ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১০০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ভুল ও চাকরিনির্ভর ডিগ্রিকেন্দ্রিক। এতে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেন তারা কেবল চাকরির আবেদন লিখতে পারেন।

তিনি বলেন, মানুষ দাস হিসেবে জন্মায় না, মানুষ জন্মায় সৃজনশীল সত্তা হিসেবে। দাসত্বের ঐতিহ্য থেকেই ‘চাকরি’ ধারণার জন্ম, যা মানুষের সৃজনশীলতা কেড়ে নেয়। সৃজনশীল মানুষকে দাসে পরিণত করা একটি অপরাধমূলক কাজ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের মূল দর্শনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সার্ক শব্দটাই ভুলে গেছি, যা আমাদের জন্য লজ্জার। সার্কের উদ্দেশ্য ছিল একত্রিত হওয়া, মতবিনিময় করা এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখা।’

ঢাকায় সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘ঢাকায় কিছু একটা ঘটেছিল বলেই আমি ও আমার সহকর্মীরা আজ এখানে আছি।’ তিনি বলেন, তরুণরা কোনো আকস্মিক আবেগে নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় নেমেছিল। তারা রুখে দাঁড়িয়ে আওয়াজ তুলেছে এবং এমন এক শক্তিকে উৎখাত করেছে, যা কল্পনাতীত ছিল। বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে তারা জেনেশুনেই জীবন দিয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় এক স্কুলছাত্র চিঠিতে তার মাকে লিখেছিল—‘মা, আমাকে মাফ করে দিও… আমি তো কাপুরুষ নই। ঢাকায় যা ঘটেছে, তা নেপাল বা শ্রীলঙ্কার ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’

ড. ইউনূস বলেন, আন্দোলনকারী ছাত্ররা একটি নিজস্ব চার্টার তৈরি করেছে এবং বর্তমান সংবিধান পরিবর্তনের দাবিও তুলেছে। তাদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানই সমস্যার মূল। তিনি বলেন, ছাত্ররা এরই মধ্যে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং শিগগির নির্বাচনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবে। যারা গতকাল ক্লাসরুমে ছিল, তারা আজ রাস্তায় এবং আগামীতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যাবে। পুরোনো ব্যবস্থায় চলা আত্মঘাতী উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তন আনা এখন অপরিহার্য।

শিক্ষা সংস্কারে ছাত্রদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি আপনাদের বলবো— ওই ছাত্র নেতাদের কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানান। তাদের জিজ্ঞেস করুন, কেন তারা ক্লাসরুম ছেড়ে রাস্তায় এলো। শিক্ষা একপাশে আর তরুণরা অন্যপাশে— এ অসামঞ্জস্য টিকে থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘সৃজনশীলতাই উদ্যোক্তা হওয়ার মূলভিত্তি। কেন আমরা তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে চাকরিদাতা হতে শেখাতে পারি না? তরুণরাই পরিবর্তনের দূত। কল্পনাশক্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কিন্তু আমরা শিশুদের বলি— বাস্তববাদী হও। মানুষ বাস্তববাদী হওয়ার জন্য জন্মায়নি।’

বক্তব্যের শেষাংশে আঞ্চলিক ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমরা একটি পরিবার। রাজনীতিবিদরা আমাদের তা ভুলিয়ে দিতে চায়, তাই নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট সময় : ১১:০৪:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ভুল ও চাকরিনির্ভর ডিগ্রিকেন্দ্রিক। এতে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেন তারা কেবল চাকরির আবেদন লিখতে পারেন।

তিনি বলেন, মানুষ দাস হিসেবে জন্মায় না, মানুষ জন্মায় সৃজনশীল সত্তা হিসেবে। দাসত্বের ঐতিহ্য থেকেই ‘চাকরি’ ধারণার জন্ম, যা মানুষের সৃজনশীলতা কেড়ে নেয়। সৃজনশীল মানুষকে দাসে পরিণত করা একটি অপরাধমূলক কাজ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের মূল দর্শনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সার্ক শব্দটাই ভুলে গেছি, যা আমাদের জন্য লজ্জার। সার্কের উদ্দেশ্য ছিল একত্রিত হওয়া, মতবিনিময় করা এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখা।’

ঢাকায় সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘ঢাকায় কিছু একটা ঘটেছিল বলেই আমি ও আমার সহকর্মীরা আজ এখানে আছি।’ তিনি বলেন, তরুণরা কোনো আকস্মিক আবেগে নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় নেমেছিল। তারা রুখে দাঁড়িয়ে আওয়াজ তুলেছে এবং এমন এক শক্তিকে উৎখাত করেছে, যা কল্পনাতীত ছিল। বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে তারা জেনেশুনেই জীবন দিয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় এক স্কুলছাত্র চিঠিতে তার মাকে লিখেছিল—‘মা, আমাকে মাফ করে দিও… আমি তো কাপুরুষ নই। ঢাকায় যা ঘটেছে, তা নেপাল বা শ্রীলঙ্কার ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’

ড. ইউনূস বলেন, আন্দোলনকারী ছাত্ররা একটি নিজস্ব চার্টার তৈরি করেছে এবং বর্তমান সংবিধান পরিবর্তনের দাবিও তুলেছে। তাদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানই সমস্যার মূল। তিনি বলেন, ছাত্ররা এরই মধ্যে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং শিগগির নির্বাচনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবে। যারা গতকাল ক্লাসরুমে ছিল, তারা আজ রাস্তায় এবং আগামীতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যাবে। পুরোনো ব্যবস্থায় চলা আত্মঘাতী উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তন আনা এখন অপরিহার্য।

শিক্ষা সংস্কারে ছাত্রদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি আপনাদের বলবো— ওই ছাত্র নেতাদের কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানান। তাদের জিজ্ঞেস করুন, কেন তারা ক্লাসরুম ছেড়ে রাস্তায় এলো। শিক্ষা একপাশে আর তরুণরা অন্যপাশে— এ অসামঞ্জস্য টিকে থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘সৃজনশীলতাই উদ্যোক্তা হওয়ার মূলভিত্তি। কেন আমরা তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে চাকরিদাতা হতে শেখাতে পারি না? তরুণরাই পরিবর্তনের দূত। কল্পনাশক্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কিন্তু আমরা শিশুদের বলি— বাস্তববাদী হও। মানুষ বাস্তববাদী হওয়ার জন্য জন্মায়নি।’

বক্তব্যের শেষাংশে আঞ্চলিক ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমরা একটি পরিবার। রাজনীতিবিদরা আমাদের তা ভুলিয়ে দিতে চায়, তাই নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করা জরুরি।