ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলতানে মুখর শামুকখোলের দিঘিপাড়ের রাজ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫ ৬২ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ অনলাইন: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থান উলিপুরের। বহু শতাব্দীপ্রাচীন শতবিঘা আয়তনের একটি দিঘির চারপাশে গড়ে ওঠা গ্রামজুড়ে আছে মানুষের ঘরবসতি। দিঘির পশ্চিম পাড়ে সাপ্তাহিক হাটের জায়গা এবং হযরত একদিল শাহ্ (রহ.) মাজার। এই দিঘিপাড়ে প্রবীণ বটগাছসহ বিভিন্ন গাছে নিরাপদ রাজ্য গড়েছে শত শত এশীয় শামুকখোল পাখি। দিনভর পাখির কলতানে মুখর হয়ে থাকে দিঘির পাড়সহ পুরো গ্রাম।
পাশের অবারিত চলনবিল থেকে পাখিরা খাদ্য সংগ্রহ করে ফিরে আসে দিঘির পাড়ে বটগাছসহ বিভিন্ন গাছে। মেতে ওঠে নানা খুনসুটিতে। শামুকখোল পাখির আবাসস্থল দেখতে উলিপুর গ্রামে প্রতিদিনই পর্যটকেরা ভিড় করেন। তবে গ্রামবাসী এই পাখিদের রক্ষায় ভীষণ তৎপর। পাখি শিকারি বা পর্যটকেরা যাতে শামুকখোলকে বিরক্ত না করে, তার জন্য তারা রীতিমতো পাহারা বসানোসহ নিয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

প্রতিদিন ভোররাতে ঝাঁক বেঁধে পাখিগুলো দিঘিতে নামে, আবার সন্ধ্যা নামলে নান্দনিক কসরতে ডানা মেলে আকাশে ওড়াউড়ি করে। পাখির কিচিরমিচির শব্দে ও জলকেলিতে পুরো এলাকা এখন মুখর হয়ে থাকে। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে গ্রামের মানুষের। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সবাই মিলে পাখিদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন। পাখিদের বিশ্রামের জন্য বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে গড়ে তুলেছেন অভয়াশ্রম। মাঝে মাঝে দেওয়া হচ্ছে খাবারও।

পাখিদের এই নয়নাভিরাম মিলনমেলা দেখতে প্রতিদিনই লোকজন এই গ্রামে আসে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও শামুকখোল পাখিদের এই নিরাপদ আবাসস্থলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘স্বাধীন জীবন’-এর পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক নাসিম বলেন, ‘শামুকখোলের দুটি প্রজাতির মধ্যে একটি এশীয়, আরেকটি আফ্রিকান। উলিপুর গ্রামে শামুকখোল পাখিগুলো মূলত এশীয় প্রজাতির। বন্যপ্রাণী আইনে এশীয় শামুকখোল সংরক্ষিত তালিকায় রয়েছে।’

এশীয় শামুকখোল পাখির গায়ের রং ধূসরসাদা। লম্বা ঠোঁট ও ঠ্যাঙের কারণে অনেক দূর থেকে এরা মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়। এরা সাধারণত ঝাঁক বেঁধে চলাচল করে। মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী পাখিটির প্রধান খাদ্য। অনেকেই একে অতিথি পাখি হিসেবে ভুল করে থাকেন। এটি মূলত বাংলাদেশের নিজস্ব আবাসিক পাখি। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও ভুটানেও এদের দেখা যায়। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। তবে এখনো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়নি। এশীয় শামুকখোল এক প্রজাতির, অর্থাৎ এর কোনো উপপ্রজাতি নেই। উপযুক্ত আবহাওয়া, পরিমিত খাবারের জোগান আর নিরাপত্তা থাকলে এরা সাধারণত কোনো এক জায়গা থেকে নড়ে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, উলিপুর দিঘিসহ একাধিক স্থানে পাখির অভয়াশ্রমের খবর শুনেছেন। পাখিদের নিরাপত্তাসহ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলতানে মুখর শামুকখোলের দিঘিপাড়ের রাজ্য

