ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায় ইরান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে কীভাবে নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হবে। সোমবার (২ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি এই মন্তব্য করেন। কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ প্রস্তাব জমা দেওয়ার দাবি করার পর-এমন মন্তব্য করলেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

তবে বেশ কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করছে এবং তা প্রত্যাখ্যানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনাতে প্রকাশিত এক বক্তব্যে বাঘায়ি বলেন, নিষেধাজ্ঞার ‘বাস্তব সমাপ্তি’ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিস্তারিত জানাতে হবে ‘কীভাবে ও কোন ব্যবস্থার মাধ্যমে’ সেগুলো তুলে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমেরিকান পক্ষ এখনও প্রয়োজনীয় স্পষ্টতা প্রদান করেনি।’

বাঘায়ি আরও বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখবে।

মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান না ইরান কোনও ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাক—এটিকে তিনি ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জাতিসংঘের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের নিচে হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৪ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

বাঘায়ি ওই প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে উড়িয়ে দেন। বলেন, কিছু পশ্চিমা দেশ জাতিসংঘের ওপর চাপ দিচ্ছে যাতে তারা ইরানের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস উদ্ধৃত সরকারি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন প্রস্তাবে ইরানের সব ধরনের সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যদিও তেহরান হোয়াইট হাউজের ‘ইরানের স্বার্থ উপযোগী’ বলা ওই প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা বলেছে এখনও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বাঘায়ি বলেন, ‘কোনও একটি লেখা পাওয়া মানে এটি গ্রহণ করা নয়। এমনকি এটি গ্রহণযোগ্য বলেও ধরে নেওয়া যায় না।’

রয়টার্স একটি অজ্ঞাতনামা ইরানি কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, তেহরান ‘মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া খসড়া করছে’, যা প্রত্যাখ্যান হিসেবেও গণ্য হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবটি ‘অগ্রহণযোগ্য’। কারণ এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান নরম করেনি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো ‘সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা’ দেয়নি।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পূর্বের চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে ইরান ১২ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির লক্ষ্যে পাঁচ দফা আলোচনা করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায় ইরান

আপডেট সময় : ১২:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে কীভাবে নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হবে। সোমবার (২ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি এই মন্তব্য করেন। কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ প্রস্তাব জমা দেওয়ার দাবি করার পর-এমন মন্তব্য করলেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

তবে বেশ কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করছে এবং তা প্রত্যাখ্যানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনাতে প্রকাশিত এক বক্তব্যে বাঘায়ি বলেন, নিষেধাজ্ঞার ‘বাস্তব সমাপ্তি’ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিস্তারিত জানাতে হবে ‘কীভাবে ও কোন ব্যবস্থার মাধ্যমে’ সেগুলো তুলে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমেরিকান পক্ষ এখনও প্রয়োজনীয় স্পষ্টতা প্রদান করেনি।’

বাঘায়ি আরও বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখবে।

মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান না ইরান কোনও ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাক—এটিকে তিনি ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জাতিসংঘের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের নিচে হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৪ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

বাঘায়ি ওই প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে উড়িয়ে দেন। বলেন, কিছু পশ্চিমা দেশ জাতিসংঘের ওপর চাপ দিচ্ছে যাতে তারা ইরানের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস উদ্ধৃত সরকারি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন প্রস্তাবে ইরানের সব ধরনের সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যদিও তেহরান হোয়াইট হাউজের ‘ইরানের স্বার্থ উপযোগী’ বলা ওই প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা বলেছে এখনও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বাঘায়ি বলেন, ‘কোনও একটি লেখা পাওয়া মানে এটি গ্রহণ করা নয়। এমনকি এটি গ্রহণযোগ্য বলেও ধরে নেওয়া যায় না।’

রয়টার্স একটি অজ্ঞাতনামা ইরানি কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, তেহরান ‘মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া খসড়া করছে’, যা প্রত্যাখ্যান হিসেবেও গণ্য হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবটি ‘অগ্রহণযোগ্য’। কারণ এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান নরম করেনি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো ‘সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা’ দেয়নি।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পূর্বের চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে ইরান ১২ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির লক্ষ্যে পাঁচ দফা আলোচনা করেছে।