ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবিতে সমাবেশ

খ্রীষ্টফার জয়
  • আপডেট সময় : ০৫:২২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার সংস্কৃতি সংরক্ষণ সকল জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবীতে বৃহষ্পতিবার (২২ফেব্রুয়ারী ২০২৪) মিয়াপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ময়মুরুব্বিদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আইইডি রাজশাহীর ফেলো আন্দ্রিয়াস বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পবা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী খান , যুব প্রতিনিধি বাপ্পি বিশ্বাস, নারী নেত্রী নিশি হেম্ব্রম সহ বিভিন্ন গ্রামের মন্ডল সহ প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যে কোন জাতি নিজ মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষালাভ করতে পারলে পরিপূর্ণ বিকাশ হয়, যা অন্যকোন ভাষায় সম্ভব নয়। এজন্য উত্তরবঙ্গের সকল জাতিসত্তার শিশুদের নিজ মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা অত্যন্ত জরুরী । একই ভাবে নিজেদের নাগরিক অধিকার, সংস্কৃতি সংরক্ষণ জরুরী। যা একটি জাতীর পূর্ণরুপ বলে মনে করি। সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে নিজের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য সকল কিছু টিকে থাকবে। তাই আমাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে।

আদিবাসী নৃত্য দল

সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ভাবতে অবাক লাগে যে, দেশে মাতৃভাষা অধিকারের জন্য ১৯৫২ সালে সালাম, বরকত, রফিকরা প্রাণ দিয়েছিলেন এবং তাদের প্রাণের বিনিময়ে ভাষার অধিকার অর্জিত হয়েছিল, সেই দেশে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও জাতিসত্তাসমূহের মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা চালু করা হয় নি! জাতিসত্তাসমূহের নিজ নিজ মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত করার অর্থ হল, যে মহৎ উদ্দেশ্যে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল তা ম্লান করে দেয়া ও ভাষা শহীদদের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা। মাতৃভাষায় পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হওয়া থেকে বোঝা যায় যে, এ দেশে আদিবাসী জাতিসত্তাসমূহ কতটা নিগৃহীত ও অবহেলিত।

ঘোষণা দিয়েও ভিন্ন ভাষা-ভাষী জাতিসত্তাসমূহের মাতৃভাষার মাধ্যমে পাঠদান বাস্তবে চালু না করায় সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি তীব্র নিন্দা জানান। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অতি শীঘ্রই জাতিসত্তাসমূহের নিজ নিজ মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা চালু, নাগরিক অধিকার ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, সমাবেশের একটি বড় অংশ ছিলো নিজ সংস্কৃতির নাচ প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলা । যেন সকলে নিজ এলাকা থেকে নিজেদের অধিকার ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে পারে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবিতে সমাবেশ

আপডেট সময় : ০৫:২২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার সংস্কৃতি সংরক্ষণ সকল জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবীতে বৃহষ্পতিবার (২২ফেব্রুয়ারী ২০২৪) মিয়াপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ময়মুরুব্বিদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আইইডি রাজশাহীর ফেলো আন্দ্রিয়াস বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পবা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী খান , যুব প্রতিনিধি বাপ্পি বিশ্বাস, নারী নেত্রী নিশি হেম্ব্রম সহ বিভিন্ন গ্রামের মন্ডল সহ প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যে কোন জাতি নিজ মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষালাভ করতে পারলে পরিপূর্ণ বিকাশ হয়, যা অন্যকোন ভাষায় সম্ভব নয়। এজন্য উত্তরবঙ্গের সকল জাতিসত্তার শিশুদের নিজ মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা অত্যন্ত জরুরী । একই ভাবে নিজেদের নাগরিক অধিকার, সংস্কৃতি সংরক্ষণ জরুরী। যা একটি জাতীর পূর্ণরুপ বলে মনে করি। সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে নিজের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য সকল কিছু টিকে থাকবে। তাই আমাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে।

আদিবাসী নৃত্য দল

সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ভাবতে অবাক লাগে যে, দেশে মাতৃভাষা অধিকারের জন্য ১৯৫২ সালে সালাম, বরকত, রফিকরা প্রাণ দিয়েছিলেন এবং তাদের প্রাণের বিনিময়ে ভাষার অধিকার অর্জিত হয়েছিল, সেই দেশে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও জাতিসত্তাসমূহের মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা চালু করা হয় নি! জাতিসত্তাসমূহের নিজ নিজ মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত করার অর্থ হল, যে মহৎ উদ্দেশ্যে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল তা ম্লান করে দেয়া ও ভাষা শহীদদের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা। মাতৃভাষায় পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হওয়া থেকে বোঝা যায় যে, এ দেশে আদিবাসী জাতিসত্তাসমূহ কতটা নিগৃহীত ও অবহেলিত।

ঘোষণা দিয়েও ভিন্ন ভাষা-ভাষী জাতিসত্তাসমূহের মাতৃভাষার মাধ্যমে পাঠদান বাস্তবে চালু না করায় সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি তীব্র নিন্দা জানান। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অতি শীঘ্রই জাতিসত্তাসমূহের নিজ নিজ মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা চালু, নাগরিক অধিকার ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, সমাবেশের একটি বড় অংশ ছিলো নিজ সংস্কৃতির নাচ প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলা । যেন সকলে নিজ এলাকা থেকে নিজেদের অধিকার ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে পারে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি