ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী সংসদে নিরাপত্তা চাইলেন নেত্রকোনা ৫ আসনের জামায়াত এমপি আবিদুলের অভিযোগের জবাব দিলেন সাদিক কায়েম রাজশাহীতে নারী শিক্ষককে জুতাপেটার ঘটনা তদন্তে কমিটি রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক হলেন শরিফুল ইসলাম জনি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার আশঙ্কা: রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি সতর্কতা বঙ্গভবনে নয়, চুপ্পুর থাকা উচিত জেলে: বদিউল আলম মজুমদার জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজ অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

আবিদুলের অভিযোগের জবাব দিলেন সাদিক কায়েম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের তোলা অভিযোগের পেছনে ‘সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম’ দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। আবিদুলের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি ছাত্রদলের সব অপকর্ম, দেশের সব সংকট ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের অপতৎপরতা ঢেকে দিতে সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম দৃশ্যমান হচ্ছে।

শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম। আমার দেশের পাঠকদের জন্য সাদিক কায়েমের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

নির্ভরযোগ্য জাতীয় সংবাদমাধ্যম সমূহের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি-ছাত্রদলের হাতে অন্তত ২৭১টি খুন, ৮১টি ধর্ষণ, ৩৬৬টি চাঁদাবাজি, ৫৯৬টি হামলা, ৯৭টি লুটপাট, ৯৪টি শিক্ষাঙ্গনে হামলা ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে।

কেবল গত মাসেই বিএনপি-ছাত্রদলের হাতে ২২টি খুন, ৬টি ধর্ষণ, ২৮টি চাঁদাবাজি, ৮০টিরও অধিক হামলা ও সংঘর্ষ, ১৮টি চুরি/ডাকাতি, ৬টি শিক্ষাঙ্গনে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিলে দেশে ৫০০টিরও অধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে কেবল ঢাকায়ই অন্তত ১৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

৬৯ শতাংশ জনগণের ভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হওয়া গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করে জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসমূহ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। দেশে জ্বালানি সংকট চরম মাত্রা ধারণ করেছে। গ্রামে গঞ্জে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। অন্যায্যভাবে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক লুটেরাদেরকে সংসদে আইন পাশ করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

২. এসকল জাতীয় সংকটের মাঝেই সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে বিগত কয়েকদিন যাবত দেশব্যাপী ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দলীয় সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র সজ্জিত করে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের এক দায়িত্বশীলকে কুপিয়ে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। একইভাবে পাবনায় এবং কুমিল্লায় বিনা উস্কানিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে ছাত্রদল হামলা করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে গুপ্ত লিখেও কোনোরকম প্রতিক্রিয়া না দেখে সবশেষে ভুয়া স্ক্রিনশট বানিয়ে শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনকি থানায় অবস্থানরতদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছে। ডাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের উপর হামলা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ জন সাংবাদিকের উপর দফায় দফায় হামলা করা হয়েছে।

এর কয়েকদিন আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও হোস্টেলে রাজনৈতিক মদদে গেস্টরুম কালচার চালু করার ঘটনা ঘটে। যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আমরা স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাই।

৩.

ক্ষমতাসীন সরকার সবসময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভয় পায়। দেশের চলমান অস্থিরতা এবং সরকারের একের পর এক ব্যর্থতায় ডাকসু নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান জারি রেখে প্রতিবাদ করে।

সম্ভবত সরকার এই প্রতিবাদী কালচারকে নিজেদের নিকট ভবিষ্যতের জন্য বড় থ্রেট মনে করছে। তাই তাদের দরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকা, এবং ক্যাম্পাসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি ছাত্রদলের সকল অপকর্ম, দেশের সকল সংকট ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের অপতৎপরতা সবকিছু ঢেকে দিতে সংঘবদ্ধ এক্টিভিজম দৃশ্যমান হচ্ছে। আবিদুল ইসলাম খান যে দু’টি পেইজের ব্যাপারে অভিযোগ এনেছেন, তা অবশ্যই সবিস্তর খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। আমরা সেটি করবো, ইনশাআল্লাহ।

তবে, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, DU Insiders পেইজ থেকে কাউকে হেনস্তা করে কিংবা কারো বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো অপপ্রচার চালানো হয়নি বলে পেইজের এডমিন দাবি করেছে। এই পেইজের নামে হুবহু একই বানানে একই প্রোফাইল পিকচার দিয়ে আরেকটি পেইজ খোলা হয়েছিল, যে পেইজ থেকে ডাকসুর প্রতিনিধিদের নিয়েও আক্রমণাত্মক, অশালীন এবং হয়রানিমূলক পোস্ট করা হয়। যার প্রেক্ষিতে DU Insiders নামের সেই পেইজটির বিরুদ্ধে আমরাও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তবে নাম একই হলেও দু’টো পেইজ ভিন্ন।

৪.

