ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মুসলিম জাতিসত্তার ঐতিহাসিক পটভূমি ০২

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫ ১০২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, এই পর্বে আমি উম্মাহ, মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে আলোচনা করব। অনেকের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, উম্মাহ ও মূসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ উম্মাহর কনসেপ্ট এর সাথে সা‌‌্ঘর্ষিক । উম্মাহ ও মুসলিম জাতিসত্তার মধ্যে কোন বিরোধ নেই।

পাঠক, উম্মাহর কনসেপ্ট সমগ্র বিশ্বব্যাপী প্রযোজ্য। কিন্তু মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ আধুনিক যুগে রাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ত। কারণ এক হাজার মুসলিম যদি উত্তর কোরিয়ায় বসবাস করে তারা উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত। মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এই এক হাজার মুসলিম রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। যেখানে অমুসলিম শক্তির বিরুদ্ধে একটি মুসলিম জনগোষ্ঠী নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য স্বায়ত্তশাসন অথবা রাষ্ট্র গঠনের পর্যায়ে উপনীত হয় তখন মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদের উখান ঘটে । উদাহরণ স্বরূপ ১৯০৫ সালের মুসলিম স‌‌্খ্যাগরিষ্ট বে‌‌্গল আসাম প্রদেশ গঠন, বর্তমানে ভারতের কাশ্মীরের অবস্থা সহ আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে।

আবার মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে অনেক সময় রাষ্ট্র গঠিত হয় উদাহরণ স্বরূপ সাবেক পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশ এবং বসনিয়া। বর্তমান বাংলাদেশ স‌‌্ বিধান মোতাবেক সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের লিগ্যাসি বহন করে।

পাঠক, উম্মাহর কনসেপ্ট মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ অপেক্ষা ব্যাপক । উম্মাহর কনসেপ্ট কোন নির্দিষ্ট ভূ খন্ডে সীমিত নয় । মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ উম্মাহর অংশ, কারণ মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে যদি কোন মুসলিম রাষ্ট্র গঠিত হয় তখন আপনি ঐ রাষ্ট্রকে উম্মাহ হতে খারিজ করার কোন সুযোগ নেই। আবার সৌদি আরবের ন্যায় গোত্র ভিত্তিক কোন রাষ্ট্র গঠন হলেও তাকে উম্মাহ হতে খারিজ করতে পারবেন না, আবার ভারতের মুসলমানদেরকে আপনি উম্মাহ হতে খারিজ করতে পারবেন না।

উম্মাহর কোন জনগোষ্ঠী যখন নিজেদেরকে অমুসলিম শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য চেষ্টা করে তখন মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। উদাহরণ স্বরূপ বসনিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ ভূখণ্ড গত বিষয় , পক্ষান্তরে উম্মাহ কোন নির্দিষ্ট ভূ খন্ডগত বিষয় নয়। পাশাপাশি একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র থাকলে সেখানে উম্মাহ কনসেপ্ট কার্যকর, মুসলিম জাতিসত্তার বিষয়টি কার্যকর নয় । মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ একান্তই অমুসলিমদের আগ্রাসনের হাত হতে মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি চেতনা।

মুসলিম জাতিসত্তার বিষয়টি পূথিবীর সব মুসলিম দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়, এটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও বসনিয়ার জন্য কঠোরভাবে প্রযোজ্য, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ ও ব্রনাই এর জন্য অবস্থানগত কারণে প্রযোজ্য ।

মুসলিম জাতিসত্তা অনেক সময় অমুসলিম শাষন অথবা অমুসলিম দেশে ও প্রযোজ্য হয়ে থাকে, উদাহরণ স্বরূপ ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ার মুসলিম, ভারতের কাশ্মীর, ১৯০৫ সালের মুসলিম স‌‌্খ্যাগরিষ্ট বে‌‌্গল আসাম প্রদেশ, দক্ষিণ থাইল্যান্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠী ইত্যাদি।

মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ উম্মাহর সদস্যদের অস্তিত্ব রক্ষার হাতিয়ার। সাধারণত মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ মূল মুসলিম ভূখন্ড তথা রাষ্ট্রগুলো হতে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড। উদাহরণ স্বরূপ বা‌‌্লাদেশ, মিন্দানাওয়া ।

মুসলিম জাতিসত্তা অথবা মুসলিম জাতীয়তাবাদ উম্মাহকে শক্তি শালী করে। উদাহরণ স্বরূপ বা‌‌্লাদেশ মুসলিম মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হবার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে মুসলিম ও ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।

পাঠক, সভ্যতার ইতিহাস যদি পর্যালোচনা করা হয় তাহলে দেখবেন যে একটি জনগোষ্ঠী যখন অপর একটি জনগোষ্ঠী দ্বারা অত্যাচারিত হয় এবং তাদেরকে নির্মূল করার চেষ্টা করে তখন সেই মজলুম জনগোষ্ঠী নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি সাধারণ পরিচয়ে পরিচিত হয়ে থাকে।।

বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার গ্যারান্টার হল মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ। কারণ এদেশের ভিত্তি হল মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ । যদি মুসলিম জাতিসত্তা এদেশের মূল ভিত্তি না হত , তাহলে এই ভূখণ্ড ভারত অথবা বার্মার অংশ হত ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মুসলিম জাতিসত্তার ঐতিহাসিক পটভূমি ০২