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
প্রসঙ্গ অনলাইন: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থান উলিপুরের। বহু শতাব্দীপ্রাচীন শতবিঘা আয়তনের একটি দিঘির চারপাশে গড়ে ওঠা গ্রামজুড়ে আছে মানুষের ঘরবসতি। দিঘির পশ্চিম পাড়ে সাপ্তাহিক হাটের জায়গা এবং হযরত একদিল শাহ্ (রহ.) মাজার। এই দিঘিপাড়ে প্রবীণ বটগাছসহ বিভিন্ন গাছে নিরাপদ রাজ্য গড়েছে শত শত এশীয় শামুকখোল পাখি। দিনভর পাখির কলতানে মুখর হয়ে থাকে দিঘির পাড়সহ পুরো গ্রাম।
পাশের অবারিত চলনবিল থেকে পাখিরা খাদ্য সংগ্রহ করে ফিরে আসে দিঘির পাড়ে বটগাছসহ বিভিন্ন গাছে। মেতে ওঠে নানা খুনসুটিতে। শামুকখোল পাখির আবাসস্থল দেখতে উলিপুর গ্রামে প্রতিদিনই পর্যটকেরা ভিড় করেন। তবে গ্রামবাসী এই পাখিদের রক্ষায় ভীষণ তৎপর। পাখি শিকারি বা পর্যটকেরা যাতে শামুকখোলকে বিরক্ত না করে, তার জন্য তারা রীতিমতো পাহারা বসানোসহ নিয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

প্রতিদিন ভোররাতে ঝাঁক বেঁধে পাখিগুলো দিঘিতে নামে, আবার সন্ধ্যা নামলে নান্দনিক কসরতে ডানা মেলে আকাশে ওড়াউড়ি করে। পাখির কিচিরমিচির শব্দে ও জলকেলিতে পুরো এলাকা এখন মুখর হয়ে থাকে। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে গ্রামের মানুষের। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সবাই মিলে পাখিদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন। পাখিদের বিশ্রামের জন্য বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে গড়ে তুলেছেন অভয়াশ্রম। মাঝে মাঝে দেওয়া হচ্ছে খাবারও।

পাখিদের এই নয়নাভিরাম মিলনমেলা দেখতে প্রতিদিনই লোকজন এই গ্রামে আসে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও শামুকখোল পাখিদের এই নিরাপদ আবাসস্থলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘স্বাধীন জীবন’-এর পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক নাসিম বলেন, ‘শামুকখোলের দুটি প্রজাতির মধ্যে একটি এশীয়, আরেকটি আফ্রিকান। উলিপুর গ্রামে শামুকখোল পাখিগুলো মূলত এশীয় প্রজাতির। বন্যপ্রাণী আইনে এশীয় শামুকখোল সংরক্ষিত তালিকায় রয়েছে।’

এশীয় শামুকখোল পাখির গায়ের রং ধূসরসাদা। লম্বা ঠোঁট ও ঠ্যাঙের কারণে অনেক দূর থেকে এরা মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়। এরা সাধারণত ঝাঁক বেঁধে চলাচল করে। মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী পাখিটির প্রধান খাদ্য। অনেকেই একে অতিথি পাখি হিসেবে ভুল করে থাকেন। এটি মূলত বাংলাদেশের নিজস্ব আবাসিক পাখি। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও ভুটানেও এদের দেখা যায়। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। তবে এখনো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়নি। এশীয় শামুকখোল এক প্রজাতির, অর্থাৎ এর কোনো উপপ্রজাতি নেই। উপযুক্ত আবহাওয়া, পরিমিত খাবারের জোগান আর নিরাপত্তা থাকলে এরা সাধারণত কোনো এক জায়গা থেকে নড়ে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, উলিপুর দিঘিসহ একাধিক স্থানে পাখির অভয়াশ্রমের খবর শুনেছেন। পাখিদের নিরাপত্তাসহ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।