ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি ভোলেননি তার বন্ধু ও সহযোদ্ধারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: আবারও ফিরে এসেছে বিপ্লবের স্মৃতিময় জুলাই। জুলাই এলেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসজুড়ে ফিরে আসে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি। এই স্মৃতি শুধু শোকের নয়; এটি সাহস, আত্মত্যাগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এক অনন্য প্রতীক।

গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের দুই বছর পার হলেও তাঁকে ভুলতে পারেননি তাঁর বন্ধু, সহপাঠী, সহযোদ্ধা ও শিক্ষকরা। ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া ও দেবদারু সড়ক, ইংরেজি বিভাগের করিডোর, পরিচিত আড্ডার স্থান, মিডিয়া চত্বর, স্বাধীনতা স্মারক এবং আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিটি কোণ আজও যেন তাঁর উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে। সময়ের ব্যবধানে ক্ষত কিছুটা শুকালেও স্মৃতির গভীরতা এতটুকুও কমেনি; বরং প্রতি জুলাইয়ে ফিরে আসে শোক, গর্ব ও আত্মত্যাগের নতুন উপলব্ধি।

বন্ধুদের কাছে আবু সাঈদ ছিলেন সাহস, মানবিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের প্রতীক। তাঁরা জানান, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, মিশুক ও সহানুভূতিশীল। সবার সঙ্গে সহজে মিশে যেতেন এবং বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাঁড়াতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের বিভিন্ন বিষয়েও ছিলেন সচেতন।

বন্ধু শাকিল স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আবু সাঈদ সব সময় বিপদ-আপদে সবার পাশে থাকতেন। কোনো প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। তাঁর বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর সেই দৃশ্য আজও চোখের সামনে ভাসে। ক্যাম্পাসে কোনো সামাজিক বা মানবিক কাজে তিনি ছিলেন অগ্রণী। কেউ রক্তের প্রয়োজন হলে নিজে দিতেন, না হলে ব্যবস্থা করতেন।”

সহযোদ্ধা মো. শামসুর রহমান সুমন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই আবু সাঈদ সামনের সারিতে ছিলেন। সিনিয়র হিসেবে তাঁর দৃঢ় উপস্থিতি জুনিয়রদের সাহস জুগিয়েছিল। আন্দোলনের নানা পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে সাহস দিতেন এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন।

তিনি জানান, ৩ জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হলে আবু সাঈদ নিজেই সামনে এসে দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। আবার ১২ জুলাই হামলার পর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, “কারা আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে মরতে প্রস্তুত আছো? এদিকে আসো। যারা সামনে ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা দেবে।” প্রতিদিনের কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তিনি সবাইকে সাহস দিয়ে বলতেন, “ভয় পেও না, প্রোগ্রাম দাও। আমরা প্রোগ্রাম করব, যা হবে হবে।” তাঁর এই অদম্য সাহস আজও আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহ্সীনা আহ্সান বলেন, টেলিভিশনে পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো তাঁর ছাত্রকে দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। পরে জানতে পারেন, তিনি শহীদ হয়েছেন। তিনি বলেন, “আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও নীরব স্বভাবের শিক্ষার্থী। তাঁর স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়া। মেধাভিত্তিক বৈষম্যের প্রতিবাদেই তিনি আন্দোলনে যুক্ত হন এবং জীবন উৎসর্গ করেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “আবু সাঈদকে দেশের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁর হত্যার মতো ঘটনা আর যেন না ঘটে, সে জন্য আমরা কাজ করছি।” তিনি জানান, আবু সাঈদের নামে আবাসিক হল, স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর, তোরণ ও ‘আবু সাঈদ গেট’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে দ্রুত স্থায়ী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁদের ভাষায়, “আবু সাঈদ শুধু আমাদের স্মৃতিতে নয়, আমাদের চেতনায়ও চিরজাগরুক হয়ে আছেন।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি ভোলেননি তার বন্ধু ও সহযোদ্ধারা

