ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে ২১ পিস ইয়াবাসহ কথিত সাংবাদিক ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মিশাল আটক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগে ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল সরকার জনগণের গণরায় উপেক্ষা করায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: এটিএম আজহারুল ইসলাম রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে শ্রমিক কল্যানের ষান্মাসিক রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত  পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারলেন ছাত্রদল নেতা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের হুঁশিয়ারি কেন পে-স্কেল কবে, জানা গেল সম্ভাব্য সময় দেশের উন্নয়নে বিরোধী দলের সহযোগিতা দরকার : পানিসম্পদ মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

জামায়াত আমিরের সাথে চীনা দূত ও ইইউ টিমের সাক্ষাৎ : কমপক্ষে একটি বার পরীক্ষামূলকভাবে পিআর সিস্টেমে নির্বাচন চাই : ডা: তাহের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃতে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বিকেলে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে ঢাকার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দূতাবাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের সভাপতি মুনির সাতৌরী, লুক্সেমবার্গ (ইপিপি) ইসাবেলা ভিয়েডার-লিমা, পোল্যান্ডের (ইসিআর) আরকাদিস মুলারচিক, এস্তোনিয়ার (রিনিউ ইউরোপ) উর্মাস পায়েট, নেদারল্যান্ডসের (দ্য গ্রিন্স) কাতারিনাভিয়েইরাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের বলেন, আমাদের সাথে তাদের খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের যে অবস্থা সে বিষয়ে কথা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে কথা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না? কিভাবে হবে? এসব বিষয় তারা মূলত কথা বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে ৫৪ বছর পরে একটা পরিবর্তনের বিশেষ সুযোগ এখানে আসছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার জন্য সবাই আন্তরিক এবং সচেতন। এ সরকার যে কমিটমেন্ট দিয়েছিল, তারা একটা সংস্কার করবে, বিচার দৃশ্যমান করবে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; যেটাকে আমরা ফ্রি, ফেয়ার একটি ইলেকশন বলে মনে করি।

আপনারা জানেন সরকার একটি এনসিসি করেছিল। সেখানে আমরা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছি। এসব বিষয়ে বাংলাদেশে একটি ব্যাপক ডেভেলপমেন্ট হয়েছে এবং দলগুলোর মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন একটা সমস্যা হলো আমরা যেসব বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করতে পেরেছি সেগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন হবে- এটা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। আপনারা জানেন আমরা ৩১টি দল আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম। এর মধ্যে ২৬টি দল পিআরের পক্ষে ছিল যার মধ্যে ইসলামিস্ট, রাইটিস্ট এবং লেফটিস্ট দল আছে। কিন্তু সেখানে একটি পার্থক্য ছিল এই- কোনো কোনো দল আপার হাউজে পিআর চাচ্ছে আর কিছু দল আপার ও লোয়ার দুইটিতে পিআর চাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা জামায়াতে ইসলামী উভয় কক্ষে পিআর চাচ্ছি। এ চাওয়ার পেছনে আমাদের দু’টি যুক্তি হলো বিগত ৫৪ বছরে ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আর বিগত ১৫ বছরে ৩টি নির্বাচনের কথা তো উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর যে কালচার, মেন্টালিটি, যে কৌশল বা অপকৌশল জোর করে কেন্দ্র দখল করে এমপি হয়ে ক্ষমতায় যাওয়া। এই মাইন্ডসেটটাকে পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ আমরা দেখছি এত অভিজ্ঞতার পরে, এত হত্যাকাণ্ডের পরে, এত রক্ত দেয়ার পরেও আমাদের মাইন্ডে খুব বেশি একটা পরিবর্তন হচ্ছে তা লক্ষ করা যাচ্ছে না। এটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনে। এত ফেয়ার ইলেকশন হয়েছে এবং বিকেল ৪টায় পর্যন্ত ইলেকশনে অংশগ্রহণ করেছে। তার পরেই বর্জন করেছে। যখন দেখছে হেরে যাবে তখনই বলল ইলেকশন মানি না। এর দ্বারা বুঝা যায় ফেয়ার ইলেকশন তারা পছন্দ করছে না। জাকসুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রেজাল্ট দেয়ার ক্ষেত্রে তারা গড়িমসি করেছে। সবার চোখের সামনে বিধায় তারা ফল উল্টাতে পারেনি। কিন্তু এটিচিউড তো রয়ে গেছে ফল উল্টে দেয়ার। জাতীয় নির্বাচনেও এমন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই আমরা বলেছি, পিআর সিস্টেম যদি হয়, সেখানে এককভাবে কোনো প্রার্থী থাকবে না কোনো এলাকায় এবং সে কেন্দ্র দখলের ইন্ট্রেস্ট হারিয়ে ফেলবে টাকা দিয়ে। এ জন্য আমরা কমপক্ষে একটিবার পরীক্ষামূলকভাবে পিআর সিস্টেমে নির্বাচন চাই। যদি এটি ভালো না হয় তবে নেকস্ট টাইমে আমরা এটা চেঞ্জ করি। এ জন্য আমরা পিআর চাচ্ছি বোথ হাউজে। অধিকাংশ লোক পিআরের পক্ষে। তারাও বলেছেন, তাদের অধিকাংশ দেশেই তো পিআর সিস্টেম। আমাদের কথা তারা সহজেই বুঝছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়াদ বাড়ালে যে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে, এটি আমি মনে করি না। ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য এক ঘণ্টাই যথেষ্ট। তার পরও বাড়ানো হয়েছে। এটির দুটো কারণ হতে পারে সিনসিয়ারলি আরো কিছু বের হয় কি না। সে জন্য হতে পারে। বাট আই ডাউট; যা বের হওয়ার তা বের হয়েছে। বাকিটা ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে, সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

