহিদ বলেন, “বৃষ্টির কারণে বিকেল পর্যন্ত বাসা থেকে বের হতে পারিনি। এখন বের হয়ে দেখি হাঁটুপানি। এখনো দুপুরের খাবার খাওয়া হয়নি। পানি না কমলে সন্ধ্যায় অফিসে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে। অটোরিকশাও খুব কম চলছে, তাই চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে।”

শুধু সড়কেই নয়, নগরীর কয়েকটি নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি দোকান ও বাড়ির ভেতরেও ঢুকে পড়ে। অনেক দোকানদার ও বাসিন্দাকে বালতি ও পাম্প দিয়ে পানি সেচে বের করতে দেখা যায়। হঠাৎ কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার এমন চিত্র নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

একই বৃষ্টিতে তাই রাজশাহী যেন দেখেছে দুটি বিপরীত দৃশ্য। একদিকে প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে তার সজীব রূপ, তরুণদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি; অন্যদিকে জলাবদ্ধতা, যানসংকট ও নিত্যযাত্রার ভোগান্তি নগরবাসীর জন্য বৃষ্টির সৌন্দর্যকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। শ্রাবণের শুরুতেই এই বর্ষণ যেমন প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করেছে, তেমনি নগর ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও আবার সামনে এনে দিয়েছে।