ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপি নেতার পাম্পে পুলিশ সদস্যকে পিটুনি আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো নিয়ে হাইকোর্টের রুল বিএনপির মাধবী মার্মার প্রার্থিতা বাতিল চান ছাত্রদল নেত্রী জাতীয় কাউন্সিলের আগেই ঢাকা মহানগর কমিটি পুনর্গঠন হচ্ছে জামায়াত নির্মূল করতে গিয়ে অনেকেই নির্মূল হয়ে গেছে: গোলাম পরওয়ার খাল কেটে কুমির আনবেন না: বিরোধী দলকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন প্রস্তাব—হরমুজ খোলা, পরমাণু আলোচনা পরের ধাপে খুলনা প্রেসক্লাবে দুর্বৃত্তদের হানা, হুমকির প্রতিবাদে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ, অবরোধ শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি ‘জুলাই ঐক্যের’ খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতার জামিন

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন প্রস্তাব—হরমুজ খোলা, পরমাণু আলোচনা পরের ধাপে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৯:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে কূটনীতি স্থবির হয়ে আছে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে কী ধরনের ছাড় দেওয়া হবে—তা নিয়ে ইরানের নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে বিভক্ত বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের এই প্রস্তাবটি সেই বিতর্কিত ইস্যুটিকে এড়িয়ে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ তৈরি করবে। তবে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধ করা হলে ভবিষ্যতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা এবং তেহরানকে সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে লিভারেজ বা বাড়তি সুবিধা রয়েছে, তা নষ্ট হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, এই দুটিই ছিল ট্রাম্পের যুদ্ধের প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম।

তিন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, আজ সোমবার ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি দলের সঙ্গে ইরান বিষয়ে সিচুয়েশন রুমে একটি বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের দল আলোচনার স্থবিরতা এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করবে। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখতে চান—যা ইরানের তেল রপ্তানির শ্বাস রোধ করেছে। তিনি আশা করছেন, এর ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেহরান নতি স্বীকার করবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘যখন আপনার সিস্টেমের মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল প্রবাহিত হতে থাকে…এবং কোনো কারণে যদি সেই লাইনটি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, আপনি এটি কনটেইনার বা জাহাজে ভরতে পারছেন না…তখন যা ঘটে তা হলো লাইনটি ভেতর থেকে বিস্ফোরিত হয়। তারা বলছে এটি হওয়ার আগে তাদের হাতে মাত্র তিন দিন সময় আছে।’

গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পাকিস্তান সফর কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছিল, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে আরাঘচির সঙ্গে দেখা করবেন, কিন্তু ইরানিরা সে বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ইরানিদের এই অবস্থানের কারণেই তিনি সেই সফর বাতিল করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইটে তাদের পাঠানোর কোনো মানে আমি দেখি না। এটি অনেক দীর্ঘ সময়। আমরা ফোনের মাধ্যমেই ঠিকঠাক কাজ করতে পারি। ইরানিরা চাইলে আমাদের কল করতে পারে। আমরা শুধু সেখানে বসে থাকার জন্য ভ্রমণ করব না।’

রোববার আরাঘচি মাস্কাটে ওমানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালি ছিল মূল আলোচনার বিষয়। এরপর তিনি দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য পুনরায় ইসলামাবাদে যান। সোমবার আরাঘচির মস্কো সফরের এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা।

সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র জানিয়েছে, আরাঘচি তাঁর ইসলামাবাদ বৈঠকের সময় পারমাণবিক ইস্যুকে এড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাটি উত্থাপন করেন। একটি সূত্র জানায়, আরাঘচি গত সপ্তাহে পাকিস্তানি, মিসরীয়, তুর্কি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে এটি স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন দাবিগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—সে বিষয়ে ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে কোনো ঐকমত্য নেই। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান অন্তত এক দশকের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করুক এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে ফেলুক।

পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো নতুন প্রস্তাবটিতে প্রথমে প্রণালিসংকট সমাধান এবং মার্কিন অবরোধ নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ানো হবে অথবা পক্ষগুলো স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রণালি খুলে দেওয়া এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার পরই কেবল পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে। হোয়াইট হাউস প্রস্তাবটি পেয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এটি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক কি না তা স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আলোচনা করবে না। প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এবং আমরা কেবল এমন একটি চুক্তি করব যা আমেরিকানদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে; ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন প্রস্তাব—হরমুজ খোলা, পরমাণু আলোচনা পরের ধাপে

আপডেট সময় : ০৩:২৯:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমানে কূটনীতি স্থবির হয়ে আছে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে কী ধরনের ছাড় দেওয়া হবে—তা নিয়ে ইরানের নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে বিভক্ত বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের এই প্রস্তাবটি সেই বিতর্কিত ইস্যুটিকে এড়িয়ে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ তৈরি করবে। তবে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধ করা হলে ভবিষ্যতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা এবং তেহরানকে সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে লিভারেজ বা বাড়তি সুবিধা রয়েছে, তা নষ্ট হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, এই দুটিই ছিল ট্রাম্পের যুদ্ধের প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম।

তিন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, আজ সোমবার ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি দলের সঙ্গে ইরান বিষয়ে সিচুয়েশন রুমে একটি বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের দল আলোচনার স্থবিরতা এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করবে। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখতে চান—যা ইরানের তেল রপ্তানির শ্বাস রোধ করেছে। তিনি আশা করছেন, এর ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেহরান নতি স্বীকার করবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘যখন আপনার সিস্টেমের মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল প্রবাহিত হতে থাকে…এবং কোনো কারণে যদি সেই লাইনটি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, আপনি এটি কনটেইনার বা জাহাজে ভরতে পারছেন না…তখন যা ঘটে তা হলো লাইনটি ভেতর থেকে বিস্ফোরিত হয়। তারা বলছে এটি হওয়ার আগে তাদের হাতে মাত্র তিন দিন সময় আছে।’

গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পাকিস্তান সফর কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছিল, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে আরাঘচির সঙ্গে দেখা করবেন, কিন্তু ইরানিরা সে বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ইরানিদের এই অবস্থানের কারণেই তিনি সেই সফর বাতিল করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইটে তাদের পাঠানোর কোনো মানে আমি দেখি না। এটি অনেক দীর্ঘ সময়। আমরা ফোনের মাধ্যমেই ঠিকঠাক কাজ করতে পারি। ইরানিরা চাইলে আমাদের কল করতে পারে। আমরা শুধু সেখানে বসে থাকার জন্য ভ্রমণ করব না।’

রোববার আরাঘচি মাস্কাটে ওমানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালি ছিল মূল আলোচনার বিষয়। এরপর তিনি দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য পুনরায় ইসলামাবাদে যান। সোমবার আরাঘচির মস্কো সফরের এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা।

সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র জানিয়েছে, আরাঘচি তাঁর ইসলামাবাদ বৈঠকের সময় পারমাণবিক ইস্যুকে এড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাটি উত্থাপন করেন। একটি সূত্র জানায়, আরাঘচি গত সপ্তাহে পাকিস্তানি, মিসরীয়, তুর্কি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে এটি স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন দাবিগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—সে বিষয়ে ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে কোনো ঐকমত্য নেই। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান অন্তত এক দশকের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করুক এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে ফেলুক।

পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো নতুন প্রস্তাবটিতে প্রথমে প্রণালিসংকট সমাধান এবং মার্কিন অবরোধ নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ানো হবে অথবা পক্ষগুলো স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রণালি খুলে দেওয়া এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার পরই কেবল পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে। হোয়াইট হাউস প্রস্তাবটি পেয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এটি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক কি না তা স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আলোচনা করবে না। প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এবং আমরা কেবল এমন একটি চুক্তি করব যা আমেরিকানদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে; ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।’