যারা চাচ্ছে না এটির রিফর্ম হোক, আইনি ভিত্তি হোক এবং এর ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হোক, মূলত তারাই এখন এ সমস্যা তৈরি করছে। এই এটিচিউড যদি চেঞ্জ না হয়, তাহলে এক মাস কেন, নির্বাচনের পর পর্যন্ত যদি মেয়াদ থাকে, তা হলেও হবে না। কিন্তু আমার সন্দেহ হয়, এটি টাইম ডিলে করার একটা কৌশল। এ প্রশ্নটি এখন মানুষের ভিতর আছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অলরেডি দু-তিন মাস ধরে কনসেনসাস কমিটির সাথে কাজ করছি, আমরা ঐকমত্যেও পৌঁছে গেছি। সুতরাং এটিকে আইনি ভিত্তি দেয়া শুধু সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আরো একবার দেখা যাবে আমরা এক মাস ঘুরে ঘুরে এক মাস পেছনে গেছি। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু আরো একটি মাস চলে গেল আমাদের কাছ থেকে।

তিনি আরো বলেন, আমরা নির্বাচনে যাবো না এটি আমরা বলিনি। আমরা মনে করি পিআর পদ্ধতিটাই উত্তম এবং সে দাবি করছি। আমরা যুক্তি দিচ্ছি, আমরা বুঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি আমাদের যুক্তি মানবে এবং সে ভিত্তিতেই আমরা নির্বাচনে যাবো।

আমরা আপার ও লোয়ার উভয় কক্ষে পিআর চাচ্ছি। আর আলোচনার টেবিলে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আমরা আলোচনার টেবিলে যাওয়ার পক্ষে এবং আলোচনা করারও পক্ষে। তবে এর জন্য উদার মানসিকতা এবং নিরপেক্ষতা মানসিকতার প্রয়োজন।

চীনা দূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আমিরের বসুন্ধরার কার্যালয়ে গতকাল সকালে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সাথে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার পরিচালক ঝ্যাং জিং। জামায়াত নেতাদের মধ্যে সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

পরে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় তারা উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা আরো জোরদার হবে।

বিক্ষোভের সময় পরিবর্তন : গতকাল জামায়াত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ওই দু’দিন পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সকালের পরিবর্তে বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। বিসিএস পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে এই সময় পরিবর্তন করা হয়েছে।

ইনকিলাবে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ : ‘ভারতীয় এজেন্ডা নিয়ে মাঠে জামায়াত’ শিরোনামে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত রিপোর্টকে ভিত্তিহীন, অসত্য ও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ইনকিলাবের ১৬ সেপ্টেম্বর সংখ্যার প্রথম পাতায় ‘ভারতীয় এজেন্ডা নিয়ে মাঠে জামায়াত’ শিরোনামে প্রকাশিত বানোয়াট, অসত্য ও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদনের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মূলত ডা: জাহেদুর রহমান জনগণকে বিভ্রান্ত করার হীন উদ্দেশ্যেই পানি ঘোলা করে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন এবং পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন। অথচ পিআর পদ্ধতি আধুনিক বিশ্বের একটি উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা বর্তমানে প্রায় ৯১টিরও বেশি দেশে কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্রসমাজ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন সমর্থন করছেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন যাতে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো মজবুত ভিত্তি লাভ করতে না পারে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দাবি করছে। দেশবাসী মনে করে, যারা ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে এবং এটিকে ভারতীয় এজেন্ডা বলে আখ্যা দিচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে।

