২৬ বছরের শিক্ষকতা শেষে রাজশাহী কলেজে ফুলেল শুভেচ্ছায় অধ্যাপক পার্থ সারথির বিদায়
- আপডেট সময় : ০১:৩৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের খ্যাতিমান শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর পার্থ সারথি বিশ্বাস রাজশাহী কলেজে তার দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষকতা শেষে সকলের ভালোবাসায় ফুলেল সংবর্ধনার মাধ্যমে তার শিক্ষকতা জীবন শেষ করলেন।
বুধবার (৯ জুলাই) সকাল ১০ টায় কলেজ প্রাঙ্গণে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে প্রিয় শিক্ষককে শেষ বারের মতো বরণ শেষে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। এসময় তার জীবনী নিয়ে একটি মান পত্র পাঠ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী। এছাড়াও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ সেরাজ উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী প্রসঙ্গে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী বলেন, পার্থ সারথি স্যারের আজকের বিদায় অনুষ্ঠানে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বলে দেয় শিক্ষক হিসেবে তিনি অত্যন্ত সফল একজন ব্যক্তি। তার কথা বলার মধ্যে আমি সবসময় অন্যরকম একটা আর্ট বরাবরই লক্ষ্য করেছি। তিনি বলেন, তার শিক্ষকতার ধরণ ও শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে যাওয়ার যে গুণাবলী সেটি সবসময় অন্যান্য শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি তার শিক্ষকতা জীবনের সার্থকতা কে উপস্থাপন করে। আমরা সবসময় তার মধ্যে যে দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখেছি তা সত্যি অতুলনীয়। শিক্ষকতা জীবনের পরিসমাপ্তি শেষে তার বাকি জীবনটা যেন কল্যাণকর হয় এই প্রত্যাশা থাকবে।
আবেগঘন কন্ঠে প্রফেসর পার্থ সারথি বিশ্বাস বলেন, আমি সবসময় আমার দায়িত্ব যথাযথ পালন করার চেষ্টা করেছি। তবে আজকে সকলের অনুভূতি শুনে আমার মনে হয়েছে এবং আশ্বস্ত হতে পেরেছি যে আমি আমার দায়িত্ব পালনে সার্থক। আমি সবসময় আমার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। আমার ব্যস্ততা সবসময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে থাকুক এটাই চেয়েছিলাম তবে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আমি হয়ত পুরোটা সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাটাতে পারিনি। এই একটা আক্ষেপ আমার সবসময়ই ছিলো এবং থাকবে। দিনশেষে যা পেয়েছি তা আমার কল্পনার বাইরে।
এ সময় তিনি তার শিক্ষকতা জীবনের বিদায়ের দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সকল সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বিদায়ী অনুষ্ঠানের আলোচনায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে তার শিক্ষকতার দক্ষতা ও সুসম্পর্কের কথা উঠে আসে এবং অনুষ্ঠান শেষে তাকে ফুল ও স্কেচ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য তিনি ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর ১৯৯৪ সালে বদলি হয়ে রাজশাহী কলেজে আসেন এবং মাঝের পাঁচ বছর শিক্ষা ছুটি বাদে একটানা ২৬ বছরেরও অধিক সময় তিনি রাজশাহী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করে গেছেন।





















