ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২৩

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক নেতা হুয়ানমা মোরেনো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিহতদের মধ্যে অন্তত চারজন ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারেন। খবর বিবিসির।

চলতি গ্রীষ্মে সমগ্র দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ফারেনহাইট) তাপমাত্রার দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহ চলছে। ফলে ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনের বিভিন্ন বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হয়েছে।

আন্দালুসিয়ার আলমেরিয়া প্রদেশের লস গ্যালার্দোস এলাকার বনাঞ্চলে প্রথম এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আঞ্চলিক নেতা মোরেনো জানান, প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী একটি বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটি ভেঙে পড়ার কারণে এই আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনদেসা’ এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভেঙে পড়া লাইনটি নিষ্ক্রিয় ছিল এবং সেটি তাদের নয়।

লস গ্যালার্দোসের ঠিক বাইরে অবস্থিত বেদার নামক একটি ছোট গ্রামের থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্য ও জরুরি বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সাঞ্জ জানান, আগুন অত্যন্ত দ্রুত ও জটিল আকার ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, নিহতদের বেশিরভাগ বা সবাই বিদেশী নাগরিক হতে পারেন।

উদ্ধারকর্মীরা একটি ডান-হ্যান্ড ড্রাইভ কারের ভেতর থেকে চারজনকে আটকে পড়া অবস্থায় মৃত উদ্ধার করেন, যারা ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি আটটি মরদেহ অন্য স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়, যারা দৃশ্যত আগুন থেকে বাঁচার জন্য পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সাঞ্জ একে আন্দালুসিয়ার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিরা উচ্ছেদ বা নিরাপদ বের হওয়ার জন্য নির্ধারিত রুটের পরিবর্তে ভিন্ন পথ ব্যবহারের চেষ্টা করায় বিপদে পড়েন।

দাবানলের কারণে এই অঞ্চল থেকে অন্তত এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্পেনের মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিট ২২০ জন সেনা ও ৭০টি যান মোতায়েন করেছে। এছাড়া সিভিল গার্ডের ১৬০ জন সদস্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও অনুসন্ধানের কাজে অংশ নিচ্ছেন।

হুয়ানমা মোরেনো এই ঘটনাকে একটি বড় ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত এবং আমরা শোকে স্তব্ধ। মৃতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আগুনে গুরুতর দগ্ধ ৪ জনসহ মোট ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

১২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এটি স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে পরিণত হয়েছে। এর আগে ২০০৫ সালে রিবা দে সায়েলিসেস গ্রামে ১১ জন দমকলকর্মী এবং ১৯৭৯ সালে লরেত দে মারের কাছে লোরত দাবানলে ২১ জন মারা গিয়েছিলেন।

ইউরোপীয় জলবায়ু সংস্থা ‘কোপারনিকাসের’ মতে, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ গ্রুপের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র দাবানল ও চরম তাপদাহের এই ভয়াবহ রূপ সরাসরি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২৩

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক নেতা হুয়ানমা মোরেনো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিহতদের মধ্যে অন্তত চারজন ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারেন। খবর বিবিসির।

চলতি গ্রীষ্মে সমগ্র দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ফারেনহাইট) তাপমাত্রার দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহ চলছে। ফলে ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনের বিভিন্ন বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হয়েছে।

আন্দালুসিয়ার আলমেরিয়া প্রদেশের লস গ্যালার্দোস এলাকার বনাঞ্চলে প্রথম এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আঞ্চলিক নেতা মোরেনো জানান, প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী একটি বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটি ভেঙে পড়ার কারণে এই আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনদেসা’ এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভেঙে পড়া লাইনটি নিষ্ক্রিয় ছিল এবং সেটি তাদের নয়।

লস গ্যালার্দোসের ঠিক বাইরে অবস্থিত বেদার নামক একটি ছোট গ্রামের থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্য ও জরুরি বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সাঞ্জ জানান, আগুন অত্যন্ত দ্রুত ও জটিল আকার ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, নিহতদের বেশিরভাগ বা সবাই বিদেশী নাগরিক হতে পারেন।

উদ্ধারকর্মীরা একটি ডান-হ্যান্ড ড্রাইভ কারের ভেতর থেকে চারজনকে আটকে পড়া অবস্থায় মৃত উদ্ধার করেন, যারা ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি আটটি মরদেহ অন্য স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়, যারা দৃশ্যত আগুন থেকে বাঁচার জন্য পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সাঞ্জ একে আন্দালুসিয়ার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিরা উচ্ছেদ বা নিরাপদ বের হওয়ার জন্য নির্ধারিত রুটের পরিবর্তে ভিন্ন পথ ব্যবহারের চেষ্টা করায় বিপদে পড়েন।

দাবানলের কারণে এই অঞ্চল থেকে অন্তত এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্পেনের মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিট ২২০ জন সেনা ও ৭০টি যান মোতায়েন করেছে। এছাড়া সিভিল গার্ডের ১৬০ জন সদস্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও অনুসন্ধানের কাজে অংশ নিচ্ছেন।

হুয়ানমা মোরেনো এই ঘটনাকে একটি বড় ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত এবং আমরা শোকে স্তব্ধ। মৃতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আগুনে গুরুতর দগ্ধ ৪ জনসহ মোট ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

১২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এটি স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে পরিণত হয়েছে। এর আগে ২০০৫ সালে রিবা দে সায়েলিসেস গ্রামে ১১ জন দমকলকর্মী এবং ১৯৭৯ সালে লরেত দে মারের কাছে লোরত দাবানলে ২১ জন মারা গিয়েছিলেন।

ইউরোপীয় জলবায়ু সংস্থা ‘কোপারনিকাসের’ মতে, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ গ্রুপের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র দাবানল ও চরম তাপদাহের এই ভয়াবহ রূপ সরাসরি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।