ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া পদ্মবিল অস্তিত্ব সংকটে
- আপডেট সময় : ১২:০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫ ৯৬ বার পড়া হয়েছে
২০২০ সালে বিলে ছুটে আসেন বেঙ্গল প্লানেট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক সিকদার একে সামসুদ্দিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রাখা হরি সরকার। তারা এই বিলের দুর্লভ প্রজাতির হলুদ পদ্মের মূল, কাণ্ড, শাখা, ফুল গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগসহ আমেরিকায় প্রেরণ করেন। ২০২১ সালে বিলটির সার্বিক সহযোগিতায় ইউনেস্কো এগিয়ে এলে বিলের প্রবেশ পথসহ বেশ কয়েকটি সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, হলুদ পদ্মের বিশেষ বিশেষ জায়গাজুড়ে লাল পতাকা টানানো হয়। পাহারাদারের ব্যবস্থা করা হয়। দর্শনার্থী বাড়তে থাকে অস্বাভাবিকভাবে। বিলে কমপক্ষে দুই ডজন খণ্ডকালীন মাঝি নৌকার বিনিময়ে দর্শনার্থীদের কল্যাণে রোজগারে নেমে পড়েন। এ সময় প্রশাসনের লোকজনও ঘনঘন বিলে আসার সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় কিছুটা তোড়জোড় দেখা গেছে। সে সময় কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে কেউবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পিকনিক স্টাইলে বিনোদন পেতে এই বিলের সৌন্দর্য অবলোকন করেছেন। কিন্তু বর্তমানে বিলটি অযত্নে-অবহেলায় অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দেখার যেন কেউ নেই।
গঠন করা হয় স্থানীয় ১১ তরুণকে নিয়ে ‘পদ্ম বিল সংরক্ষণ কমিটি’। সিদ্ধান্ত হয় বিলের পদ্ম সংরক্ষণ, দর্শনার্থী বা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নৌকার ঘাট নির্ধারণ, নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে নৌকা নিয়ে বিল পরিদর্শন, বিলের জমি অধিগ্রহণের। এ নিয়ে সে সময় চার দফা বৈঠক করে এই কমিটি। নৌকা নিয়ে চলাচলের কারণে বিলের ফুল নষ্ট হওয়ায় সরকারিভাবে নৌকার মাঝিদের নৌকা পরিচালনা বন্ধসহ সাহায্য-সহযোগিতাও করা হয়। কিন্তু ২০২৩ এর পর থেকে বিলটি আগের অবস্থানে ফিরে যায়। অধিগ্রহণের আশ্বাস কার্যকর না হওয়ায় জমির মালিকপক্ষ চাষাবাদসহ মাছ ধরা, বিল থেকে কচুরিপানা, শুষ্ক মৌসুমে ঘাস কাটা স্বাভাবিক নিয়মে চলতে থাকে। এক সময় ইউনেস্কোর ঝুলানো সাইনবোর্ড, লাল পতাকা, নির্দেশনা ইত্যাদি তুলে ফেলে দেয়। অসচেতন দর্শনার্থীরা বিল পরিদর্শনে গিয়ে মাঝিদের সহযোগিতায় অর্থের বিনিময়ে হলুদসহ অন্যান্য পদ্ম ছিঁড়ে নেয়। ফলে ২০২৩ পরবর্তী বিলটি একেবারেই অভিভাবকশূন্য হয়ে আছে।
বিলের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. রাখা হরি সরকার বলেন, আমি এবং বেঙ্গল প্লানেট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক সিকদার একে সামসুদ্দিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। পরিবেশ মন্ত্রণালয়েও একটা প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি হলুদ পদ্ম টিকিয়ে রাখতে বিলটি সংরক্ষণসহ দর্শনার্থীদের যাতায়াত ও অন্যান্য সুবিধায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পাব।





















