আইসিইউ থেকে বের হতেই সংকটে হাম আক্রান্ত শিশু, এবার সিরিয়াল ৩৬
- আপডেট সময় : ০৪:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ৯০ বার পড়া হয়েছে
রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড আছে। এটি সরকার অনুমোদিত নয়। চলে হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। এই আইসিইউতে একটি বেডের জন্য সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন কোনো শিশু মারা গেলে কিংবা কিছুটা সুস্থ হলে তাদের ডাক পড়ে। সিরিয়াল দিলে ৩০ থেকে ৫০ জনের পর শিশুদের আইসিইউতে নিতে ডাক আসে। এই অবস্থায় এখন শিশুদের সাধারণ অসুখের পাশাপাশি ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে আইসিইউর চাহিদা আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোজার মাঝামাঝি সময়ে জান্নাতুল মাওয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তখন তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এক সপ্তাহ পর ছুটি দিলে শিশুটিকে নিয়ে তাঁরা বাড়ি যান। কিন্তু বাড়ি গিয়েই শিশুর শরীরে হাম উঠতে থাকে। গত ২৭ রমজান শিশুটিকে নিয়ে তাঁরা আবার হাসপাতালে আসেন। কিন্তু ঈদের আবহে চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যান। ঈদের তৃতীয় দিন তাঁরা ফের হাসপাতালে আসেন।
পরদিনই ওয়ার্ডের চিকিৎসক শিশুটিকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার কথা লিখে দেন। তখন আইসিইউতে সিরিয়াল পড়ে ২৯। চার দিন পর গতকাল বিকেলে শিশুটিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। আজ দুপুরেই শিশুটিকে আবার সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হয়।
শিশুর মা উম্মে কুলসুম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হলে আমার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ডাক্তার ম্যাডাম দেখেই আমাকে বললেন—আইসিইউতে কল লাগাও। এবার আইসিইউতে সিরিয়াল পড়েছে ৩৬। আমরা এখন কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার বাচ্চা যদি সুস্থ না হয়, তাহলে আইসিইউ থেকে বের করে দিল কেন? সে আইসিইউতে ছিলই, তাহলে তাকে আবার এখনই আইসিইউতে নেওয়া হোক।’
রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২০০ শয্যার বিপরীতে ঈদের আগে প্রায় ৭০০ রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যেই ছিল হামে আক্রান্ত শিশুরা। তিন মাস ধরে সংক্রামক হাম রোগের রোগী শনাক্ত হলেও সব শিশুর একসঙ্গেই চিকিৎসা চলছিল। ঈদের আগে প্রথমবার মাওয়াকে হাসপাতালে ভর্তির সময়ই সে হামে আক্রান্ত হয় বলে জানান তার নানি ফরিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে থাকার সময়ই শরীরে মশার কামড়ের মতো দাগ দেখি। মনে করেছি, মশার কামড়। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার পরই সারা শরীরে দগদগে হাম ফুটে ওঠে।’
শিশুর বাবা হৃদয় ইসলাম বলেন, ‘চোখের সামনে একের পর এক বাচ্চা মারা যাচ্ছে। এসব দেখে কেমন থাকি বলেন? চার দিন অপেক্ষার পর বাচ্চাকে আইসিইউতে নিতে পেরেছিলাম। এক দিন পরই বের করে দিলে এখন আবার ৩৬ নম্বর সিরিয়াল পড়েছে। আবার চার-পাঁচ দিন হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে গেলে কে দায় নেবে?’
হৃদয় বলেন, ‘আমি ইটভাটায় কাজ করি। আর্থিক সামর্থ্য নাই যে অন্য কোনো জায়গায় নিয়ে আইসিইউতে বাচ্চাকে রাখব। তাই আমাদের অনুরোধ, যেহেতু আমার বাচ্চা আইসিইউ থেকে বের হয়ে অসুস্থ হয়েছে, তাই তাকে যেন আবার এখনই আইসিইউতে নেওয়া হয়।’
জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, যথেষ্ট উন্নতি হওয়ার পর জান্নাতুল মাওয়াকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। যেকোনো রোগী যেকোনো সময় খারাপ হতেই পারে। আবার যদি খারাপ হয়, তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইসিইউতে নিয়ে আসা হবে। বরাবর সেটাই করা হয়।




