DU Insiders পেইজটির এডমিন আমার হলের ছোটোভাই। ওমরায় থাকাকালে তাকে প্রেরণকৃত একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট দিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ আমি আমার পরিচিত সিনিয়র, জুনিয়র, সহযোদ্ধা, সহকর্মী অনেককেই স্মরণ করে সেসময় মেসেজ পাঠিয়েছিলাম। এমনকি স্বয়ং আবিদুল ইসলাম খানকেও, তিনি তার রিপ্লাইও দিয়েছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সৌজন্যমূলক যোগাযোগ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কর্তৃক ডিপার্টমেন্ট অব বাকশাল, ক্রিমিনালস ডিইউ সহ বেশ কয়েকটি পেইজ খোলা হয়। এরপর ডাকসু কণ্ঠস্বর নামে খোলা পেইজ থেকে হেন কোনো ভুয়া ফটোকার্ড নেই, যা ছড়ানো হয়নি। পেইজটির নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে দ্যা ডেইলি ডাকসু নামে চালানো হয়, এবং নিয়মিত গুজব ও প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হয়।

এছাড়াও আমার ডাকসু, আমার রাকসু, আমার চাকসু, কাঁঠেরকেল্লা, ন্যাশনালিস্ট ড্যাটা, মোল্লার দেশ, ন্যাশনালিস্ট ইনসাইডার, দশের লাঠি, মগবাজার, লন্ডন বিডি টিভি, রৌমারি প্রভৃতি পেইজ থেকে বিগত দিনগুলোতে এমন কোনো অপপ্রচার নেই যা করা হয়নি। এআই দিয়ে ভুয়া ছবি বানিয়ে, বিকৃত প্রচারণা চালিয়ে নানাবিধ হয়রানির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এর প্রত্যেকটি পেইজ কারা চালায়, তা কারোরই অজানা নয়।

৫.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ নামক গ্রুপে শতশত বট আইডি যুক্ত করে আইডির নাম হিডেন রেখে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার, অপপ্রচার চলে। যার সাক্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন প্রতিটি শিক্ষার্থী। এনোনিমাস আইডিগুলোর পেছনে যে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রয়েছে, সেটিও বিভিন্ন সময় উন্মোচিত হয়েছে।

কেবল গত তিন দিনেই ছাত্রদল একাধিক ব্যক্তি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারীদের সন্দেহজনকভাবে ধরে মারধর করে,তাদের ফোন কেড়ে নেয় এবং তাদের সোশ্যাল মিডিয়া চেক করে। কাউকে সন্দেহ হলেই তাকে ধরে মারধর করে ফোন চেক করা- এটিও কি কোনো অপরাধ নয় তবে? এধরণের ফোন চেকিং স্পষ্টভাবে স্বৈরচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

এমনই একটি ঘটনা আবিদুল ইসলাম খান নিজের আইডিতে পোস্ট করেছিলেন। একজন ব্যক্তিকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে, ভিডিও ধারণ করে আইডিতে পোস্ট করেন। পরে দেখা যায় উক্ত ব্যক্তি তাদেরই দলীয় লোক। উক্ত ঘটনায় আবিদুল ইসলাম খান নিজেই গুজব ছড়িয়েছেন।

৬.

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সাবেক দায়িত্বশীল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ভুয়া স্ক্রিনশট বানিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনা। এমনকি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্রদল সারা ঢাকার টোকাইদের এনে শাহবাগ থানায় মব তৈরি করে এবং হামলা করে। অথচ প্রথম সারির ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানসমূহ, এবং রাষ্ট্রীয় ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান থেকেও নিশ্চিত করা হয় স্ক্রিনশটটি ছিলো সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং ভুয়া।

ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পরেও মানসুরা আলম, মায়েদসহ সহ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অব্যাহতভাবে সেটি ছড়িয়েছেন এবং অনেকেই এখনো তা সরাননি, এমনকি দুঃখপ্রকাশও করেননি। সারা বাংলাদেশে বিএনপি-ছাত্রদল কর্তৃক ধর্ষণ, হত্যা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করে হত্যার চেষ্টা, থানার ভেতরে মব তৈরি, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং ডাকসুর নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর নির্মম নির্যাতন- এগুলো কি আসলেই কোন তুচ্ছ ঘটনা? কোনো বিবেকবান মানুষ কি এসবকে সমর্থন করতে পারে?

