ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আকাশি-সাদা যেভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি হলো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক: দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই শতাব্দীর সেরা একক দৌড়ের জাদুকরী গোলটির কথা মনে করলেই চোখে ভেসে ওঠে আর্জেন্টিনার এক টুকরো গাঢ় নীল জার্সি। অথচ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক এই জার্সির পেছনে লুকিয়ে আছে মেক্সিকো সিটির এক সাধারণ দোকান আর শেষ মুহূর্তের তুমুল এক নাটকীয়তার গল্প।

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের চিরচেনা রূপ মানেই আকাশের নীল আর মেঘের সাদার মেলবন্ধন-সেই ঐতিহ্যবাহী ‘আকাশি-সাদা’ ডোরাকাটা জার্সি। ১৯৩০ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, ফুটবলার থেকে সমর্থক সবার বুকেই এই দুই রঙের আবেগ অন্যরকম।

এমনকি আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপেও ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের শিরোপাজয়ী জার্সির ছোঁয়া রেখে তৈরি করা হয়েছে তাদের নতুন জার্সি। তবে এই চিরচেনা আকাশি-সাদার আড়ালে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ঘটেছিল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।

সেবার মেক্সিকোর তীব্র গরম আর ভ্যাপসা আর্দ্রতায় নাভিশ্বাস উঠছিল ফুটবলারদের। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। নিয়ম অনুযায়ী আর্জেন্টিনাকে নামতে হবে তাদের গাঢ় নীল রঙের বিকল্প (অ্যাওয়ে) জার্সি পরে।

কিন্তু কটন কাপড়ের সেই ভারী জার্সি পরে এই গরমে ৯০ মিনিট দৌড়ানো ছিল অসম্ভব। বিপদে পড়ে কোচ কার্লোস বিলার্দো সহকারী রুবেন মোশেল্লাকে পাঠালেন মেক্সিকো সিটির স্থানীয় কাপড়ের দোকানে- যদি কোনো পাতলা, আরামদায়ক নীল জার্সি খুঁজে পাওয়া যায়!

মোশেল্লা দোকান ঘুরে সাধারণ মানের দুটি নীল জার্সি নিয়ে এলেন। সেখান থেকে একটি হাতে নিয়ে অধিনায়ক ম্যারাডোনা ঘোষণা করলেন, ‘এটা গায়ে জড়িয়েই আমরা ইংল্যান্ডকে হারাব।’

আকাশি-সাদা যেভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি হলো

ব্যস, শুরু হলো তুমুল ব্যস্ততা। সেই দোকান থেকেই তড়িঘড়ি করে কিনে আনা হলো আরও ৩৮টি সাধারণ জার্সি। খেলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে স্থানীয় দর্জিদের দিয়ে জার্সিতে সেলাই করে বসানো হলো আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) ব্যাজ।

ফুটবল বিশ্ব দেখেছিল, কোনো নামী ব্র্যান্ডের ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা নিখুঁত ডিজাইনের জার্সি পরে নয়, বরং মেক্সিকোর গলি থেকে কুড়িয়ে আনা সাধারণ, পাতলা সুতোর এক জার্সি গায়ে জড়িয়েই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত রূপকথা লিখেছিলেন ম্যারাডোনা।

আজও যখন আকাশি-সাদা জার্সি নিয়ে কথা হয়, তখন পর্দার আড়াল থেকে মুচকি হাসে মেক্সিকো সিটির সাধারণ এক দোকান থেকে কেনা সেই নীল রঙের জার্সিটি। যা প্রমাণ করেছিল, ইতিহাস গড়ার জন্য ব্র্যান্ডের চকচকে কাপড়ের চেয়ে বুকের ভেতরের জেদটাই বেশি জরুরি!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আকাশি-সাদা যেভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি হলো

আপডেট সময় : ১০:৫৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক: দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই শতাব্দীর সেরা একক দৌড়ের জাদুকরী গোলটির কথা মনে করলেই চোখে ভেসে ওঠে আর্জেন্টিনার এক টুকরো গাঢ় নীল জার্সি। অথচ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক এই জার্সির পেছনে লুকিয়ে আছে মেক্সিকো সিটির এক সাধারণ দোকান আর শেষ মুহূর্তের তুমুল এক নাটকীয়তার গল্প।

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের চিরচেনা রূপ মানেই আকাশের নীল আর মেঘের সাদার মেলবন্ধন-সেই ঐতিহ্যবাহী ‘আকাশি-সাদা’ ডোরাকাটা জার্সি। ১৯৩০ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, ফুটবলার থেকে সমর্থক সবার বুকেই এই দুই রঙের আবেগ অন্যরকম।

এমনকি আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপেও ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের শিরোপাজয়ী জার্সির ছোঁয়া রেখে তৈরি করা হয়েছে তাদের নতুন জার্সি। তবে এই চিরচেনা আকাশি-সাদার আড়ালে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ঘটেছিল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।

সেবার মেক্সিকোর তীব্র গরম আর ভ্যাপসা আর্দ্রতায় নাভিশ্বাস উঠছিল ফুটবলারদের। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। নিয়ম অনুযায়ী আর্জেন্টিনাকে নামতে হবে তাদের গাঢ় নীল রঙের বিকল্প (অ্যাওয়ে) জার্সি পরে।

কিন্তু কটন কাপড়ের সেই ভারী জার্সি পরে এই গরমে ৯০ মিনিট দৌড়ানো ছিল অসম্ভব। বিপদে পড়ে কোচ কার্লোস বিলার্দো সহকারী রুবেন মোশেল্লাকে পাঠালেন মেক্সিকো সিটির স্থানীয় কাপড়ের দোকানে- যদি কোনো পাতলা, আরামদায়ক নীল জার্সি খুঁজে পাওয়া যায়!

মোশেল্লা দোকান ঘুরে সাধারণ মানের দুটি নীল জার্সি নিয়ে এলেন। সেখান থেকে একটি হাতে নিয়ে অধিনায়ক ম্যারাডোনা ঘোষণা করলেন, ‘এটা গায়ে জড়িয়েই আমরা ইংল্যান্ডকে হারাব।’

আকাশি-সাদা যেভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি হলো

ব্যস, শুরু হলো তুমুল ব্যস্ততা। সেই দোকান থেকেই তড়িঘড়ি করে কিনে আনা হলো আরও ৩৮টি সাধারণ জার্সি। খেলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে স্থানীয় দর্জিদের দিয়ে জার্সিতে সেলাই করে বসানো হলো আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) ব্যাজ।

ফুটবল বিশ্ব দেখেছিল, কোনো নামী ব্র্যান্ডের ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা নিখুঁত ডিজাইনের জার্সি পরে নয়, বরং মেক্সিকোর গলি থেকে কুড়িয়ে আনা সাধারণ, পাতলা সুতোর এক জার্সি গায়ে জড়িয়েই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত রূপকথা লিখেছিলেন ম্যারাডোনা।

আজও যখন আকাশি-সাদা জার্সি নিয়ে কথা হয়, তখন পর্দার আড়াল থেকে মুচকি হাসে মেক্সিকো সিটির সাধারণ এক দোকান থেকে কেনা সেই নীল রঙের জার্সিটি। যা প্রমাণ করেছিল, ইতিহাস গড়ার জন্য ব্র্যান্ডের চকচকে কাপড়ের চেয়ে বুকের ভেতরের জেদটাই বেশি জরুরি!