ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে কোনো দিন প্রকাশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একেবারে শেষ পর্যায়ের যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই তা যে কোনো দিনপ্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফলাফলে যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসঙ্গতি না থাকে, সে জন্য তা বারবার যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে শিক্ষা পদক, গোল্ডকাপ ফুটবল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ অধিদপ্তরের একাধিক রুটিন কাজের ব্যস্ততার কারণে ফল তৈরিতে কিছুটা সময় লেগেছে। এখন তা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ফল প্রকাশ করা হতে পারে।

তবে শনিবার রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার (সাধারণ প্রশাসন) মো. আব্দুর রেজ্জাক সিদ্দিকী আমার দেশকে বলেন, ফলাফল প্রস্তুত করছে অন্য একটি বিভাগ; তারা প্রস্তুত করে দেওয়ার পর তা প্রকাশে অনুমোদনের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে পেশ করবো। আশা করি অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করতে পারব।

এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এস এম সিরাজুদ্দোহা আমার দেশকে বলেন, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বৃত্তির সংখ্যাও অনেক বেশি হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাই করতে বাড়তি সময় লাগছে। এছাড়া আইনি জটিলতার কারণে এবারের পরীক্ষা কয়েক দফা পিছিয়ে গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইপিইএমআইএস সফটওয়্যারে নির্ভুল ফল আপলোড করার জন্য দিনরাত কাজ করছে।

ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তা জানতে পারবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টাল (আইপিইএমআইএস) ছাড়াও মোবাইল ফোনের খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া সারা দেশে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সূচিতে পরীক্ষা নেয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল।

এবার সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। তবে এবার সরকারি ও বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয়ের জন্য কোটা ভাগ করা হয়েছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বাকি ২০ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা থাকবে সমান (৫০ শতাংশ করে)।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’–এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা করে পাবে। উভয় গ্রেডের শিক্ষার্থীরাই প্রতিবছর এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা পাবে।

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী তিন বছর শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা ভোগ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এই বৃত্তির টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে কোনো দিন প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একেবারে শেষ পর্যায়ের যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই তা যে কোনো দিনপ্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফলাফলে যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসঙ্গতি না থাকে, সে জন্য তা বারবার যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে শিক্ষা পদক, গোল্ডকাপ ফুটবল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ অধিদপ্তরের একাধিক রুটিন কাজের ব্যস্ততার কারণে ফল তৈরিতে কিছুটা সময় লেগেছে। এখন তা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ফল প্রকাশ করা হতে পারে।

তবে শনিবার রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার (সাধারণ প্রশাসন) মো. আব্দুর রেজ্জাক সিদ্দিকী আমার দেশকে বলেন, ফলাফল প্রস্তুত করছে অন্য একটি বিভাগ; তারা প্রস্তুত করে দেওয়ার পর তা প্রকাশে অনুমোদনের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে পেশ করবো। আশা করি অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করতে পারব।

এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এস এম সিরাজুদ্দোহা আমার দেশকে বলেন, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বৃত্তির সংখ্যাও অনেক বেশি হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাই করতে বাড়তি সময় লাগছে। এছাড়া আইনি জটিলতার কারণে এবারের পরীক্ষা কয়েক দফা পিছিয়ে গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইপিইএমআইএস সফটওয়্যারে নির্ভুল ফল আপলোড করার জন্য দিনরাত কাজ করছে।

ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তা জানতে পারবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টাল (আইপিইএমআইএস) ছাড়াও মোবাইল ফোনের খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া সারা দেশে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সূচিতে পরীক্ষা নেয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল।

এবার সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। তবে এবার সরকারি ও বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয়ের জন্য কোটা ভাগ করা হয়েছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বাকি ২০ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা থাকবে সমান (৫০ শতাংশ করে)।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’–এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা করে পাবে। উভয় গ্রেডের শিক্ষার্থীরাই প্রতিবছর এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা পাবে।

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী তিন বছর শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা ভোগ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এই বৃত্তির টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।