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এতসব গুরুতর অন্যায় করেও যাদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনাবোধ নেই, তাদেরকে সারা বাংলাদেশের আপামর শিক্ষার্থী-জনতা যথাসময়ে উপযুক্ত জবাব দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আবিদুলের অভিযোগের জবাব দিলেন সাদিক কায়েম

আপডেট সময় : ১১:৫৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের তোলা অভিযোগের পেছনে ‘সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম’ দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। আবিদুলের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি ছাত্রদলের সব অপকর্ম, দেশের সব সংকট ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের অপতৎপরতা ঢেকে দিতে সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম দৃশ্যমান হচ্ছে।

শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম। আমার দেশের পাঠকদের জন্য সাদিক কায়েমের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

নির্ভরযোগ্য জাতীয় সংবাদমাধ্যম সমূহের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি-ছাত্রদলের হাতে অন্তত ২৭১টি খুন, ৮১টি ধর্ষণ, ৩৬৬টি চাঁদাবাজি, ৫৯৬টি হামলা, ৯৭টি লুটপাট, ৯৪টি শিক্ষাঙ্গনে হামলা ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে।

কেবল গত মাসেই বিএনপি-ছাত্রদলের হাতে ২২টি খুন, ৬টি ধর্ষণ, ২৮টি চাঁদাবাজি, ৮০টিরও অধিক হামলা ও সংঘর্ষ, ১৮টি চুরি/ডাকাতি, ৬টি শিক্ষাঙ্গনে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিলে দেশে ৫০০টিরও অধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে কেবল ঢাকায়ই অন্তত ১৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

৬৯ শতাংশ জনগণের ভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হওয়া গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করে জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসমূহ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। দেশে জ্বালানি সংকট চরম মাত্রা ধারণ করেছে। গ্রামে গঞ্জে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। অন্যায্যভাবে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক লুটেরাদেরকে সংসদে আইন পাশ করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

২. এসকল জাতীয় সংকটের মাঝেই সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে বিগত কয়েকদিন যাবত দেশব্যাপী ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দলীয় সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র সজ্জিত করে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের এক দায়িত্বশীলকে কুপিয়ে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। একইভাবে পাবনায় এবং কুমিল্লায় বিনা উস্কানিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে ছাত্রদল হামলা করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে গুপ্ত লিখেও কোনোরকম প্রতিক্রিয়া না দেখে সবশেষে ভুয়া স্ক্রিনশট বানিয়ে শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনকি থানায় অবস্থানরতদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছে। ডাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের উপর হামলা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ জন সাংবাদিকের উপর দফায় দফায় হামলা করা হয়েছে।

এর কয়েকদিন আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও হোস্টেলে রাজনৈতিক মদদে গেস্টরুম কালচার চালু করার ঘটনা ঘটে। যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আমরা স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাই।

৩.

ক্ষমতাসীন সরকার সবসময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভয় পায়। দেশের চলমান অস্থিরতা এবং সরকারের একের পর এক ব্যর্থতায় ডাকসু নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান জারি রেখে প্রতিবাদ করে।

সম্ভবত সরকার এই প্রতিবাদী কালচারকে নিজেদের নিকট ভবিষ্যতের জন্য বড় থ্রেট মনে করছে। তাই তাদের দরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকা, এবং ক্যাম্পাসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি ছাত্রদলের সকল অপকর্ম, দেশের সকল সংকট ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের অপতৎপরতা সবকিছু ঢেকে দিতে সংঘবদ্ধ এক্টিভিজম দৃশ্যমান হচ্ছে। আবিদুল ইসলাম খান যে দু’টি পেইজের ব্যাপারে অভিযোগ এনেছেন, তা অবশ্যই সবিস্তর খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। আমরা সেটি করবো, ইনশাআল্লাহ।

তবে, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, DU Insiders পেইজ থেকে কাউকে হেনস্তা করে কিংবা কারো বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো অপপ্রচার চালানো হয়নি বলে পেইজের এডমিন দাবি করেছে। এই পেইজের নামে হুবহু একই বানানে একই প্রোফাইল পিকচার দিয়ে আরেকটি পেইজ খোলা হয়েছিল, যে পেইজ থেকে ডাকসুর প্রতিনিধিদের নিয়েও আক্রমণাত্মক, অশালীন এবং হয়রানিমূলক পোস্ট করা হয়। যার প্রেক্ষিতে DU Insiders নামের সেই পেইজটির বিরুদ্ধে আমরাও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তবে নাম একই হলেও দু’টো পেইজ ভিন্ন।

৪.

