ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

শিক্ষকই ভবিষ্যতের নির্মাতা: শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে শিক্ষকের অপরিহার্য ভূমিকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫ ১৮২ বার পড়া হয়েছে

ড. মো: মাহিদ শেখ ,সাইকোলজিস্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ:  প্রায় সব শিশুই স্কুলে যায় এবং প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা সময় সেখানে কাটায়। এই দীর্ঘ সময়ের শিক্ষার পরিবেশ শিশুর মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই শিক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্তি আজকের যুগে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আধুনিক সমাজে শিক্ষকের ভূমিকা শুধু পাঠদান নয়, বরং একটি শিশুর মানসিক ও নৈতিক গঠনে সহায়ক এক পথপ্রদর্শকের মতো।

শিক্ষা যদিও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়ারই অংশ, তবে এটি সঠিক পথে পরিচালনার জন্য দক্ষ এক পরিচালকের প্রয়োজন হয়—সেই দায়িত্বটি পালন করেন শিক্ষক। আধুনিক শিক্ষক শুধু পাঠ্যবিষয় শেখান না, বরং শিক্ষার্থীর মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি, পাঠ্য বস্তুর গুরুত্ব অনুধাবনে সহায়তা এবং শেখার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের পথ দেখিয়ে থাকেন। শিশুর সাফল্যে তাঁকে উৎসাহিত করা এবং ব্যর্থতায় নতুন চেষ্টার অনুপ্রেরণা দেওয়া শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

শিক্ষকের এই ভূমিকা শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে একটি মূখ্য উপাদান। আধুনিক শিক্ষাবিদেরা মনে করেন, শিশুর আত্মউদ্বোধনের সুযোগ দিতে শিক্ষককে কখনো কখনো কিছুটা পেছনে সরে দাঁড়াতেও হয়, যাতে শিক্ষার্থী নিজের অভিজ্ঞতায় শেখার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। যদিও পাঠাগার, গবেষণাগার, বই—এসব শিক্ষার সরঞ্জাম থাকলেও সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ও নির্দেশনার জন্য একজন শিক্ষকের উপস্থিতি অপরিহার্য।

শিক্ষকের প্রভাব কেবল শিক্ষাবিষয়ক নয়, তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, ভাবভঙ্গি, মনোভাব ও নীতিও শিশুর মানসিক বিকাশে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শিক্ষকের চিন্তাধারা, মূল্যবোধ, এবং সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ছাত্রদের মধ্যে অবচেতনে সঞ্চারিত হয়। শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক যদি আন্তরিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল হয়, তবে তা শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন বিষয়ে শিশুর আগ্রহ সৃষ্টিও তাঁর অন্যতম কাজ। বিজ্ঞান, সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে শেখার আনন্দ তৈরি করার মতো পরিবেশ গড়তে পারেন কেবল একজন বিচক্ষণ শিক্ষক। শিশুকালেই যে আগ্রহ তৈরি হয়, তা ভবিষ্যতে জীবনের দিক নির্ধারণে সহায়ক হয়—এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত।

শিশু অনুকরণ প্রিয়। সে তার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকের কথা, আচরণ, এমনকি চিন্তাভাবনাও অনুসরণ করে। শিক্ষকের ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ছাত্রের মনোজগতে স্থায়ী ছাপ ফেলে। তাই বলা যায়, একজন শিক্ষক শুধুই জ্ঞানের বাহক নন—তিনি একজন চিন্তাশিল্পী, গঠনতন্ত্রের স্থপতি এবং শিশুদের সম্ভাবনার জাগরণকারী।

ড. মো: মাহিদ শেখ

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

dipu.mohid@gmail.com
মোবাইল: ০১৭৪৭৩৮৫১২৪

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিক্ষকই ভবিষ্যতের নির্মাতা: শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে শিক্ষকের অপরিহার্য ভূমিকা

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

ড. মো: মাহিদ শেখ ,সাইকোলজিস্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ:  প্রায় সব শিশুই স্কুলে যায় এবং প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা সময় সেখানে কাটায়। এই দীর্ঘ সময়ের শিক্ষার পরিবেশ শিশুর মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই শিক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্তি আজকের যুগে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আধুনিক সমাজে শিক্ষকের ভূমিকা শুধু পাঠদান নয়, বরং একটি শিশুর মানসিক ও নৈতিক গঠনে সহায়ক এক পথপ্রদর্শকের মতো।

শিক্ষা যদিও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়ারই অংশ, তবে এটি সঠিক পথে পরিচালনার জন্য দক্ষ এক পরিচালকের প্রয়োজন হয়—সেই দায়িত্বটি পালন করেন শিক্ষক। আধুনিক শিক্ষক শুধু পাঠ্যবিষয় শেখান না, বরং শিক্ষার্থীর মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি, পাঠ্য বস্তুর গুরুত্ব অনুধাবনে সহায়তা এবং শেখার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের পথ দেখিয়ে থাকেন। শিশুর সাফল্যে তাঁকে উৎসাহিত করা এবং ব্যর্থতায় নতুন চেষ্টার অনুপ্রেরণা দেওয়া শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

শিক্ষকের এই ভূমিকা শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে একটি মূখ্য উপাদান। আধুনিক শিক্ষাবিদেরা মনে করেন, শিশুর আত্মউদ্বোধনের সুযোগ দিতে শিক্ষককে কখনো কখনো কিছুটা পেছনে সরে দাঁড়াতেও হয়, যাতে শিক্ষার্থী নিজের অভিজ্ঞতায় শেখার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। যদিও পাঠাগার, গবেষণাগার, বই—এসব শিক্ষার সরঞ্জাম থাকলেও সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ও নির্দেশনার জন্য একজন শিক্ষকের উপস্থিতি অপরিহার্য।

শিক্ষকের প্রভাব কেবল শিক্ষাবিষয়ক নয়, তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, ভাবভঙ্গি, মনোভাব ও নীতিও শিশুর মানসিক বিকাশে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শিক্ষকের চিন্তাধারা, মূল্যবোধ, এবং সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ছাত্রদের মধ্যে অবচেতনে সঞ্চারিত হয়। শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক যদি আন্তরিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল হয়, তবে তা শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন বিষয়ে শিশুর আগ্রহ সৃষ্টিও তাঁর অন্যতম কাজ। বিজ্ঞান, সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে শেখার আনন্দ তৈরি করার মতো পরিবেশ গড়তে পারেন কেবল একজন বিচক্ষণ শিক্ষক। শিশুকালেই যে আগ্রহ তৈরি হয়, তা ভবিষ্যতে জীবনের দিক নির্ধারণে সহায়ক হয়—এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত।

শিশু অনুকরণ প্রিয়। সে তার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকের কথা, আচরণ, এমনকি চিন্তাভাবনাও অনুসরণ করে। শিক্ষকের ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ছাত্রের মনোজগতে স্থায়ী ছাপ ফেলে। তাই বলা যায়, একজন শিক্ষক শুধুই জ্ঞানের বাহক নন—তিনি একজন চিন্তাশিল্পী, গঠনতন্ত্রের স্থপতি এবং শিশুদের সম্ভাবনার জাগরণকারী।

ড. মো: মাহিদ শেখ

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

dipu.mohid@gmail.com
মোবাইল: ০১৭৪৭৩৮৫১২৪