ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং শিক্ষার গুণগত উন্নয়নের হাতিয়ার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

ড. মো: মাহিদ শেখ ,সাইকোলজিস্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ: জাতীয় মনোসামাজিক কাউন্সেলিং নীতিমালা ২০১৫-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা, আনন্দদায়ক পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ক নিশ্চিত করা। এই নীতিমালায় সুপারিশ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে শিক্ষকদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যক্তিগত চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

এই লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ে একটি পৃথক মনোসামাজিক কাউন্সেলর রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই কাউন্সেলররা যেন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পেশাগত চাপ, আচরণগত ও আবেগীয় সমস্যা নিরসনে দক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারেন, সেজন্য তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুপারভিশনের আওতায় আনতে হবে।

শুধু শিক্ষকদের জন্যই নয়, অভিভাবকদের সঙ্গেও সময়ান্তরে সচেতনতামূলক কাউন্সেলিং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য প্রতিটি শিক্ষককে মনোসামাজিক বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটগুলোর পাঠ্যক্রমে বিকাশ মনোবিজ্ঞান ও সচেতনতামূলক কাউন্সেলিং অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদের মাঝেও মানসিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর কাউন্সেলিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ২০১৯ সালে একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে দেখা যায়, আমাদের সমাজে মানসিক অসুস্থতা বিষয়ে এখনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, কুসংস্কার এবং মানসিক চিকিৎসার প্রতি অনীহা ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। এ কারণে আরও বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম চালুর উপর। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি সহানুভূতিশীল ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে—যার অন্যতম চাবিকাঠি হলো, প্রশিক্ষিত মনোসামাজিক কাউন্সেলর ও মানসিক স্বাস্থ্য সাক্ষরতা কার্যক্রমের বাস্তবায়ন।

ড. মো: মাহিদ শেখ

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

dipu.mohid@gmail.com
মোবাইল: ০১৭৪৭৩৮৫১২৪

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং শিক্ষার গুণগত উন্নয়নের হাতিয়ার

আপডেট সময় : ০৪:০৬:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

ড. মো: মাহিদ শেখ ,সাইকোলজিস্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ: জাতীয় মনোসামাজিক কাউন্সেলিং নীতিমালা ২০১৫-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা, আনন্দদায়ক পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ক নিশ্চিত করা। এই নীতিমালায় সুপারিশ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে শিক্ষকদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যক্তিগত চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

এই লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ে একটি পৃথক মনোসামাজিক কাউন্সেলর রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই কাউন্সেলররা যেন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পেশাগত চাপ, আচরণগত ও আবেগীয় সমস্যা নিরসনে দক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারেন, সেজন্য তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুপারভিশনের আওতায় আনতে হবে।

শুধু শিক্ষকদের জন্যই নয়, অভিভাবকদের সঙ্গেও সময়ান্তরে সচেতনতামূলক কাউন্সেলিং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য প্রতিটি শিক্ষককে মনোসামাজিক বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটগুলোর পাঠ্যক্রমে বিকাশ মনোবিজ্ঞান ও সচেতনতামূলক কাউন্সেলিং অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদের মাঝেও মানসিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর কাউন্সেলিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ২০১৯ সালে একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে দেখা যায়, আমাদের সমাজে মানসিক অসুস্থতা বিষয়ে এখনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, কুসংস্কার এবং মানসিক চিকিৎসার প্রতি অনীহা ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। এ কারণে আরও বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম চালুর উপর। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি সহানুভূতিশীল ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে—যার অন্যতম চাবিকাঠি হলো, প্রশিক্ষিত মনোসামাজিক কাউন্সেলর ও মানসিক স্বাস্থ্য সাক্ষরতা কার্যক্রমের বাস্তবায়ন।

ড. মো: মাহিদ শেখ

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

dipu.mohid@gmail.com
মোবাইল: ০১৭৪৭৩৮৫১২৪