ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মুসলিম জাতিসত্তার ঐতিহাসিক পটভূমি-৪

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫ ৮৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, এই পর্বে আমি খিলাফত, প্যান ইসলামিজম এবং মুসলিম জাতিত্তা সম্পর্কে আলোচনা করব।

খোলাফায়ে রাশেদীন এর পর থেকে মো‌‌্গল আক্রমণের কয়েক বছর ব্যতিত ইসলামী শক্তি সারা পূথিবীতে আঠারো শতক পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখে । এই সময় অষ্ট্রিয়ার দানিয়ূব নদীর পূর্ব তীর হতে বার্মার আরাকান পর্যন্ত এবং জিব্লাটা প্রনালী হতে চীনের উইঘুর পর্যন্ত ইসলামী সালতানাতের সীমানা ছিল। উসমানীয় খিলাফত তিনটি মহাদেশ জুড়ে তাদের শাসন ছিল । অতঃপর পারস্যের সাফাভী সাম্রাজ্য সীমানা আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। হিন্দু কুশ পর্বতের পাদদেশ থেকে বার্মা পর্যন্ত মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল

ঊনবিংশ শতাব্দীতে উসমানীয় খিলাফত দূর্বল হয়ে পড়ে , এদিকে ভারতে ১৮৫৭ সালে মোগল সাম্রাজ্যের পতন হয় এবং পারস্যের কাজার রাজব‌‌্শ সাফাভীদের জৌলুস হারিয়ে ফেলে। মুসলিম আমিরাত , সালতানাত একের পর এক অমুসলিমদের পদাতন হতে থাকে, এমতাবস্থায় সৈয়দ জামাল উদ্দিন আফগানী নামক এক মনিষীর আবির্ভাব ঘটে যিনি উসমানীয় খলিফার অধীনে মুসলিম বিশ্বকে একত্রিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

১৮৫৭ সালে মোগল সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতীয় মুসলমানরা হতাশ হয়ে পড়ে এবং মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হয়। ১৮৫৭ সালের পর সৈয়দ জামাল উদ্দিন আফগানীকে ইংরেজরা কলকাতায় নির্বাসিত করলে সেখানে তিনি মুসলমানদের স্বাধীনতার বানী প্রচার করেন । এদিকে মুসলিম নেতারা তার নিকট প্যান ইসলামিজম এর দীক্ষা নেয় যার মধ্যে সোহরাওয়ার্দীর পিতা ও চাচা অন্যতম। বস্তুত ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে খিলাফতের সাথে যোগসূত্র এবং মুসলিম জাতিসত্তা বিকাশের মধ্যমনি হলেন প্যান ইসলামিজম যার প্রবক্তা ছিলেন জামাল উদ্দিন আফগানী ।

এদিকে ১৮৮৬ সালে ভারতীয় ক‌ংগ্রেস গঠিত হলে সৈয়দ আহমেদ মুসলমানদেরকে এর কুফল সম্পর্কে সতর্ক করেন । এই হিসেবে ১৮৫৭ সালের পর মুসলিম জাতিসত্তার প্রবক্তা হয়ে উঠেন স্যার সৈয়দ আহমেদ। সৈয়দ আহমদ এর ইন্তেকালের পর মুসলিম জাতিসত্তার শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে আলীগড়ে চলতে থাকে।

মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যিনি নীরবে কাজ করেছেন তিনি হলেন মাওলানা আশরাফ আলী থানভী। যা হোক আশরাফ আলী থানভী সাহেব তার বন্ধু ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ সাহেব এর উপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

বি‌ংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আলীগড়ের পাশাপাশি ঢাকাকে কেন্দ্র করে মুসলিম জাতিসত্তার রাজনৈতিক বিকাশ শুরু হয় যার ফলে ১৯০৫ সালে মুসলিম স‌‌্খ্যাগরিষ্ট পূর্ব বাংলা ও আসাম নিয়ে একটি মুসলিম প্রদেশ গঠন এবং ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠন ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি মাইলফলক। অতঃপর ১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলন এবং ১৯৪৭ সালে মুসলিম জাতিসত্তা ও প্যান ইসলামিজম এর ভিত্তিতে পাকিস্তান গঠন অত্র এলাকার মুসলমানদের জন্য মেঘনা কার্টা। বস্তুত ১৮৫৭ সাল হতে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফত, প্যান ইসলামিজম এবং মুসলিম জাতিসত্তা যথেষ্ট প্রভাব সৃষ্টি করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মুসলিম জাতিসত্তার ঐতিহাসিক পটভূমি-৪