তিনি বলেন, শিগগিরই জনগণের আন্দোলনের মুখে সরকার পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। এতে দেশে ভারসাম্যপূর্ণ ও একটি টেকসই জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সুসংহত হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বন্ধ করুন। একইসাথে দৈনিক ইনকিলাব কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- তারা যেন পিআর পদ্ধতির পক্ষে কলম ধরেন এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জামায়াত আমিরের সাথে চীনা দূত ও ইইউ টিমের সাক্ষাৎ : কমপক্ষে একটি বার পরীক্ষামূলকভাবে পিআর সিস্টেমে নির্বাচন চাই : ডা: তাহের

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃতে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বিকেলে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে ঢাকার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দূতাবাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের সভাপতি মুনির সাতৌরী, লুক্সেমবার্গ (ইপিপি) ইসাবেলা ভিয়েডার-লিমা, পোল্যান্ডের (ইসিআর) আরকাদিস মুলারচিক, এস্তোনিয়ার (রিনিউ ইউরোপ) উর্মাস পায়েট, নেদারল্যান্ডসের (দ্য গ্রিন্স) কাতারিনাভিয়েইরাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের বলেন, আমাদের সাথে তাদের খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের যে অবস্থা সে বিষয়ে কথা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে কথা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না? কিভাবে হবে? এসব বিষয় তারা মূলত কথা বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে ৫৪ বছর পরে একটা পরিবর্তনের বিশেষ সুযোগ এখানে আসছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার জন্য সবাই আন্তরিক এবং সচেতন। এ সরকার যে কমিটমেন্ট দিয়েছিল, তারা একটা সংস্কার করবে, বিচার দৃশ্যমান করবে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; যেটাকে আমরা ফ্রি, ফেয়ার একটি ইলেকশন বলে মনে করি।

আপনারা জানেন সরকার একটি এনসিসি করেছিল। সেখানে আমরা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছি। এসব বিষয়ে বাংলাদেশে একটি ব্যাপক ডেভেলপমেন্ট হয়েছে এবং দলগুলোর মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন একটা সমস্যা হলো আমরা যেসব বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করতে পেরেছি সেগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন হবে- এটা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। আপনারা জানেন আমরা ৩১টি দল আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম। এর মধ্যে ২৬টি দল পিআরের পক্ষে ছিল যার মধ্যে ইসলামিস্ট, রাইটিস্ট এবং লেফটিস্ট দল আছে। কিন্তু সেখানে একটি পার্থক্য ছিল এই- কোনো কোনো দল আপার হাউজে পিআর চাচ্ছে আর কিছু দল আপার ও লোয়ার দুইটিতে পিআর চাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা জামায়াতে ইসলামী উভয় কক্ষে পিআর চাচ্ছি। এ চাওয়ার পেছনে আমাদের দু’টি যুক্তি হলো বিগত ৫৪ বছরে ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আর বিগত ১৫ বছরে ৩টি নির্বাচনের কথা তো উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর যে কালচার, মেন্টালিটি, যে কৌশল বা অপকৌশল জোর করে কেন্দ্র দখল করে এমপি হয়ে ক্ষমতায় যাওয়া। এই মাইন্ডসেটটাকে পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ আমরা দেখছি এত অভিজ্ঞতার পরে, এত হত্যাকাণ্ডের পরে, এত রক্ত দেয়ার পরেও আমাদের মাইন্ডে খুব বেশি একটা পরিবর্তন হচ্ছে তা লক্ষ করা যাচ্ছে না। এটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনে। এত ফেয়ার ইলেকশন হয়েছে এবং বিকেল ৪টায় পর্যন্ত ইলেকশনে অংশগ্রহণ করেছে। তার পরেই বর্জন করেছে। যখন দেখছে হেরে যাবে তখনই বলল ইলেকশন মানি না। এর দ্বারা বুঝা যায় ফেয়ার ইলেকশন তারা পছন্দ করছে না। জাকসুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রেজাল্ট দেয়ার ক্ষেত্রে তারা গড়িমসি করেছে। সবার চোখের সামনে বিধায় তারা ফল উল্টাতে পারেনি। কিন্তু এটিচিউড তো রয়ে গেছে ফল উল্টে দেয়ার। জাতীয় নির্বাচনেও এমন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই আমরা বলেছি, পিআর সিস্টেম যদি হয়, সেখানে এককভাবে কোনো প্রার্থী থাকবে না কোনো এলাকায় এবং সে কেন্দ্র দখলের ইন্ট্রেস্ট হারিয়ে ফেলবে টাকা দিয়ে। এ জন্য আমরা কমপক্ষে একটিবার পরীক্ষামূলকভাবে পিআর সিস্টেমে নির্বাচন চাই। যদি এটি ভালো না হয় তবে নেকস্ট টাইমে আমরা এটা চেঞ্জ করি। এ জন্য আমরা পিআর চাচ্ছি বোথ হাউজে। অধিকাংশ লোক পিআরের পক্ষে। তারাও বলেছেন, তাদের অধিকাংশ দেশেই তো পিআর সিস্টেম। আমাদের কথা তারা সহজেই বুঝছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়াদ বাড়ালে যে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে, এটি আমি মনে করি না। ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য এক ঘণ্টাই যথেষ্ট। তার পরও বাড়ানো হয়েছে। এটির দুটো কারণ হতে পারে সিনসিয়ারলি আরো কিছু বের হয় কি না। সে জন্য হতে পারে। বাট আই ডাউট; যা বের হওয়ার তা বের হয়েছে। বাকিটা ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে, সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

