ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

আজ সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, জুনে প্রতি লিটার প্রতি লিটার ডিজেলের কস্টিং ১৭৫ টাকা ২২ পয়সা ও অকটেনের কস্টিং ১৬০ টাকা ৭০ পয়সা হলেও সরকার জনস্বার্থে ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। তবে অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো ব্রেক-ইভেনের ওপরে রয়েছে। ফলে ডিজেলে, অকটেন ও পেট্রল বিক্রিতে বিপিসিকে এখনো দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের এলসি পেমেন্ট অনুযায়ী বিপিসির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সকল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অবসরে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নবায়নযোগ্য উৎসের প্রসারে ব্যাপক কার্যক্রম নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আটটি গ্রাহক শ্রেণিতে সংযোগকৃত গ্রাহকের অনুমোদিত গ্যাস লোড অনুযায়ী দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (এপ্রিল পর্যন্ত) গড় গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা মে মাস পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। দেশের চাহিদা পূরণের চালুকৃত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সারা দেশে বিদ্যুৎ সেবা আরও উন্নত, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। নির্বাচনের ইশতেহারে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের যথাযথ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংরক্ষিত আসন-৩৫ এর সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ৫টি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, দিঘিপাড়া, খালাসীপাড়া ও জামালগঞ্জ। এর মধ্যে শুধুমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লাক্ষেত্র থেকে ২০০৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। বাকি ৪টির মধ্যে ফুলবাড়ী ও দিঘিপাড়া কয়লাক্ষেত্রের সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুটির আংশিক সমীক্ষা হয়েছে।

কুমিল্লা-৬ আসনের সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিপিসি ও অধীনস্থ বিপণন কোম্পানিগুলোর মে মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৯টি অডিট আপত্তি রয়েছে। যার টাকার পরিমাণ ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও অডিট অধিদপ্তর ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিপিসির অডিট আপত্তিগুলোর হালনাগাদ তথ্য পাঠাতে অসুবিধা হচ্ছে। বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর হলে অডিট বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে, যা সংস্থা ও অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানসমূহের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আজ সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, জুনে প্রতি লিটার প্রতি লিটার ডিজেলের কস্টিং ১৭৫ টাকা ২২ পয়সা ও অকটেনের কস্টিং ১৬০ টাকা ৭০ পয়সা হলেও সরকার জনস্বার্থে ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। তবে অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো ব্রেক-ইভেনের ওপরে রয়েছে। ফলে ডিজেলে, অকটেন ও পেট্রল বিক্রিতে বিপিসিকে এখনো দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের এলসি পেমেন্ট অনুযায়ী বিপিসির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সকল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অবসরে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নবায়নযোগ্য উৎসের প্রসারে ব্যাপক কার্যক্রম নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আটটি গ্রাহক শ্রেণিতে সংযোগকৃত গ্রাহকের অনুমোদিত গ্যাস লোড অনুযায়ী দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (এপ্রিল পর্যন্ত) গড় গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা মে মাস পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। দেশের চাহিদা পূরণের চালুকৃত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সারা দেশে বিদ্যুৎ সেবা আরও উন্নত, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। নির্বাচনের ইশতেহারে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের যথাযথ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংরক্ষিত আসন-৩৫ এর সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ৫টি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, দিঘিপাড়া, খালাসীপাড়া ও জামালগঞ্জ। এর মধ্যে শুধুমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লাক্ষেত্র থেকে ২০০৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। বাকি ৪টির মধ্যে ফুলবাড়ী ও দিঘিপাড়া কয়লাক্ষেত্রের সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুটির আংশিক সমীক্ষা হয়েছে।

কুমিল্লা-৬ আসনের সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিপিসি ও অধীনস্থ বিপণন কোম্পানিগুলোর মে মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৯টি অডিট আপত্তি রয়েছে। যার টাকার পরিমাণ ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও অডিট অধিদপ্তর ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিপিসির অডিট আপত্তিগুলোর হালনাগাদ তথ্য পাঠাতে অসুবিধা হচ্ছে। বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর হলে অডিট বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে, যা সংস্থা ও অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানসমূহের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।