আহতদের জন্য ওষুধ, রক্ত, নানা ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে সরবরাহ করেছেন তারা। প্রথম দিকে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে এসব সংগ্রহ করেছেন। তবে পরে কেন্দ্রীয় জামায়াত থেকে আহতদের সব চিকিৎসা ব্যয় সরবরাহ করা হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে বলে দেয়া হয়েছে আহতদের কাছ থেকে যেন টাকা না নেয়া হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় ফান্ড থেকে সব টাকা পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে বলে বক্তব্যে নুরুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন। তিনি আহতদের সেবায় কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যে তারা স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নানা কায়দা করে আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন।
আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অবশ্যই সংস্কার করতে হবে। সংস্কার ছাড়া জনগণ নির্বাচন মেনে নেবেন না। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর খেলতে দেয়া হবে না। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনার কোনো ঘোষণা যেন জনগণের আকাক্সক্ষার বাইরে না যায়।’ কারো চাপে যেন প্রধান উপদেষ্টা কোনো ঘোষণা না দেন সেই দিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি। চিকিৎসক সমাবেশে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ডা: তাহের বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থের সাথে থাকব। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের বাইরে কোনো আইন ঘোষণা করা হলে তা জনগণ মেনে নেবে না। হাসিনা মার্কা নির্বাচনও জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি জনপ্রতিনিধিত্ব নির্বাচন বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের সুবিধাগুলো তুলে ধরেন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে টাকার খেলা থাকবে না। মাস্তানের মাস্তানিও থাকবে না। কারণ যে টাকা ঢালবে অথবা মাস্তান লেলিয়ে দিতে চাইবে সে যে এমপি হতে পারবে সে নিশ্চয়তা নেই। সে কারণে পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে মাস্তান ও টাকার খেলা থাকবে না। তিনি কারো নাম না নিয়ে বলেন, আসুন পিআর পদ্ধতি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক করি, ঢাকার যেকোনো জায়গা আপনাদের সাথে বিতর্ক করতে রাজি আছি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহেই আন্দোলন তীব্র হতে থাকে। আমি জেলে ছিলাম তখন। জেল থেকে নানা তথ্য পাচ্ছিলাম কিছু একটা হতে যাচ্ছে, এবার স্বৈরাচারের পতন হবেই। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা যে আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন তা জুলাই ঘোষণায় অবশ্যই থাকতে হবে। তিনি জুলাই আন্দোলনে চিকিৎসকদের যে ভূমিকা তা তুলে ধরে আগামী তিন মাসের মধ্যেই একটি স্মরণিকা প্রকাশ করার অনুরোধ করেন এনডিএফ নেতৃবৃন্দকে।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল চিকিৎসকদের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, চাকরি হারানোর ঝুঁকি, জীবনের হুমকি এবং হাসিনা পতন হবে কি না তা নিশ্চিত না হয়েই চিকিৎসকরা সাহসিকতার সাথে ভূমিকা পালন করেছেন- স্মরণ করে বলেন, আপনাদের মহৎ ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, একই সাথে সেই সময় যে চিকিৎসকরা আহতদের চিকিৎসা দেয়নি, বাধা দিয়েছে, আহতদের জেলে ঢুকানোর অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিল এদেরও ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে যেন জনগণ এদের ঘৃণা করতে পারে। তিনি বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় যা কিছু করার ছিল সবই করা হয়েছে। চিকিৎসায় বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছি। অরোরা, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা আহতদের সেবা দিয়েছে পরিণামের কথা চিন্তা না করেই। নুরুল ইসলাম বুলবুল তাদের মোবারকবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা: আতিয়ার রহমান, ডা: জি এম ফারুক হোসেন, ডা: রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, ডা: হাসানুল বান্না, ডা: আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, ডা: মাহমুদুর রহমান, ডা: আব্দুল মালেক, ডা: মোহাম্মদ হোসেন, ডা: মাহমুদা মিতু, ডা: কানিজ ফাতেমা রিফাত, ডা: শাহীদুর রহমান খান, ডা: এস এম মামুন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট শহীদ মুসতাকিম বিল্লাহর স্ত্রী নাইমা আইরিন মিতু প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন শহীদ ডা: সজীব সরকারের বাবাসহ এডিএফর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।




