আপডেট সময় : ১১:৪০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, এই পর্বে আমি খিলাফত, প্যান ইসলামিজম এবং মুসলিম জাতিত্তা সম্পর্কে আলোচনা করব।

খোলাফায়ে রাশেদীন এর পর থেকে মো‌‌্গল আক্রমণের কয়েক বছর ব্যতিত ইসলামী শক্তি সারা পূথিবীতে আঠারো শতক পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখে । এই সময় অষ্ট্রিয়ার দানিয়ূব নদীর পূর্ব তীর হতে বার্মার আরাকান পর্যন্ত এবং জিব্লাটা প্রনালী হতে চীনের উইঘুর পর্যন্ত ইসলামী সালতানাতের সীমানা ছিল। উসমানীয় খিলাফত তিনটি মহাদেশ জুড়ে তাদের শাসন ছিল । অতঃপর পারস্যের সাফাভী সাম্রাজ্য সীমানা আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। হিন্দু কুশ পর্বতের পাদদেশ থেকে বার্মা পর্যন্ত মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল

ঊনবিংশ শতাব্দীতে উসমানীয় খিলাফত দূর্বল হয়ে পড়ে , এদিকে ভারতে ১৮৫৭ সালে মোগল সাম্রাজ্যের পতন হয় এবং পারস্যের কাজার রাজব‌‌্শ সাফাভীদের জৌলুস হারিয়ে ফেলে। মুসলিম আমিরাত , সালতানাত একের পর এক অমুসলিমদের পদাতন হতে থাকে, এমতাবস্থায় সৈয়দ জামাল উদ্দিন আফগানী নামক এক মনিষীর আবির্ভাব ঘটে যিনি উসমানীয় খলিফার অধীনে মুসলিম বিশ্বকে একত্রিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

১৮৫৭ সালে মোগল সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতীয় মুসলমানরা হতাশ হয়ে পড়ে এবং মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হয়। ১৮৫৭ সালের পর সৈয়দ জামাল উদ্দিন আফগানীকে ইংরেজরা কলকাতায় নির্বাসিত করলে সেখানে তিনি মুসলমানদের স্বাধীনতার বানী প্রচার করেন । এদিকে মুসলিম নেতারা তার নিকট প্যান ইসলামিজম এর দীক্ষা নেয় যার মধ্যে সোহরাওয়ার্দীর পিতা ও চাচা অন্যতম। বস্তুত ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে খিলাফতের সাথে যোগসূত্র এবং মুসলিম জাতিসত্তা বিকাশের মধ্যমনি হলেন প্যান ইসলামিজম যার প্রবক্তা ছিলেন জামাল উদ্দিন আফগানী ।

এদিকে ১৮৮৬ সালে ভারতীয় ক‌ংগ্রেস গঠিত হলে সৈয়দ আহমেদ মুসলমানদেরকে এর কুফল সম্পর্কে সতর্ক করেন । এই হিসেবে ১৮৫৭ সালের পর মুসলিম জাতিসত্তার প্রবক্তা হয়ে উঠেন স্যার সৈয়দ আহমেদ। সৈয়দ আহমদ এর ইন্তেকালের পর মুসলিম জাতিসত্তার শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে আলীগড়ে চলতে থাকে।

মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যিনি নীরবে কাজ করেছেন তিনি হলেন মাওলানা আশরাফ আলী থানভী। যা হোক আশরাফ আলী থানভী সাহেব তার বন্ধু ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ সাহেব এর উপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

বি‌ংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আলীগড়ের পাশাপাশি ঢাকাকে কেন্দ্র করে মুসলিম জাতিসত্তার রাজনৈতিক বিকাশ শুরু হয় যার ফলে ১৯০৫ সালে মুসলিম স‌‌্খ্যাগরিষ্ট পূর্ব বাংলা ও আসাম নিয়ে একটি মুসলিম প্রদেশ গঠন এবং ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠন ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি মাইলফলক। অতঃপর ১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলন এবং ১৯৪৭ সালে মুসলিম জাতিসত্তা ও প্যান ইসলামিজম এর ভিত্তিতে পাকিস্তান গঠন অত্র এলাকার মুসলমানদের জন্য মেঘনা কার্টা। বস্তুত ১৮৫৭ সাল হতে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফত, প্যান ইসলামিজম এবং মুসলিম জাতিসত্তা যথেষ্ট প্রভাব সৃষ্টি করে।