জাতীয় কাউন্সিলের আগেই ঢাকা মহানগর কমিটি পুনর্গঠন হচ্ছে
- আপডেট সময় : ০৩:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে বড় ধরনের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাগে বিভক্ত ঢাকা মহানগর ইউনিট (উত্তর ও দক্ষিণ) ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ড তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদেরও সম্পৃক্ত রেখে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরিকল্পনা করছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সরকার ও দল পরিচালনায় পৃথক কাঠামো তৈরির কৌশল থেকেই এই পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে পুরোনো শীর্ষ নেতাদের সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হককে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণে বর্তমান আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু কিংবা সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চিন্তা করছে দলটি।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, প্রায় এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে দলটি। চলতি বছরের সুবিধাজনক সময়ে কাউন্সিল করার লক্ষ্য রয়েছে দলটির। এর আগে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ।
এ বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
উচ্চপর্যায়ের সূত্র আরো জানায়, দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু হতে পারে ঢাকা মহানগর বিএনপি থেকেই। বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিও নতুনভাবে সাজানো হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য মহানগর ও জেলা কমিটিতেও পরিবর্তন আনা হবে।
দক্ষিণে তানভীরের ওপর আস্থা
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। শীর্ষ পদে দলীয় চেয়ারম্যানের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন। রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়ায় তিনি এগিয়ে রয়েছেন।
এছাড়া সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় আছেন যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, আ ন ম সাইফুল ইসলাম, গোলাম মাওলা শাহীন ও খন্দকার এনামুল হক এনামসহ কয়েকজন তরুণ নেতা।
সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম বলেন, দলের কঠিন সময়ে যারা নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, তাদের নেতৃত্বেই নতুন কমিটি হওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, এখন অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন, অথচ দুর্দিনে তাদের মাঠে দেখা যায়নি।
নিউ মার্কেট থানা বিএনপির আহ্বায়ক মতিউর রহমান বলেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে শক্তিশালী মহানগর কমিটি গঠন অত্যন্ত জরুরি। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন না করলে নির্বাচনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান কমিটির নেতাদের পুনরায় বিবেচনার দাবি রাখে।
শাহবাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন মিন্টুও একই সুরে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের নিয়েই মহানগর কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যথায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
উত্তরে আস্থা আমিনুল
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হকের ওপর আস্থা রাখতে চায় দল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার নেতৃত্বে উত্তরা ও মিরপুর এলাকায় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ মিলেছে বলে দলীয় নেতাদের দাবি।
এছাড়া মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও আমিনুল হককে রেখেই নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে সংগঠন অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
ত্যাগীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে বাড্ডা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বাবু আমার দেশকে বলেন, বিএনপির সবচেয়ে কঠিন সময়ে কারা কীভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেনÑএটা বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভালো করেই জানেন। বিশেষ করে বর্তমান কমিটি দলের সবচেয়ে দুর্দিনে যেভাবে হাল ধরেছে, তাদের পুনরায় মূল্যায়ন করা উচিত। কেননা, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হলে ত্যাগীদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে।
আর দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদার আমার দেশকে বলেন, ১৭ বছরের ভোটাধিকার আন্দোলনে ঢাকা মহানগর কমিটির অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বর্তমান কমিটি সর্বকালের সেরা নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের নেতৃত্বে যেমন জুলাই গণঅভ্যুথান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সফল হয়েছে, তেমনি আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের নেতৃত্বে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। কারণ, তারা জানেন কারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। ফলে মহানগর কমিটিতে তাদের নেতৃত্বে থাকা উচিত।
নতুন নেতৃত্ব গঠন ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে ‘ত্যাগী ও পরীক্ষিত’ নেতাদের মূল্যায়নের দাবি উঠেছে। আর ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা বিএনপির আহ্বায়করা মনে করছেন, দলের দুর্দিনে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদেরই নতুন কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
তৃণমূল নেতাদের এসব বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে ‘ত্যাগী ও পরীক্ষিত’ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কেন্দ্রীয় নেতাদের। একইসঙ্গে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলারও দাবি তাদের।




