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, এই পর্বে আমি উম্মাহ, মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে আলোচনা করব। অনেকের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, উম্মাহ ও মূসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ উম্মাহর কনসেপ্ট এর সাথে সা‌‌্ঘর্ষিক । উম্মাহ ও মুসলিম জাতিসত্তার মধ্যে কোন বিরোধ নেই।

পাঠক, উম্মাহর কনসেপ্ট সমগ্র বিশ্বব্যাপী প্রযোজ্য। কিন্তু মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ আধুনিক যুগে রাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ত। কারণ এক হাজার মুসলিম যদি উত্তর কোরিয়ায় বসবাস করে তারা উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত। মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এই এক হাজার মুসলিম রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। যেখানে অমুসলিম শক্তির বিরুদ্ধে একটি মুসলিম জনগোষ্ঠী নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য স্বায়ত্তশাসন অথবা রাষ্ট্র গঠনের পর্যায়ে উপনীত হয় তখন মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদের উখান ঘটে । উদাহরণ স্বরূপ ১৯০৫ সালের মুসলিম স‌‌্খ্যাগরিষ্ট বে‌‌্গল আসাম প্রদেশ গঠন, বর্তমানে ভারতের কাশ্মীরের অবস্থা সহ আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে।

আবার মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে অনেক সময় রাষ্ট্র গঠিত হয় উদাহরণ স্বরূপ সাবেক পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশ এবং বসনিয়া। বর্তমান বাংলাদেশ স‌‌্ বিধান মোতাবেক সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের লিগ্যাসি বহন করে।

পাঠক, উম্মাহর কনসেপ্ট মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ অপেক্ষা ব্যাপক । উম্মাহর কনসেপ্ট কোন নির্দিষ্ট ভূ খন্ডে সীমিত নয় । মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ উম্মাহর অংশ, কারণ মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে যদি কোন মুসলিম রাষ্ট্র গঠিত হয় তখন আপনি ঐ রাষ্ট্রকে উম্মাহ হতে খারিজ করার কোন সুযোগ নেই। আবার সৌদি আরবের ন্যায় গোত্র ভিত্তিক কোন রাষ্ট্র গঠন হলেও তাকে উম্মাহ হতে খারিজ করতে পারবেন না, আবার ভারতের মুসলমানদেরকে আপনি উম্মাহ হতে খারিজ করতে পারবেন না।

উম্মাহর কোন জনগোষ্ঠী যখন নিজেদেরকে অমুসলিম শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য চেষ্টা করে তখন মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। উদাহরণ স্বরূপ বসনিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ ভূখণ্ড গত বিষয় , পক্ষান্তরে উম্মাহ কোন নির্দিষ্ট ভূ খন্ডগত বিষয় নয়। পাশাপাশি একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র থাকলে সেখানে উম্মাহ কনসেপ্ট কার্যকর, মুসলিম জাতিসত্তার বিষয়টি কার্যকর নয় । মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ একান্তই অমুসলিমদের আগ্রাসনের হাত হতে মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি চেতনা।

মুসলিম জাতিসত্তার বিষয়টি পূথিবীর সব মুসলিম দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়, এটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও বসনিয়ার জন্য কঠোরভাবে প্রযোজ্য, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ ও ব্রনাই এর জন্য অবস্থানগত কারণে প্রযোজ্য ।

মুসলিম জাতিসত্তা অনেক সময় অমুসলিম শাষন অথবা অমুসলিম দেশে ও প্রযোজ্য হয়ে থাকে, উদাহরণ স্বরূপ ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ার মুসলিম, ভারতের কাশ্মীর, ১৯০৫ সালের মুসলিম স‌‌্খ্যাগরিষ্ট বে‌‌্গল আসাম প্রদেশ, দক্ষিণ থাইল্যান্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠী ইত্যাদি।

মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ উম্মাহর সদস্যদের অস্তিত্ব রক্ষার হাতিয়ার। সাধারণত মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ মূল মুসলিম ভূখন্ড তথা রাষ্ট্রগুলো হতে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড। উদাহরণ স্বরূপ বা‌‌্লাদেশ, মিন্দানাওয়া ।

মুসলিম জাতিসত্তা অথবা মুসলিম জাতীয়তাবাদ উম্মাহকে শক্তি শালী করে। উদাহরণ স্বরূপ বা‌‌্লাদেশ মুসলিম মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হবার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে মুসলিম ও ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।

পাঠক, সভ্যতার ইতিহাস যদি পর্যালোচনা করা হয় তাহলে দেখবেন যে একটি জনগোষ্ঠী যখন অপর একটি জনগোষ্ঠী দ্বারা অত্যাচারিত হয় এবং তাদেরকে নির্মূল করার চেষ্টা করে তখন সেই মজলুম জনগোষ্ঠী নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি সাধারণ পরিচয়ে পরিচিত হয়ে থাকে।।

বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার গ্যারান্টার হল মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ। কারণ এদেশের ভিত্তি হল মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ । যদি মুসলিম জাতিসত্তা এদেশের মূল ভিত্তি না হত , তাহলে এই ভূখণ্ড ভারত অথবা বার্মার অংশ হত ।