ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর আদালত চত্ত্বরে বেড়েছে পকেটমারের দৌরাত্ব-সর্বস্ব হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫ ১২৬ বার পড়া হয়েছে

রাহাবার হাবিব : রাজশাহীর আদালত চত্বর। উত্তর বঙ্গের অন্য সকল জেলার আদালতের চাইতে এই আদালতের গুরুত্ব অনেকটা বেশি। এখানে একাধারে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানার মামলা পরিচালিত হয়। সেই সাথে রাজশাহী মহানগরী ও রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় আদালতের কার্যক্রমও পরিচালিত হয় এখান থেকে।

এই আদালত চত্বরে অন্য সকল জেলার চাইতে বিচারিক আদালতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে বিচার প্রার্থীরা এসে থাকেন। রাজশাহীর আদালত পাড়া প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকে। এর মধ্যে পকেট মার অন্যতম। অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমান সময়ে আশংকাজনক ভাবে পকেট মারের শিকার হচ্ছেন সাধারণ বিচার প্রার্থীরা। চলতি সপ্তাহে গ্রাম থেকে আসা একাধিক ব্যক্তির টাকা ও মোবাইল খোয়া গেছে আদালতের বারান্দা হতে। আবার একাধিক পকেটমার জনতার হাতে ধরাও পড়েছে। এর পরো কমেনি পকেট মারের দৌরাত্ব।

১৯ মার্চ জেলা রাজশাহীর যুগ্ম জেলা জজ-২ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালার ইসরাইল হোসেন। বিচার প্রার্থীদের ভিরের মধ্যে তার পকেটে থাকা স্মার্ট ফোন ও নগদ টাকা খোয়া যায়। অনেক চেষ্টা তদবিরের পরোও তা উদ্ধার করতে পারেননি।

গত কাল বুধবার নগরীর দামকুড়া হাট থেকে আব্দুল মজিদ নামের ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। এ সময় তাঁর পাঞ্জাবীর পকেটে থাকা মোবাইল ও নগদ টাকা খোয়া যায়। ওই বৃদ্ধের সাথে থাকা ব্যক্তিরা ওই পকেটমারকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ও কিছু টাকা উদ্ধার করা গেলেও সম্পূর্ণ টাকা উদ্ধার করা যায়নি।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী ইসরাইল বলেন, হাজিরা দেয়ার জন্য কোর্টের বারান্দায় দাড়িয়ে ছিলাম। উকিলকে ফোন করার জন্য পকেটে হাত দিয়ে দেখি মোবাইল নাই। তার পর অনেক খোঁজাখুজি করেও পাইনি।

রাজশাহীর আদলত পাড়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনাকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান এই আদালতে একাধিক পকেটমার ঘোরাফেরা করে। গ্রামের নিরিহ মানুষদের বেছে বেছে টার্গেট করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। আমরা শুধু ভুক্তভোগীর কান্না দেখি আমাদের করার কিছুই নাই। এ ব্যাপারে বারের এ্যাকশন নেয়া উচিত।

এ ব্যাপারে রাজশাহী রাজশাহী এ্যাডভোকেট বার এসোসিয়েসনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জমসেদ আলী বলেন, পকেট মারের ঘটনা আমাদের কাছে আসেনি। মাঝে মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটছে শুনেছি কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কেউ অভিযোগ দেয়নি। এর পরোও আমরা আইন-শৃঙ্খলার মিটিংয়ে বিষয়টি জানিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীর আদালত চত্ত্বরে বেড়েছে পকেটমারের দৌরাত্ব-সর্বস্ব হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ১১:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

রাহাবার হাবিব : রাজশাহীর আদালত চত্বর। উত্তর বঙ্গের অন্য সকল জেলার আদালতের চাইতে এই আদালতের গুরুত্ব অনেকটা বেশি। এখানে একাধারে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানার মামলা পরিচালিত হয়। সেই সাথে রাজশাহী মহানগরী ও রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় আদালতের কার্যক্রমও পরিচালিত হয় এখান থেকে।

এই আদালত চত্বরে অন্য সকল জেলার চাইতে বিচারিক আদালতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে বিচার প্রার্থীরা এসে থাকেন। রাজশাহীর আদালত পাড়া প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকে। এর মধ্যে পকেট মার অন্যতম। অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমান সময়ে আশংকাজনক ভাবে পকেট মারের শিকার হচ্ছেন সাধারণ বিচার প্রার্থীরা। চলতি সপ্তাহে গ্রাম থেকে আসা একাধিক ব্যক্তির টাকা ও মোবাইল খোয়া গেছে আদালতের বারান্দা হতে। আবার একাধিক পকেটমার জনতার হাতে ধরাও পড়েছে। এর পরো কমেনি পকেট মারের দৌরাত্ব।

১৯ মার্চ জেলা রাজশাহীর যুগ্ম জেলা জজ-২ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালার ইসরাইল হোসেন। বিচার প্রার্থীদের ভিরের মধ্যে তার পকেটে থাকা স্মার্ট ফোন ও নগদ টাকা খোয়া যায়। অনেক চেষ্টা তদবিরের পরোও তা উদ্ধার করতে পারেননি।

গত কাল বুধবার নগরীর দামকুড়া হাট থেকে আব্দুল মজিদ নামের ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। এ সময় তাঁর পাঞ্জাবীর পকেটে থাকা মোবাইল ও নগদ টাকা খোয়া যায়। ওই বৃদ্ধের সাথে থাকা ব্যক্তিরা ওই পকেটমারকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ও কিছু টাকা উদ্ধার করা গেলেও সম্পূর্ণ টাকা উদ্ধার করা যায়নি।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী ইসরাইল বলেন, হাজিরা দেয়ার জন্য কোর্টের বারান্দায় দাড়িয়ে ছিলাম। উকিলকে ফোন করার জন্য পকেটে হাত দিয়ে দেখি মোবাইল নাই। তার পর অনেক খোঁজাখুজি করেও পাইনি।

রাজশাহীর আদলত পাড়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনাকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান এই আদালতে একাধিক পকেটমার ঘোরাফেরা করে। গ্রামের নিরিহ মানুষদের বেছে বেছে টার্গেট করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। আমরা শুধু ভুক্তভোগীর কান্না দেখি আমাদের করার কিছুই নাই। এ ব্যাপারে বারের এ্যাকশন নেয়া উচিত।

এ ব্যাপারে রাজশাহী রাজশাহী এ্যাডভোকেট বার এসোসিয়েসনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জমসেদ আলী বলেন, পকেট মারের ঘটনা আমাদের কাছে আসেনি। মাঝে মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটছে শুনেছি কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কেউ অভিযোগ দেয়নি। এর পরোও আমরা আইন-শৃঙ্খলার মিটিংয়ে বিষয়টি জানিয়েছি।