ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক: শেষ বাঁশি বাজতেই মনে হলো যেন এক বিশাল সাম্রাজ্যের প্রাসাদের শেষ ইটটাও খসে পড়েছে। নিউ জার্সির গ্যালারিতে হাজারো হলুদ জার্সি তখন আর ফুটবল দেখছিল না, তারা দেখছিল এক স্বপ্নের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। কেউ দুই হাতে মুখ ঢেকেছেন, কেউ চোখের জল লুকাতে ব্যর্থ। শূন্য দৃস্টিতে মাঠের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ব্রাজিলের সমর্থকরা। কষ্টের কান্নায় তাদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ। মাঠের মাঝখানে ব্রাজিলের ফুটবলাররা স্থির দাঁড়িয়ে, আর দূরে লাল জার্সিতে উল্লাসে মেতে উঠেছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের আগে যাদের নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না, সেই নরওয়েই বিশ্ব ফুটবলের নতুন শক্তি হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর হেক্সার স্বপ্ন? সেটি ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে রইল আর্লিং হালান্ডের মাথা আর বাঁ পায়ের নিচে।

ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ শেষ এই ২-১ গোলের হারে। ৭৯ মিনিটে হালান্ডের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় নরওয়ে। এরপর বাঁ পায়ের দুর্বার এক ভলিতে দ্বিতীয়বার আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ততক্ষণে গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হয়ে গেছে। ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে যে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ব্রাজিল, এবারও সেই গল্পই পুনরাবৃত্তি হলো।

ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কথা ছিল, এবার লেখা হবে নতুন গল্প। যে গল্পে থাকবে নরওয়েকে প্রথমবার হারানোর ইতিহাস। কারণ এর আগে দুই দলের দেখায় ব্রাজিল কখনোই জিততে পারেনি। কিন্তু ইতিহাসের বইয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করার বদলে পুরোনো অভিশাপকেই আরও গাঢ় করল সেলেসাওরা। নরওয়ে আবারও অজেয় রইল তাদের কাছে, আর বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
ব্রাজিলের পতনের বীজ অবশ্য বোনা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। প্রথমার্ধেই তারা ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত। ১৪ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েস পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। ওরিয়ান নিল্যান্ডের দুর্দান্ত সেভে বেঁচে যায় নরওয়ে। এরপর ভিনিসিয়ুস, মার্তিনেলি- একজনের পর একজন সুযোগ নষ্ট করেছেন। বিরতির আগেই অন্তত দুই গোলের ব্যবধান গড়ে নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেও গোলশূন্য থেকে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে ভুলগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ দুটি পাস থেকে একা গোলরক্ষকের সামনে গিয়েও এনদ্রিক গোল করতে পারেননি। প্রথমবার দুর্বল শটে, দ্বিতীয়বার ভারী টাচে নষ্ট করেন নিশ্চিত সুযোগ। বড় ম্যাচে এমন ভুলের মূল্য যে কতটা নির্মম হতে পারে, সেটাই পরে বুঝেছে ব্রাজিল।

কেবল ফিনিশিং নয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানোও ডুবিয়েছে সেলেসাওদের। বল দখলে এগিয়ে থেকেও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তারা। ভুল পাস, ধীর বিল্ড-আপ আর রক্ষণে ট্রানজিশনের সময় বারবার ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নিয়েছে নরওয়ে। গ্যাব্রিয়েলদের পেছনে তৈরি হওয়া সেই শূন্যস্থানেই বারবার ছুটে এসেছেন হালান্ড, নুসা ও সোরলোথ। নরওয়ের পরিকল্পনা ছিল সহজ—বল জিতো, দ্রুত সামনে যাও, আর গতির লড়াইয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে দাও। সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে তারা।

IMG_20260706_045358_(1280_x_720_pixel)

