সংবাদ শিরোনাম ::
সরকার জনগণের গণরায় উপেক্ষা করায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: এটিএম আজহারুল ইসলাম
প্রতিনিধির নাম
- আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সমাজে বিদ্যমান নানা সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। জনগণ যে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রত্যাশায় গণভোটে রায় দিয়েছে, সরকারকে সেই গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার হবে।
শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপির সভাপতিত্বে ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি আসন্ন লং মার্চের পথসভার স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ সমাজে নানা ধরনের সংকট বিরাজ করছে। সরকার বারবার দাবি করছে যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তার বিপরীত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণ দুটি বিষয়ে ভোট দিয়েছে। একটি ছিল সরকার গঠনের জন্য এবং অপরটি ছিল সংবিধানের যেসব বিধানের কারণে একটি সরকার ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, সেগুলো সংস্কার ও বাতিলের পক্ষে। সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার জনগণের সেই গণরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদের ভেতরে জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সোচ্চার ছিলাম। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে জনগণের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু সরকার এতে কর্ণপাত না করায় আমরা লং মার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। সরকারই আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করেছে।
নায়েবে আমীর বলেন, আমরা সরকারকে বলেছিলাম, যেসব বিষয়ে সংসদে আলোচনা ও ফয়সালা করা সম্ভব, সেসব বিষয় রাজপথে ঠেলে দেবেন না। কিন্তু সরকার জনগণের দাবি ও গণরায়কে উপেক্ষা করে পরিস্থিতিকে রাজপথে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতিবাদেও লং মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চের পথে রংপুরের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় দুটি পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। এসব পথসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। লং মার্চ ও পথসভা সফল করার লক্ষ্যে আজ পথসভাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে এখানে উপস্থিত হয়ে লং মার্চ ও পথসভা সফল করবেন।”
সাধারণ জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ তাদের দাবি আদায়ে যত বেশি সোচ্চার হবে, সরকার তত বেশি দাবি পূরণ করতে বাধ্য হবে। আমরা জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই লং মার্চ ও পথসভা সাফল্যমণ্ডিত হবে বলে আমরা আশা করি।
তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে লং মার্চ ও পথসভা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমরা আশা করি, তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো আচরণ না করে জনগণবান্ধব ভূমিকা পালন করবেন। তিনি সর্বশেষ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের লং মার্চ ও পথসভা সফল করার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এমপি, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হক, বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমীর জনাব আবিদুর রহমান সোহেল, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা শাহিনুর আলমসহ বগুড়া, পাবনা ও জয়পুরহাট জেলার নেতৃবৃন্দ।



