DU Insiders পেইজটির এডমিন আমার হলের ছোটোভাই। ওমরায় থাকাকালে তাকে প্রেরণকৃত একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট দিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ আমি আমার পরিচিত সিনিয়র, জুনিয়র, সহযোদ্ধা, সহকর্মী অনেককেই স্মরণ করে সেসময় মেসেজ পাঠিয়েছিলাম। এমনকি স্বয়ং আবিদুল ইসলাম খানকেও, তিনি তার রিপ্লাইও দিয়েছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সৌজন্যমূলক যোগাযোগ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কর্তৃক ডিপার্টমেন্ট অব বাকশাল, ক্রিমিনালস ডিইউ সহ বেশ কয়েকটি পেইজ খোলা হয়। এরপর ডাকসু কণ্ঠস্বর নামে খোলা পেইজ থেকে হেন কোনো ভুয়া ফটোকার্ড নেই, যা ছড়ানো হয়নি। পেইজটির নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে দ্যা ডেইলি ডাকসু নামে চালানো হয়, এবং নিয়মিত গুজব ও প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হয়।

এছাড়াও আমার ডাকসু, আমার রাকসু, আমার চাকসু, কাঁঠেরকেল্লা, ন্যাশনালিস্ট ড্যাটা, মোল্লার দেশ, ন্যাশনালিস্ট ইনসাইডার, দশের লাঠি, মগবাজার, লন্ডন বিডি টিভি, রৌমারি প্রভৃতি পেইজ থেকে বিগত দিনগুলোতে এমন কোনো অপপ্রচার নেই যা করা হয়নি। এআই দিয়ে ভুয়া ছবি বানিয়ে, বিকৃত প্রচারণা চালিয়ে নানাবিধ হয়রানির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এর প্রত্যেকটি পেইজ কারা চালায়, তা কারোরই অজানা নয়।

৫.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ নামক গ্রুপে শতশত বট আইডি যুক্ত করে আইডির নাম হিডেন রেখে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার, অপপ্রচার চলে। যার সাক্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন প্রতিটি শিক্ষার্থী। এনোনিমাস আইডিগুলোর পেছনে যে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রয়েছে, সেটিও বিভিন্ন সময় উন্মোচিত হয়েছে।

কেবল গত তিন দিনেই ছাত্রদল একাধিক ব্যক্তি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারীদের সন্দেহজনকভাবে ধরে মারধর করে,তাদের ফোন কেড়ে নেয় এবং তাদের সোশ্যাল মিডিয়া চেক করে। কাউকে সন্দেহ হলেই তাকে ধরে মারধর করে ফোন চেক করা- এটিও কি কোনো অপরাধ নয় তবে? এধরণের ফোন চেকিং স্পষ্টভাবে স্বৈরচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

এমনই একটি ঘটনা আবিদুল ইসলাম খান নিজের আইডিতে পোস্ট করেছিলেন। একজন ব্যক্তিকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে, ভিডিও ধারণ করে আইডিতে পোস্ট করেন। পরে দেখা যায় উক্ত ব্যক্তি তাদেরই দলীয় লোক। উক্ত ঘটনায় আবিদুল ইসলাম খান নিজেই গুজব ছড়িয়েছেন।

৬.

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সাবেক দায়িত্বশীল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ভুয়া স্ক্রিনশট বানিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনা। এমনকি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্রদল সারা ঢাকার টোকাইদের এনে শাহবাগ থানায় মব তৈরি করে এবং হামলা করে। অথচ প্রথম সারির ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানসমূহ, এবং রাষ্ট্রীয় ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান থেকেও নিশ্চিত করা হয় স্ক্রিনশটটি ছিলো সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং ভুয়া।

ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পরেও মানসুরা আলম, মায়েদসহ সহ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অব্যাহতভাবে সেটি ছড়িয়েছেন এবং অনেকেই এখনো তা সরাননি, এমনকি দুঃখপ্রকাশও করেননি। সারা বাংলাদেশে বিএনপি-ছাত্রদল কর্তৃক ধর্ষণ, হত্যা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করে হত্যার চেষ্টা, থানার ভেতরে মব তৈরি, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং ডাকসুর নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর নির্মম নির্যাতন- এগুলো কি আসলেই কোন তুচ্ছ ঘটনা? কোনো বিবেকবান মানুষ কি এসবকে সমর্থন করতে পারে?

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এতসব গুরুতর অন্যায় করেও যাদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনাবোধ নেই, তাদেরকে সারা বাংলাদেশের আপামর শিক্ষার্থী-জনতা যথাসময়ে উপযুক্ত জবাব দেবে।