ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

৮ প্রস্তাবনা নিয়ে বাগছাসের ইশতেহার ঘোষণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ ৫২ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)। ইশতেহারে আটটি প্রস্তাবনায় মোট ৫০ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করে সংগঠনটি।

এসময় বাগছাস সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের, জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ও এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুন ইশতেহার পাঠ করেন।

দ্বিতীয় প্রস্তাবনা হলো একাডেমিক ও প্রশাসনিক। এর অধীনে রয়েছে গণতান্ত্রিক সংস্কার, প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন, ওয়ান স্টপ সলিউশন ও প্রশাসনিক ভবনের অধিকাংশ কাজ ‘পেপারলেস’ করা।

এ প্রস্তাবনায় লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের পরিধি বৃদ্ধি, আধুনিক ক্লাসরুম ও পাঠদানের জন্য ক্লাসে ডিজিটাল উপকরণ নিশ্চিত, ল্যাব ফ্যাসিলিটির আধুনিকায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন, দশতলা বিশিষ্ট একটা স্বতন্ত্র স্টাডি স্পেস নির্মাণ,  ক্রেডিট ট্রান্সফার, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাস্তা ও হলের সম্মুখভাগ আলো ও সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় প্রস্তাবনায় রয়েছে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার। এতে ‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’ র মাধ্যমে লাইব্রেরি অ্যাকসেস, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহনসেবা, ক্যান্টিনসেবা, হলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট’ নীতিমালার বাস্তবায়ন,  আবাসন সংকট দূরীকরণে চাহিদাপত্র অনুযায়ী হলে শিক্ষার্থীদের অ্যাটাচমেন্ট দেওয়া, আবাসন সংকট পরিপূর্ণ দূরীকরণ পর্যন্ত যারা সিট পাবে না তাদের আবাসন ভর্তুকির আওতায় আনা, প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরুর এক সপ্তাহ আগে সিট নিশ্চিত করা এবং স্নাতকোত্তর রেজাল্ট প্রকাশের এক সপ্তাহ পরে সিট ছেড়ে দেওয়া।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও সকল শিক্ষার্থীর জন্য ল্যাপটপ নিশ্চিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সুদবিহীন লোনের ব্যবস্থা করা।

চতুর্থ প্রস্তাবনায় রয়েছে স্টুডেন্ট ডিগনিটি। এর মধ্যে রয়েছে দাঁড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাবসহ পোশাক ও আঞ্চলিকতা কেন্দ্রিক মোরাল পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, জাতিসত্তা ও মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অপরায়ন ও বৈষম্য বন্ধ করা।

পঞ্চম প্রস্তাবনা হলো ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে ‘স্টারলিংক’র মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা, সকল অ্যাকাডেমিক ভবন ও হলকে এডুরোমের মাধ্যমে ফ্রি ও ফাস্ট ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসা। এ প্রস্তাবনায় আরও রয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য পৃথক চক্রাকার বাসের ব্যবস্থা করা, ‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’ সেবা চালু, ডাকসু ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে ভর্তুকি প্রদান ও মান বৃদ্ধি করা, সোশ্যাল সায়েন্স, মোকাররম ও কাজী মোতাহর হোসেন ভবনে ক্যান্টিন ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করা।

পরবর্তী প্রস্তাবনা হলো ক্যারিয়ার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ও সায়েন্স লাইব্রেরির আধুনিকায়ন, ২৪ ঘন্টা লাইব্রেরি সেবা নিশ্চিত, ই-লাইব্রেরি চালু করা এ এফবিএসের ডাটা সেন্টার চালু করা। এছাড়াও এ প্রস্তাবনায়  ক্যারিয়ার ক্লাব প্রতিষ্ঠা, আউটসোর্সিং ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, বিজনেস ও উদ্যোক্তাদের জন্য হাব তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সপ্তম প্রস্তাবনা হলো কালচারাল ও স্পোর্টসভিত্তিক। এর অধীনে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মিউজিয়াম এবং কালচারাল সেন্টার তৈরি, আধুনিক গেমসরুম এবং জিমনেসিয়াম স্থাপন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি, হলভিত্তিক খেলার মাঠগুলোকে সংস্কার ইত্যাদি।

সংগঠনটির সর্বশেষ প্রস্তাবনা নারীদের নিয়ে। এ প্রস্তাবনায় রয়েছে নারী হলগুলোতে খেলাধুলার সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, সমাজকল্যাণ এরিয়াতে ২৪ ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, সেন্ট্রাল মসজিদসহ অন্যান্য জায়গায় মেয়েদের নামাজের স্থান প্রসারিত করা, অনাবাসিক মেয়েদের হলে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া, জনপরিসর বা কমন স্পেসগুলো নারীবান্ধব করা ইত্যাদি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৮ প্রস্তাবনা নিয়ে বাগছাসের ইশতেহার ঘোষণা

