ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

ফল প্রকাশের পরও হলে থাকছেন রাবি ছাত্রদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: ফল প্রকাশের দুই মাস পেরোলেও হলে থাকার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী হলের ১৭৪ নম্বর কক্ষে এককভাবে (সিঙ্গেল রুমে) অবস্থান করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের ফলাফল শাখার তথ্য অনুযায়ী, আরিফুল ইসলামের স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় গত ৫ মে। ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যেই হল ত্যাগ করার কথা থাকলেও তিনি হলের নিজ কক্ষে অবস্থান করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার বিধান রয়েছে। তবে বিশেষ প্রশাসনিক অনুমতি বা যৌক্তিক কারণ থাকলে সাময়িকভাবে হলে থাকার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে কোন যৌক্তিক কারণে তিনি হলে অবস্থান করছেন তা ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ফল প্রকাশিত হয়েছে এটা ঠিক। তবে বর্তমানে একটি বিশেষ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের কারণে হলে অবস্থান করছি। আমাদের একটি থিসিস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি একটি ‘হিট প্রজেক্ট’-এর আওতায় পিএইচডি পরীক্ষাসহ ভাইভা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এ কার্যক্রমে অংশ নিতে এসিই-এর মাধ্যমে ভর্তি হতে হয়। ভর্তি সম্পন্ন হলে ডরমিটরি বা নির্ধারিত স্থানে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি চেয়ে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আমাকে এক মাসের জন্য হলে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। সেই অনুমতির ভিত্তিতেই বর্তমানে হলে অবস্থান করছি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীর অনার্স ও মাস্টার্সের ফল প্রকাশের পর হলে অবস্থান করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে হল প্রশাসনের এখতিয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দলীয় পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে কারও হলে থাকার সুযোগ নেই এবং ছাত্রদলও এ ধরনের কোনো সুযোগ-সুবিধাকে সমর্থন করে না।”

এ বিষয়ে সোহ্‌রাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন,
“বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হলের রেজিস্টারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো আমাকে এ বিষয়ে জানায়নি। আরিফুল গত মাসে জুলাই পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছিলেন। আবেদনপত্রে আমি স্বাক্ষর করিনি, তবে সাময়িকভাবে মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, “সাধারণত নতুন শিক্ষার্থীদের হল বরাদ্দ হয়ে গেলে বা সংশ্লিষ্ট কক্ষ অন্য কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হলে তিনি আর হলে থাকতে পারবেন না। তবে গবেষণা, পিএইচডি-সংক্রান্ত কার্যক্রম বা বিশেষ বিবেচনার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত ১০ থেকে ২০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে হলে থাকার অনুমতি দিয়ে থাকি। দীর্ঘদিন হলে অবস্থান করার কোনো বিধান নেই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফল প্রকাশের পরও হলে থাকছেন রাবি ছাত্রদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক

আপডেট সময় : ০১:২২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: ফল প্রকাশের দুই মাস পেরোলেও হলে থাকার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী হলের ১৭৪ নম্বর কক্ষে এককভাবে (সিঙ্গেল রুমে) অবস্থান করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের ফলাফল শাখার তথ্য অনুযায়ী, আরিফুল ইসলামের স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় গত ৫ মে। ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যেই হল ত্যাগ করার কথা থাকলেও তিনি হলের নিজ কক্ষে অবস্থান করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার বিধান রয়েছে। তবে বিশেষ প্রশাসনিক অনুমতি বা যৌক্তিক কারণ থাকলে সাময়িকভাবে হলে থাকার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে কোন যৌক্তিক কারণে তিনি হলে অবস্থান করছেন তা ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ফল প্রকাশিত হয়েছে এটা ঠিক। তবে বর্তমানে একটি বিশেষ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের কারণে হলে অবস্থান করছি। আমাদের একটি থিসিস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি একটি ‘হিট প্রজেক্ট’-এর আওতায় পিএইচডি পরীক্ষাসহ ভাইভা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এ কার্যক্রমে অংশ নিতে এসিই-এর মাধ্যমে ভর্তি হতে হয়। ভর্তি সম্পন্ন হলে ডরমিটরি বা নির্ধারিত স্থানে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি চেয়ে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আমাকে এক মাসের জন্য হলে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। সেই অনুমতির ভিত্তিতেই বর্তমানে হলে অবস্থান করছি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীর অনার্স ও মাস্টার্সের ফল প্রকাশের পর হলে অবস্থান করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে হল প্রশাসনের এখতিয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দলীয় পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে কারও হলে থাকার সুযোগ নেই এবং ছাত্রদলও এ ধরনের কোনো সুযোগ-সুবিধাকে সমর্থন করে না।”

এ বিষয়ে সোহ্‌রাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন,
“বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হলের রেজিস্টারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো আমাকে এ বিষয়ে জানায়নি। আরিফুল গত মাসে জুলাই পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছিলেন। আবেদনপত্রে আমি স্বাক্ষর করিনি, তবে সাময়িকভাবে মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, “সাধারণত নতুন শিক্ষার্থীদের হল বরাদ্দ হয়ে গেলে বা সংশ্লিষ্ট কক্ষ অন্য কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হলে তিনি আর হলে থাকতে পারবেন না। তবে গবেষণা, পিএইচডি-সংক্রান্ত কার্যক্রম বা বিশেষ বিবেচনার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত ১০ থেকে ২০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে হলে থাকার অনুমতি দিয়ে থাকি। দীর্ঘদিন হলে অবস্থান করার কোনো বিধান নেই।”