যাকে নিয়ে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠলেন সবচেয়ে বড় পার্থক্য। প্রথমার্ধে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকা হালান্ড ধৈর্য হারাননি। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে গ্যাব্রিয়েলকে হারিয়ে হেডে প্রথম গোল করেন। ঠিক ১১ মিনিট পর সেই আন্দ্রেয়াস শেষদেরুপের আরেকটি নিখুঁত পাসে বাঁ পায়ের ভলিতে দ্বিতীয় গোল করে হালান্ড জানিয়ে দিলেন কেন তিনি বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার। সেই এক ভলিতেই ভেঙে পড়ে ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন।

এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাত। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন সমানতালে আছেন মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে। তিনজনের ঝুলিতেই এখন সাতটি করে গোল। তবে এই রাত শুধু তার ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয়, এটি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসেরও এক নতুন অধ্যায়।

IMG_20260706_045312_(1280_x_720_pixel)

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচনার টেবিলে ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ড। নরওয়ের নাম সেখানে খুব কমই উচ্চারিত হয়েছে। অথচ মাঠের ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিল, নাম নয়, ম্যাচ জেতে ইতিহাস লেখা হয়। শৃঙ্খলা, গতি আর বিশ্বাস—এই তিন অস্ত্র নিয়ে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।

ব্রাজিলের জন্য এই বিদায় শুধু আরেকটি পরাজয় নয়। এটি ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে জমে থাকা অপূর্ণতার আরেকটি দীর্ঘশ্বাস। প্রতিভা ছিল, সুযোগ ছিল, তারকার অভাব ছিল না—অভাব ছিল নিষ্ঠুর মুহূর্তে নিষ্ঠুর হয়ে ওঠার। ফুটবল বারবার একই শিক্ষা দেয়—ইতিহাসের ভার কাঁধে নিয়ে মাঠে নামা যায়, কিন্তু নতুন ইতিহাস লিখতে হলে সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করতেই হয়। ব্রাজিল সেই পরীক্ষায় আবারও ব্যর্থ হলো।

আর ভাইকিং রুর বুক কাঁপানো শ্লোগান দেওয়া নরওয়ে লিখে ফেলল এমন এক গল্প, যা বিশ্ব ফুটবল বহুদিন মনে রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়

আপডেট সময় : ০৩:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক: শেষ বাঁশি বাজতেই মনে হলো যেন এক বিশাল সাম্রাজ্যের প্রাসাদের শেষ ইটটাও খসে পড়েছে। নিউ জার্সির গ্যালারিতে হাজারো হলুদ জার্সি তখন আর ফুটবল দেখছিল না, তারা দেখছিল এক স্বপ্নের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। কেউ দুই হাতে মুখ ঢেকেছেন, কেউ চোখের জল লুকাতে ব্যর্থ। শূন্য দৃস্টিতে মাঠের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ব্রাজিলের সমর্থকরা। কষ্টের কান্নায় তাদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ। মাঠের মাঝখানে ব্রাজিলের ফুটবলাররা স্থির দাঁড়িয়ে, আর দূরে লাল জার্সিতে উল্লাসে মেতে উঠেছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের আগে যাদের নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না, সেই নরওয়েই বিশ্ব ফুটবলের নতুন শক্তি হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর হেক্সার স্বপ্ন? সেটি ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে রইল আর্লিং হালান্ডের মাথা আর বাঁ পায়ের নিচে।

ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ শেষ এই ২-১ গোলের হারে। ৭৯ মিনিটে হালান্ডের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় নরওয়ে। এরপর বাঁ পায়ের দুর্বার এক ভলিতে দ্বিতীয়বার আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ততক্ষণে গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হয়ে গেছে। ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে যে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ব্রাজিল, এবারও সেই গল্পই পুনরাবৃত্তি হলো।

ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কথা ছিল, এবার লেখা হবে নতুন গল্প। যে গল্পে থাকবে নরওয়েকে প্রথমবার হারানোর ইতিহাস। কারণ এর আগে দুই দলের দেখায় ব্রাজিল কখনোই জিততে পারেনি। কিন্তু ইতিহাসের বইয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করার বদলে পুরোনো অভিশাপকেই আরও গাঢ় করল সেলেসাওরা। নরওয়ে আবারও অজেয় রইল তাদের কাছে, আর বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
ব্রাজিলের পতনের বীজ অবশ্য বোনা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। প্রথমার্ধেই তারা ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত। ১৪ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েস পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। ওরিয়ান নিল্যান্ডের দুর্দান্ত সেভে বেঁচে যায় নরওয়ে। এরপর ভিনিসিয়ুস, মার্তিনেলি- একজনের পর একজন সুযোগ নষ্ট করেছেন। বিরতির আগেই অন্তত দুই গোলের ব্যবধান গড়ে নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেও গোলশূন্য থেকে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে ভুলগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ দুটি পাস থেকে একা গোলরক্ষকের সামনে গিয়েও এনদ্রিক গোল করতে পারেননি। প্রথমবার দুর্বল শটে, দ্বিতীয়বার ভারী টাচে নষ্ট করেন নিশ্চিত সুযোগ। বড় ম্যাচে এমন ভুলের মূল্য যে কতটা নির্মম হতে পারে, সেটাই পরে বুঝেছে ব্রাজিল।

কেবল ফিনিশিং নয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানোও ডুবিয়েছে সেলেসাওদের। বল দখলে এগিয়ে থেকেও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তারা। ভুল পাস, ধীর বিল্ড-আপ আর রক্ষণে ট্রানজিশনের সময় বারবার ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নিয়েছে নরওয়ে। গ্যাব্রিয়েলদের পেছনে তৈরি হওয়া সেই শূন্যস্থানেই বারবার ছুটে এসেছেন হালান্ড, নুসা ও সোরলোথ। নরওয়ের পরিকল্পনা ছিল সহজ—বল জিতো, দ্রুত সামনে যাও, আর গতির লড়াইয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে দাও। সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে তারা।

IMG_20260706_045358_(1280_x_720_pixel)

যাকে নিয়ে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠলেন সবচেয়ে বড় পার্থক্য। প্রথমার্ধে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকা হালান্ড ধৈর্য হারাননি। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে গ্যাব্রিয়েলকে হারিয়ে হেডে প্রথম গোল করেন। ঠিক ১১ মিনিট পর সেই আন্দ্রেয়াস শেষদেরুপের আরেকটি নিখুঁত পাসে বাঁ পায়ের ভলিতে দ্বিতীয় গোল করে হালান্ড জানিয়ে দিলেন কেন তিনি বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার। সেই এক ভলিতেই ভেঙে পড়ে ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন।

এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাত। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন সমানতালে আছেন মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে। তিনজনের ঝুলিতেই এখন সাতটি করে গোল। তবে এই রাত শুধু তার ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয়, এটি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসেরও এক নতুন অধ্যায়।

IMG_20260706_045312_(1280_x_720_pixel)

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচনার টেবিলে ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ড। নরওয়ের নাম সেখানে খুব কমই উচ্চারিত হয়েছে। অথচ মাঠের ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিল, নাম নয়, ম্যাচ জেতে ইতিহাস লেখা হয়। শৃঙ্খলা, গতি আর বিশ্বাস—এই তিন অস্ত্র নিয়ে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।

ব্রাজিলের জন্য এই বিদায় শুধু আরেকটি পরাজয় নয়। এটি ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে জমে থাকা অপূর্ণতার আরেকটি দীর্ঘশ্বাস। প্রতিভা ছিল, সুযোগ ছিল, তারকার অভাব ছিল না—অভাব ছিল নিষ্ঠুর মুহূর্তে নিষ্ঠুর হয়ে ওঠার। ফুটবল বারবার একই শিক্ষা দেয়—ইতিহাসের ভার কাঁধে নিয়ে মাঠে নামা যায়, কিন্তু নতুন ইতিহাস লিখতে হলে সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করতেই হয়। ব্রাজিল সেই পরীক্ষায় আবারও ব্যর্থ হলো।

আর ভাইকিং রুর বুক কাঁপানো শ্লোগান দেওয়া নরওয়ে লিখে ফেলল এমন এক গল্প, যা বিশ্ব ফুটবল বহুদিন মনে রাখবে।