ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

৭৯ বছর বয়সেও সুনিপুণ দক্ষতায় সেলাই মেশিন চালাচ্ছেন সাইফুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫ ১২১ বার পড়া হয়েছে

মুজাহিদুল ইসলাম: বয়স শুধু একটি সংখ্যা মাত্র, মানুষের ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো কিছুই বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ৭৯ বছর বয়সী মো: সাইফুল ইসলাম। বৃদ্ধি বয়সে অনেকেই যেখানে বিশ্রাম নেওয়ার কথা চিন্তা করেন, সেখানে বয়সের ভারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেলাই মেশিনের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে চলেছেন সাইফুল ইসলাম। সময়ের সাথে বয়স বাড়লেও এখনো কমেনি তার সেলাইয়ের দক্ষতা বরং আগের মতোই এখনো সুনিপুণ দক্ষতার সাথে সেলাই মেশিনে ফুটিয়ে তুলছেন বাহারি রকমের সব ডিজাইন।

মো: সাইফুল ইসলাম (৭৯)। রাজশাহী শহরের বিমান চত্ত্বর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। ছোট বেলায় ১৯৬২ সালের দিকে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ভারতের মুসলিমদের উপর যখন নির্যাতন বৃদ্ধি পায়, তখন তিনি একটি হাফ পেন্ট আর পরণে একটি শার্ট পরিহিত অবস্থায় জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাংলাদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তখন থেকেই শুরু তার জীবন সংগ্রামের গল্প।

একসময় সঙ্গীতের প্রতি তার গভীর টান থাকায় দীর্ঘদিন সঙ্গীত চর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে অজ্ঞাত কোনো কারণ বশত সঙ্গীত চর্চা চলমান রাখতে পারেননি। এছাড়াও তিনি রাজশাহীর নিউমার্কেটে একসময় অন্যের দোকানে দীর্ঘদিন দর্জির কাজ করেছেন। পরবর্তীতে একসময় তিনি নিজের নামে একটি দর্জির দোকান আরম্ভ করেন।

বর্তমানে তার দোকান রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকার ওয়ে হোম আবাসিক হোটেলের পাশেই অবস্থিত। যেখানে
তিনি এখন পর্যন্ত তার কর্ম জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে চলেছে।

মো: সাইফুল ইসলাম তার দীর্ঘদিনের কর্মজীবন সম্পর্কে বলেন, তিনি এই পেশার সাথে প্রায় ১৯৭৬ সাল থেকে জড়িত। অলস জীবনযাপন তার পছন্দ নয়। এই পেশাটি তার কাছে খুব ভালো লাগে এবং এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে পরিশ্রমী ও সবল রেখেছেন। তার মতে একজন মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে যতটা সুস্থ সবল রাখতে পারে, অলস জীবনে সেটা সম্ভব নয়।

তিনি প্রতিদিন সকালে দোকানে আছেন আর রাতে বাসায় ফিরেন। অবসর সময়ে দোকানে থাকা টিভি দেখে তিনি তার অবসর সময় পার করেন। এছাড়াও তার স্কুল কলেজের ছেলেদের সাথে বেশ পরিচিতি রয়েছে। অবসর সময়ে স্কুল কলেজের ছেলেরা তার দোকানে আসলে তাদের সাথে গল্প করেও তার সময়টা বেশ আনন্দে কাটে।

এছাড়াও তিনি এই বৃদ্ধ বয়সেও প্রতিনিয়ত মাসে বেশ কয়েকবার দূরের বিভিন্ন জায়গা, আত্মীয়দের বাড়িতে প্রতিনিয়ত ঘুরতে যান। তার কাছে এই বয়সেও ঘুরে বেড়ানো বেশ আনন্দের বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, তার ছেলেরা তাকে এই বয়সে কাজ না করে বাসায় বিশ্রামের কথা বলেন। কিন্তু তার ইচ্ছা তিনি কখনো কারো প্রতি নির্ভরশীল না থেকে যতদিন বাঁচবেন নিজের উপর নির্ভরশীল থাকতে চান। তিনি মনে করেন নিজে কিছু করে নিজের প্রতি নির্ভরশীল থাকার মধ্যে ভিন্নধর্মী প্রশান্তি রয়েছে।

বর্তমান সময়ের বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পৃথিবীতে কোনো কাজ ছোট নয়, সব পেশার মর্যাদা রয়েছে। অনেক যুবকদের দেখি লেখাপড়া শেষ করে ছোট কাজকে লজ্জাজনক মনে করে। তার মতে লেখাপড়া শেষ করে বাবার কাঁধের উপর ভর না করে নিজেদের কিছু একটা করার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমান সমাজের কাছে সাইফুল ইসলামের জীবন সংগ্রাম অনুপ্রেরণার জীবন্ত উদাহরণ। সৎ মানসিকতা আর অধ্যবসায় জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় এই বার্তায় যেন তিনি তার প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামের তুলে ধরে চলেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৭৯ বছর বয়সেও সুনিপুণ দক্ষতায় সেলাই মেশিন চালাচ্ছেন সাইফুল