যারা চাচ্ছে না এটির রিফর্ম হোক, আইনি ভিত্তি হোক এবং এর ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হোক, মূলত তারাই এখন এ সমস্যা তৈরি করছে। এই এটিচিউড যদি চেঞ্জ না হয়, তাহলে এক মাস কেন, নির্বাচনের পর পর্যন্ত যদি মেয়াদ থাকে, তা হলেও হবে না। কিন্তু আমার সন্দেহ হয়, এটি টাইম ডিলে করার একটা কৌশল। এ প্রশ্নটি এখন মানুষের ভিতর আছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অলরেডি দু-তিন মাস ধরে কনসেনসাস কমিটির সাথে কাজ করছি, আমরা ঐকমত্যেও পৌঁছে গেছি। সুতরাং এটিকে আইনি ভিত্তি দেয়া শুধু সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আরো একবার দেখা যাবে আমরা এক মাস ঘুরে ঘুরে এক মাস পেছনে গেছি। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু আরো একটি মাস চলে গেল আমাদের কাছ থেকে।

তিনি আরো বলেন, আমরা নির্বাচনে যাবো না এটি আমরা বলিনি। আমরা মনে করি পিআর পদ্ধতিটাই উত্তম এবং সে দাবি করছি। আমরা যুক্তি দিচ্ছি, আমরা বুঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি আমাদের যুক্তি মানবে এবং সে ভিত্তিতেই আমরা নির্বাচনে যাবো।

আমরা আপার ও লোয়ার উভয় কক্ষে পিআর চাচ্ছি। আর আলোচনার টেবিলে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আমরা আলোচনার টেবিলে যাওয়ার পক্ষে এবং আলোচনা করারও পক্ষে। তবে এর জন্য উদার মানসিকতা এবং নিরপেক্ষতা মানসিকতার প্রয়োজন।

চীনা দূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আমিরের বসুন্ধরার কার্যালয়ে গতকাল সকালে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সাথে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার পরিচালক ঝ্যাং জিং। জামায়াত নেতাদের মধ্যে সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

পরে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় তারা উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা আরো জোরদার হবে।

বিক্ষোভের সময় পরিবর্তন : গতকাল জামায়াত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ওই দু’দিন পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সকালের পরিবর্তে বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। বিসিএস পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে এই সময় পরিবর্তন করা হয়েছে।

ইনকিলাবে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ : ‘ভারতীয় এজেন্ডা নিয়ে মাঠে জামায়াত’ শিরোনামে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত রিপোর্টকে ভিত্তিহীন, অসত্য ও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ইনকিলাবের ১৬ সেপ্টেম্বর সংখ্যার প্রথম পাতায় ‘ভারতীয় এজেন্ডা নিয়ে মাঠে জামায়াত’ শিরোনামে প্রকাশিত বানোয়াট, অসত্য ও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদনের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মূলত ডা: জাহেদুর রহমান জনগণকে বিভ্রান্ত করার হীন উদ্দেশ্যেই পানি ঘোলা করে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন এবং পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন। অথচ পিআর পদ্ধতি আধুনিক বিশ্বের একটি উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা বর্তমানে প্রায় ৯১টিরও বেশি দেশে কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্রসমাজ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন সমর্থন করছেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন যাতে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো মজবুত ভিত্তি লাভ করতে না পারে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দাবি করছে। দেশবাসী মনে করে, যারা ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে এবং এটিকে ভারতীয় এজেন্ডা বলে আখ্যা দিচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে।

তিনি বলেন, শিগগিরই জনগণের আন্দোলনের মুখে সরকার পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। এতে দেশে ভারসাম্যপূর্ণ ও একটি টেকসই জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সুসংহত হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বন্ধ করুন। একইসাথে দৈনিক ইনকিলাব কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- তারা যেন পিআর পদ্ধতির পক্ষে কলম ধরেন এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন।