ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

কুরাসাওকে হারিয়ে ‘৭-১’ গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক: কুরাসাও যখন স্কোর সমতা আনলো, তখনই নড়েচড়ে বসলেন দর্শকরা। তবে কি আরেকটা অঘটন? কিন্তু এরপর যা হলো, সেটাই বরং স্বাভাবিক ছিল এই ম্যাচে। গতিময় জার্মান মেশিনের সামনে স্রেফ উড়ে গেল নবাগত কুরাসাও। বিশ্বকাপের এই আসরে প্রথম গোল উৎসব দেখাল দর্শকরা। তাতে ৭-১ ব্যবধানে ভেসে গেল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কুরাসাও।

জার্মানির গোলগুলো করেন ফেলিক্স এনমেচা, নিকো শ্লটারবেক, কাই হাভার্টজ, জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিজ উনদাভ। কুরাসাওয়ের একমাত্র গোলদাতা লিয়ান্দ্রো কোমেনেনসিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলা শুরু করে। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের নিখুঁত পাস থেকে ফেলিক্স এনমেচা বক্সের ভেতর বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জাল খুঁজে নেন। শুরুর এই গোলের পরও জার্মানি চাপ বজায় রাখে। জার্মানির একের পর এক আক্রমণের মাঝেই ২০তম মিনিটে চমকে দেয় কুরাসাও। বক্সের বাইরে থেকে লিভানো কোমেনেনসিয়ার শট ডিফ্লেক্ট হয়ে ম্যানুয়েল নয়্যারকে কোনো সুযোগ না দিয়েই জালে জড়িয়ে যায়। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে কুরাসাওয়ের প্রথম গোলদাতা বনে যান কোমেনেনসিয়ার। এই গোলের পর কিছু সময়ের জন্য অস্বস্তিতে পড়লেও দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে নেয় জার্মানি।

সেট-পিসে জার্মানির চাপ অব্যাহত থাকে, বিশেষ করে জোশুয়া কিমিখের কর্নারগুলো কুরাসাওয়ের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩৬ মিনিটে ব্রাউনের কর্নার থেকে নিকো শ্লোটারবেক হেডে জাল খুঁজে নেন। তাতে জার্মানি আবারও লিড ফিরে পায়।

প্রথমার্ধের শেষভাগে ম্যাচ আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। জার্মানি একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। মুসিয়ালা বারবার ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করেন। তাকে সঙ্গ দেন লার্স ব্রাউন ও ফেলিক্স এনমেচা। এর মধ্যেই সানের একটি শট কুরাসাও গোলরক্ষক রুম দুর্দান্তভাবে রুখে দেন। পাভলোভিচের নিশ্চিত গোলমুখী শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে বিরতিতে যাওয়ার চেষ্টা করে কুরাসাও। ঠিক তখনই আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

অতিরিক্ত সময়ে বক্সে এনমেচাকে ফাউল করেন কুরাসাওয়ের বাযোর। রেফারি কোনো দ্বিধা না করে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে কাই হাভার্টজ চিরচেনা স্টাইলে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান বাড়ান। তাতে ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি।

বিরতি থেকে ফিরেই জার্মানি আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জোশুয়া কিমিখ মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত এক থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন জামাল মুসিয়ালার উদ্দেশে। বক্সে ঢুকে মুসিয়ালা নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে হওয়া এই গোলে জার্মানির লিড দাঁড়ায় ৪–১।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে আবারও গোলের দেখা পায় জার্মানি। লার্স ব্রাউন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন। এরপর ৭৬তম মিনিটে ফের আঘাত হানে জার্মানি। জোশুয়া কিমিখের পাস ধরে জাল খুঁজে নেন বদলি স্ট্রাইকার ডেনিজ উনদাভ। গোলমুখে কোনো ভুল না করে উনদাভ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। ৮৭তম মিনিটে ব্যবধান ৭-১ করেন হাভার্টজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুরাসাওকে হারিয়ে ‘৭-১’ গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি

আপডেট সময় : ০৩:৩১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক: কুরাসাও যখন স্কোর সমতা আনলো, তখনই নড়েচড়ে বসলেন দর্শকরা। তবে কি আরেকটা অঘটন? কিন্তু এরপর যা হলো, সেটাই বরং স্বাভাবিক ছিল এই ম্যাচে। গতিময় জার্মান মেশিনের সামনে স্রেফ উড়ে গেল নবাগত কুরাসাও। বিশ্বকাপের এই আসরে প্রথম গোল উৎসব দেখাল দর্শকরা। তাতে ৭-১ ব্যবধানে ভেসে গেল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কুরাসাও।

জার্মানির গোলগুলো করেন ফেলিক্স এনমেচা, নিকো শ্লটারবেক, কাই হাভার্টজ, জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিজ উনদাভ। কুরাসাওয়ের একমাত্র গোলদাতা লিয়ান্দ্রো কোমেনেনসিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলা শুরু করে। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের নিখুঁত পাস থেকে ফেলিক্স এনমেচা বক্সের ভেতর বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জাল খুঁজে নেন। শুরুর এই গোলের পরও জার্মানি চাপ বজায় রাখে। জার্মানির একের পর এক আক্রমণের মাঝেই ২০তম মিনিটে চমকে দেয় কুরাসাও। বক্সের বাইরে থেকে লিভানো কোমেনেনসিয়ার শট ডিফ্লেক্ট হয়ে ম্যানুয়েল নয়্যারকে কোনো সুযোগ না দিয়েই জালে জড়িয়ে যায়। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে কুরাসাওয়ের প্রথম গোলদাতা বনে যান কোমেনেনসিয়ার। এই গোলের পর কিছু সময়ের জন্য অস্বস্তিতে পড়লেও দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে নেয় জার্মানি।

সেট-পিসে জার্মানির চাপ অব্যাহত থাকে, বিশেষ করে জোশুয়া কিমিখের কর্নারগুলো কুরাসাওয়ের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩৬ মিনিটে ব্রাউনের কর্নার থেকে নিকো শ্লোটারবেক হেডে জাল খুঁজে নেন। তাতে জার্মানি আবারও লিড ফিরে পায়।

প্রথমার্ধের শেষভাগে ম্যাচ আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। জার্মানি একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। মুসিয়ালা বারবার ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করেন। তাকে সঙ্গ দেন লার্স ব্রাউন ও ফেলিক্স এনমেচা। এর মধ্যেই সানের একটি শট কুরাসাও গোলরক্ষক রুম দুর্দান্তভাবে রুখে দেন। পাভলোভিচের নিশ্চিত গোলমুখী শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে বিরতিতে যাওয়ার চেষ্টা করে কুরাসাও। ঠিক তখনই আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

অতিরিক্ত সময়ে বক্সে এনমেচাকে ফাউল করেন কুরাসাওয়ের বাযোর। রেফারি কোনো দ্বিধা না করে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে কাই হাভার্টজ চিরচেনা স্টাইলে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান বাড়ান। তাতে ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি।

বিরতি থেকে ফিরেই জার্মানি আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জোশুয়া কিমিখ মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত এক থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন জামাল মুসিয়ালার উদ্দেশে। বক্সে ঢুকে মুসিয়ালা নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে হওয়া এই গোলে জার্মানির লিড দাঁড়ায় ৪–১।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে আবারও গোলের দেখা পায় জার্মানি। লার্স ব্রাউন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন। এরপর ৭৬তম মিনিটে ফের আঘাত হানে জার্মানি। জোশুয়া কিমিখের পাস ধরে জাল খুঁজে নেন বদলি স্ট্রাইকার ডেনিজ উনদাভ। গোলমুখে কোনো ভুল না করে উনদাভ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। ৮৭তম মিনিটে ব্যবধান ৭-১ করেন হাভার্টজ।