ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০২ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন। বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে তিনি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ফিতা কেটে মেলার দ্বার উন্মুক্ত করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

এর আগে অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন এবং তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ-গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে; সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশন হারে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির নিজস্ব বই বিক্রির জন্য দুই অংশেই স্টল থাকবে।

এ বছর বইমেলায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৬৮টি। মোট ইউনিট ১ হাজার ১৮। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪।

‘জিরো ওয়েস্ট’ ভাবনায় মেলা

পরিবেশবান্ধব ‘জিরো ওয়েস্ট বুক ফেয়ার’ হিসেবে মেলাকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছেন আয়োজকেরা। পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত মেলা নিশ্চিত করা হবে। পরিচ্ছন্নতা, ধুলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো ও মশক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্টল ও সাজসজ্জায় পাট, কাপড় ও কাগজের মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ সাজানো হয়েছে। শিশুপ্রহর হিসেবে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ আয়োজন থাকবে। শিশু কর্নারে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ১০৭টি ইউনিটে অংশ নিচ্ছে।

মেলায় মোট চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ রাখা হয়েছে— টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি ব্যাচিং প্ল্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকায়। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানের কারণে আগের এক্সিট গেট স্থানান্তর করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে খাবারের স্টল রাখা হয়েছে। রমজান মাস বিবেচনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূলমঞ্চে সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। একুশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিভিন্ন পুরস্কার: অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের মধ্য থেকে ২০২৫ সালে প্রকাশিত সেরা মানের বইয়ের জন্য ‘চিত্ররঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। সেরা নান্দনিক বইয়ের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান পাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশে অবদানের জন্য দেওয়া হবে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’। সেরা সজ্জিত স্টলের জন্য রয়েছে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’।

এ বছর নতুন করে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সর্দার জয়নউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। ২০২৪ বা ২০২৫ সালে প্রথমবার অংশ নেওয়া প্রকাশকদের মধ্যে মানসম্মত সর্বাধিক বই প্রকাশের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন। বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে তিনি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ফিতা কেটে মেলার দ্বার উন্মুক্ত করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

এর আগে অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন এবং তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ-গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে; সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশন হারে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির নিজস্ব বই বিক্রির জন্য দুই অংশেই স্টল থাকবে।

এ বছর বইমেলায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৬৮টি। মোট ইউনিট ১ হাজার ১৮। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪।

‘জিরো ওয়েস্ট’ ভাবনায় মেলা

পরিবেশবান্ধব ‘জিরো ওয়েস্ট বুক ফেয়ার’ হিসেবে মেলাকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছেন আয়োজকেরা। পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত মেলা নিশ্চিত করা হবে। পরিচ্ছন্নতা, ধুলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো ও মশক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্টল ও সাজসজ্জায় পাট, কাপড় ও কাগজের মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ সাজানো হয়েছে। শিশুপ্রহর হিসেবে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ আয়োজন থাকবে। শিশু কর্নারে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ১০৭টি ইউনিটে অংশ নিচ্ছে।

মেলায় মোট চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ রাখা হয়েছে— টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি ব্যাচিং প্ল্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকায়। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানের কারণে আগের এক্সিট গেট স্থানান্তর করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে খাবারের স্টল রাখা হয়েছে। রমজান মাস বিবেচনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূলমঞ্চে সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। একুশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিভিন্ন পুরস্কার: অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের মধ্য থেকে ২০২৫ সালে প্রকাশিত সেরা মানের বইয়ের জন্য ‘চিত্ররঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। সেরা নান্দনিক বইয়ের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান পাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশে অবদানের জন্য দেওয়া হবে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’। সেরা সজ্জিত স্টলের জন্য রয়েছে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’।

এ বছর নতুন করে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সর্দার জয়নউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। ২০২৪ বা ২০২৫ সালে প্রথমবার অংশ নেওয়া প্রকাশকদের মধ্যে মানসম্মত সর্বাধিক বই প্রকাশের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হবে।