আপডেট সময় : ০৩:১৮:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: আবারও ফিরে এসেছে বিপ্লবের স্মৃতিময় জুলাই। জুলাই এলেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসজুড়ে ফিরে আসে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি। এই স্মৃতি শুধু শোকের নয়; এটি সাহস, আত্মত্যাগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এক অনন্য প্রতীক।

গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের দুই বছর পার হলেও তাঁকে ভুলতে পারেননি তাঁর বন্ধু, সহপাঠী, সহযোদ্ধা ও শিক্ষকরা। ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া ও দেবদারু সড়ক, ইংরেজি বিভাগের করিডোর, পরিচিত আড্ডার স্থান, মিডিয়া চত্বর, স্বাধীনতা স্মারক এবং আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিটি কোণ আজও যেন তাঁর উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে। সময়ের ব্যবধানে ক্ষত কিছুটা শুকালেও স্মৃতির গভীরতা এতটুকুও কমেনি; বরং প্রতি জুলাইয়ে ফিরে আসে শোক, গর্ব ও আত্মত্যাগের নতুন উপলব্ধি।

বন্ধুদের কাছে আবু সাঈদ ছিলেন সাহস, মানবিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের প্রতীক। তাঁরা জানান, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, মিশুক ও সহানুভূতিশীল। সবার সঙ্গে সহজে মিশে যেতেন এবং বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাঁড়াতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের বিভিন্ন বিষয়েও ছিলেন সচেতন।

বন্ধু শাকিল স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আবু সাঈদ সব সময় বিপদ-আপদে সবার পাশে থাকতেন। কোনো প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। তাঁর বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর সেই দৃশ্য আজও চোখের সামনে ভাসে। ক্যাম্পাসে কোনো সামাজিক বা মানবিক কাজে তিনি ছিলেন অগ্রণী। কেউ রক্তের প্রয়োজন হলে নিজে দিতেন, না হলে ব্যবস্থা করতেন।”

সহযোদ্ধা মো. শামসুর রহমান সুমন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই আবু সাঈদ সামনের সারিতে ছিলেন। সিনিয়র হিসেবে তাঁর দৃঢ় উপস্থিতি জুনিয়রদের সাহস জুগিয়েছিল। আন্দোলনের নানা পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে সাহস দিতেন এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন।

তিনি জানান, ৩ জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হলে আবু সাঈদ নিজেই সামনে এসে দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। আবার ১২ জুলাই হামলার পর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, “কারা আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে মরতে প্রস্তুত আছো? এদিকে আসো। যারা সামনে ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা দেবে।” প্রতিদিনের কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তিনি সবাইকে সাহস দিয়ে বলতেন, “ভয় পেও না, প্রোগ্রাম দাও। আমরা প্রোগ্রাম করব, যা হবে হবে।” তাঁর এই অদম্য সাহস আজও আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহ্সীনা আহ্সান বলেন, টেলিভিশনে পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো তাঁর ছাত্রকে দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। পরে জানতে পারেন, তিনি শহীদ হয়েছেন। তিনি বলেন, “আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও নীরব স্বভাবের শিক্ষার্থী। তাঁর স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়া। মেধাভিত্তিক বৈষম্যের প্রতিবাদেই তিনি আন্দোলনে যুক্ত হন এবং জীবন উৎসর্গ করেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “আবু সাঈদকে দেশের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁর হত্যার মতো ঘটনা আর যেন না ঘটে, সে জন্য আমরা কাজ করছি।” তিনি জানান, আবু সাঈদের নামে আবাসিক হল, স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর, তোরণ ও ‘আবু সাঈদ গেট’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে দ্রুত স্থায়ী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁদের ভাষায়, “আবু সাঈদ শুধু আমাদের স্মৃতিতে নয়, আমাদের চেতনায়ও চিরজাগরুক হয়ে আছেন।”