আপডেট সময় : ০২:২৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

মুজাহিদুল ইসলাম: বয়স শুধু একটি সংখ্যা মাত্র, মানুষের ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো কিছুই বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ৭৯ বছর বয়সী মো: সাইফুল ইসলাম। বৃদ্ধি বয়সে অনেকেই যেখানে বিশ্রাম নেওয়ার কথা চিন্তা করেন, সেখানে বয়সের ভারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেলাই মেশিনের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে চলেছেন সাইফুল ইসলাম। সময়ের সাথে বয়স বাড়লেও এখনো কমেনি তার সেলাইয়ের দক্ষতা বরং আগের মতোই এখনো সুনিপুণ দক্ষতার সাথে সেলাই মেশিনে ফুটিয়ে তুলছেন বাহারি রকমের সব ডিজাইন।

মো: সাইফুল ইসলাম (৭৯)। রাজশাহী শহরের বিমান চত্ত্বর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। ছোট বেলায় ১৯৬২ সালের দিকে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ভারতের মুসলিমদের উপর যখন নির্যাতন বৃদ্ধি পায়, তখন তিনি একটি হাফ পেন্ট আর পরণে একটি শার্ট পরিহিত অবস্থায় জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাংলাদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তখন থেকেই শুরু তার জীবন সংগ্রামের গল্প।

একসময় সঙ্গীতের প্রতি তার গভীর টান থাকায় দীর্ঘদিন সঙ্গীত চর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে অজ্ঞাত কোনো কারণ বশত সঙ্গীত চর্চা চলমান রাখতে পারেননি। এছাড়াও তিনি রাজশাহীর নিউমার্কেটে একসময় অন্যের দোকানে দীর্ঘদিন দর্জির কাজ করেছেন। পরবর্তীতে একসময় তিনি নিজের নামে একটি দর্জির দোকান আরম্ভ করেন।

বর্তমানে তার দোকান রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকার ওয়ে হোম আবাসিক হোটেলের পাশেই অবস্থিত। যেখানে
তিনি এখন পর্যন্ত তার কর্ম জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে চলেছে।

মো: সাইফুল ইসলাম তার দীর্ঘদিনের কর্মজীবন সম্পর্কে বলেন, তিনি এই পেশার সাথে প্রায় ১৯৭৬ সাল থেকে জড়িত। অলস জীবনযাপন তার পছন্দ নয়। এই পেশাটি তার কাছে খুব ভালো লাগে এবং এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে পরিশ্রমী ও সবল রেখেছেন। তার মতে একজন মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে যতটা সুস্থ সবল রাখতে পারে, অলস জীবনে সেটা সম্ভব নয়।

তিনি প্রতিদিন সকালে দোকানে আছেন আর রাতে বাসায় ফিরেন। অবসর সময়ে দোকানে থাকা টিভি দেখে তিনি তার অবসর সময় পার করেন। এছাড়াও তার স্কুল কলেজের ছেলেদের সাথে বেশ পরিচিতি রয়েছে। অবসর সময়ে স্কুল কলেজের ছেলেরা তার দোকানে আসলে তাদের সাথে গল্প করেও তার সময়টা বেশ আনন্দে কাটে।

এছাড়াও তিনি এই বৃদ্ধ বয়সেও প্রতিনিয়ত মাসে বেশ কয়েকবার দূরের বিভিন্ন জায়গা, আত্মীয়দের বাড়িতে প্রতিনিয়ত ঘুরতে যান। তার কাছে এই বয়সেও ঘুরে বেড়ানো বেশ আনন্দের বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, তার ছেলেরা তাকে এই বয়সে কাজ না করে বাসায় বিশ্রামের কথা বলেন। কিন্তু তার ইচ্ছা তিনি কখনো কারো প্রতি নির্ভরশীল না থেকে যতদিন বাঁচবেন নিজের উপর নির্ভরশীল থাকতে চান। তিনি মনে করেন নিজে কিছু করে নিজের প্রতি নির্ভরশীল থাকার মধ্যে ভিন্নধর্মী প্রশান্তি রয়েছে।

বর্তমান সময়ের বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পৃথিবীতে কোনো কাজ ছোট নয়, সব পেশার মর্যাদা রয়েছে। অনেক যুবকদের দেখি লেখাপড়া শেষ করে ছোট কাজকে লজ্জাজনক মনে করে। তার মতে লেখাপড়া শেষ করে বাবার কাঁধের উপর ভর না করে নিজেদের কিছু একটা করার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমান সমাজের কাছে সাইফুল ইসলামের জীবন সংগ্রাম অনুপ্রেরণার জীবন্ত উদাহরণ। সৎ মানসিকতা আর অধ্যবসায় জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় এই বার্তায় যেন তিনি তার প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামের তুলে ধরে চলেছেন।