প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহী নগরীতে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নগরবাসী। অপরাধীদের শনাক্ত করা না যাওয়ায় তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং বারবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও সিটি করপোরেশন যৌথ উদ্যোগে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২২৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। পর্যায়ক্রমে আরও আধুনিক প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যা অপরাধীদের চেহারা ও যানবাহনের নম্বর শনাক্ত করতে সক্ষম।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, নগরীর জাদুঘর মোড় এলাকায় ছিনতাইকারীরা ব্যাটারিচালিত রিকশা থামিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে।
অন্য একটি ফুটেজে দেখা যায়, গত বছরের ৩০ নভেম্বর রাত ৩টা ২৬ মিনিটে রাজপাড়া থানাধীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রাচীর টপকে ঢুকে পড়ে একদল ডাকাত। রাত ৩টা ৩৩ মিনিটে তারা ঘুমন্ত নিরাপত্তা প্রহরীর হাত-পা বেঁধে প্রায় তিন লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
এছাড়া রাতে বাসাবাড়ি ও দোকানে চুরির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এমনকি দিনের বেলাতেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে ছিনতাইকারীরা মোবাইল ফোন, নারীদের পার্স ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই ঝামেলার আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ করতে চান না; আবার কেউ মামলা করে হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সহিংস ঘটনায় নগরীর প্রায় ৪২০টি সিসিটিভি ক্যামেরার অধিকাংশ ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অধীনে থাকা কন্ট্রোল রুমে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় নতুন করে নজরদারি জোরদার করতে ২২৬টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫৫টি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আরএমপির মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘তৃতীয় ধাপে চীনের তৈরি আরও উন্নত প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ক্যামেরায় সার্ভারে তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের চেহারা ও যানবাহনের নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুরোধে আমরা সিসিটিভি স্থাপনে সহায়তা করছি।’
জানা গেছে, প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরার দাম প্রায় ১৩ হাজার টাকা। আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ ২২৬টি ক্যামেরা স্থাপনে মোট ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।


