আপডেট সময় : ০১:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
জাতীয় ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)। ইশতেহারে আটটি প্রস্তাবনায় মোট ৫০ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করে সংগঠনটি।

এসময় বাগছাস সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের, জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ও এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুন ইশতেহার পাঠ করেন।

দ্বিতীয় প্রস্তাবনা হলো একাডেমিক ও প্রশাসনিক। এর অধীনে রয়েছে গণতান্ত্রিক সংস্কার, প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন, ওয়ান স্টপ সলিউশন ও প্রশাসনিক ভবনের অধিকাংশ কাজ ‘পেপারলেস’ করা।

এ প্রস্তাবনায় লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের পরিধি বৃদ্ধি, আধুনিক ক্লাসরুম ও পাঠদানের জন্য ক্লাসে ডিজিটাল উপকরণ নিশ্চিত, ল্যাব ফ্যাসিলিটির আধুনিকায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন, দশতলা বিশিষ্ট একটা স্বতন্ত্র স্টাডি স্পেস নির্মাণ,  ক্রেডিট ট্রান্সফার, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাস্তা ও হলের সম্মুখভাগ আলো ও সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় প্রস্তাবনায় রয়েছে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার। এতে ‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’ র মাধ্যমে লাইব্রেরি অ্যাকসেস, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহনসেবা, ক্যান্টিনসেবা, হলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট’ নীতিমালার বাস্তবায়ন,  আবাসন সংকট দূরীকরণে চাহিদাপত্র অনুযায়ী হলে শিক্ষার্থীদের অ্যাটাচমেন্ট দেওয়া, আবাসন সংকট পরিপূর্ণ দূরীকরণ পর্যন্ত যারা সিট পাবে না তাদের আবাসন ভর্তুকির আওতায় আনা, প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরুর এক সপ্তাহ আগে সিট নিশ্চিত করা এবং স্নাতকোত্তর রেজাল্ট প্রকাশের এক সপ্তাহ পরে সিট ছেড়ে দেওয়া।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও সকল শিক্ষার্থীর জন্য ল্যাপটপ নিশ্চিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সুদবিহীন লোনের ব্যবস্থা করা।

চতুর্থ প্রস্তাবনায় রয়েছে স্টুডেন্ট ডিগনিটি। এর মধ্যে রয়েছে দাঁড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাবসহ পোশাক ও আঞ্চলিকতা কেন্দ্রিক মোরাল পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, জাতিসত্তা ও মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অপরায়ন ও বৈষম্য বন্ধ করা।

পঞ্চম প্রস্তাবনা হলো ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে ‘স্টারলিংক’র মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা, সকল অ্যাকাডেমিক ভবন ও হলকে এডুরোমের মাধ্যমে ফ্রি ও ফাস্ট ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসা। এ প্রস্তাবনায় আরও রয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য পৃথক চক্রাকার বাসের ব্যবস্থা করা, ‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’ সেবা চালু, ডাকসু ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে ভর্তুকি প্রদান ও মান বৃদ্ধি করা, সোশ্যাল সায়েন্স, মোকাররম ও কাজী মোতাহর হোসেন ভবনে ক্যান্টিন ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করা।

পরবর্তী প্রস্তাবনা হলো ক্যারিয়ার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ও সায়েন্স লাইব্রেরির আধুনিকায়ন, ২৪ ঘন্টা লাইব্রেরি সেবা নিশ্চিত, ই-লাইব্রেরি চালু করা এ এফবিএসের ডাটা সেন্টার চালু করা। এছাড়াও এ প্রস্তাবনায়  ক্যারিয়ার ক্লাব প্রতিষ্ঠা, আউটসোর্সিং ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, বিজনেস ও উদ্যোক্তাদের জন্য হাব তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সপ্তম প্রস্তাবনা হলো কালচারাল ও স্পোর্টসভিত্তিক। এর অধীনে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মিউজিয়াম এবং কালচারাল সেন্টার তৈরি, আধুনিক গেমসরুম এবং জিমনেসিয়াম স্থাপন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি, হলভিত্তিক খেলার মাঠগুলোকে সংস্কার ইত্যাদি।

সংগঠনটির সর্বশেষ প্রস্তাবনা নারীদের নিয়ে। এ প্রস্তাবনায় রয়েছে নারী হলগুলোতে খেলাধুলার সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, সমাজকল্যাণ এরিয়াতে ২৪ ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, সেন্ট্রাল মসজিদসহ অন্যান্য জায়গায় মেয়েদের নামাজের স্থান প্রসারিত করা, অনাবাসিক মেয়েদের হলে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া, জনপরিসর বা কমন স্পেসগুলো নারীবান্ধব করা ইত্যাদি।