ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নওগাঁ: ২ স্থগিত হওয়া আসনে নির্বাচন : জনমতে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

খ্রীষ্টফার জয়
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্থগিত হওয়া নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি ৪ প্রার্থী। তারা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শহীদুজ্জামান সরকার (নৌকা প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এইচ এম আখতারুল আলম (ট্রাক প্রতীক), মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রেজা মেহেদী (ঈগল প্রতীক) এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থী জেলা জাপার সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন (লাঙ্গল প্রতীক)।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক মারা গেলে ইসি ভোট স্থগিত করেন। ৮ জানুয়ারি পুনরায় নওগাঁ-২ আসনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী আগের ৩ বৈধ প্রার্থীকে আর মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়নি। নতুন তফসিল ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাহমুদ রেজা মেহেদী ও কাজল নামের দুজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

যাচাই-বাছাই শেষে তাদের দুজনেরই মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ইসিতে আপিলের পরেও তাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে হাইকোর্টে আপিল করলে বৈধতা ফিরে পান মাহমুদ রেজা মেহেদী।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নওগাঁ-২ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ১৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৯ জন। প্রথম দিকে প্রচার-প্রচারণা কম থাকলেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।

পথসভা, গণসংযোগ এবং নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় ভোট প্রার্থনা করছেন তারা। নির্বাচনী এলাকায় শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টার। মাইকে চলছে প্রচারণা। নেতাকর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ধারণা, নৌকার সঙ্গে ট্রাকে ও ঈগলের লড়াই হবে।

তবে কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় জনমতে দেখা দিয়েছে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছে এমন সাজানো নাটক না করলেও হয়।
এলাকা ভেদে সাধারণ খেটে খাওয়া জনগণ বলছে, বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে একজন এমপি আছেন আমাদের এলাকায়। তবে কি যে উন্নয়ন করেছেন সেটি ভাববার বিষয়। আরে ভাই আমাদের তো তারা ভাত কাপড় দিবে না । নেতা হওয়া এত সহজ না। নেতা হতে হলে মাস্টারডিগ্রী নিয়ে ঘরের ভিতরে এসির বাতাস খেয়ে একটা পাজেরু গাড়িতে চড়লেই নেতা হওয়া যায় না।

আমরা চাই কর্মীবান্ধব নেতা। যারা জনগণের কাতারে এসে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করবে ও সেই সমস্যা নিয়ে সমাধান কথায় গেলে হবে সেই ব্যবস্থা করবে । উন্নয়ন তো এভাবেই হবে । তাহলেই না জনগন ভোট দিবে। আপনাদের তাহলে মানুষের কাছে গিয়ে আর ভোট চেয়ে বেড়াতে হবে না। কর্মীবান্ধব নেতা হোন দেখবেন জনগণ এমনি ভোট দিবে । জনগণ আর বোকা না।

তবে এমন পরিস্থিতিতে নারীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ । কেউ কেউ বলছে, নির্বাচনের আগে পারলে পা ধরে কিছু নেতা। তবে নির্বাচনের পরে যেমন জিতে যাবে তেমনি শুরু হয় তাদের লীলাখেলা। ভাই টাকা আর নারী শাড়ি ছাড়া তখন এমপিরা কিছুই বুঝে না। এই সকল এমপিদের সময় শেষ। সময় থাকতে নিজেদের জনতার কাতারে নিয়ে আসেন। নইলে ভোট চুরি করেই জিততে হবে ।

আরেকজন মহিলা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ফাটা কেষ্ট ছবি দেখেছেন ? এই এমপিদের বলেন আমাকে ৭দিনের জন্য ক্ষমতা দিতে। আমার জমি বেঁচে হলেও একলার রাস্তাঘাট নিজের টাকা দিয়ে মেরাতম করবো। নির্বাচনের বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায় অনেক জায়গায়তে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে ও কিছু এমপিদের পোস্টরা ব্যানার ছিড়ে নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে একই সাথে প্রচার মাইক থেকে মেমোরি কেড়ে নেয়া হচ্ছে।

বিষয়গুলো নিয়ে ঈগল প্রতীকের এমপি প্রার্থী মেহেদী মাহমুদ রেজা বলেন, আমার প্রচারণায় কে বা কারা বাধা দিচ্ছে জানি না । রাতের অন্ধকারে আমার পোস্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলছে এবং প্রচার মাইক থেকে ম্যামোরি কেড়ে নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। তারা তদন্ত করে বিচার করবেন।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে পত্নীপলা থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, পত্নীতলায় ৩৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে তাদের নজরদারি রয়েছে। এবং প্রশাসনের তৎপরতা চলোমান রয়েছে। মোবইল কোর্ট সার্বক্ষণিক মাঠ পরিদর্শন করছে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নওগাঁ: ২ স্থগিত হওয়া আসনে নির্বাচন : জনমতে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্থগিত হওয়া নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি ৪ প্রার্থী। তারা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শহীদুজ্জামান সরকার (নৌকা প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এইচ এম আখতারুল আলম (ট্রাক প্রতীক), মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রেজা মেহেদী (ঈগল প্রতীক) এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থী জেলা জাপার সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন (লাঙ্গল প্রতীক)।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক মারা গেলে ইসি ভোট স্থগিত করেন। ৮ জানুয়ারি পুনরায় নওগাঁ-২ আসনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী আগের ৩ বৈধ প্রার্থীকে আর মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়নি। নতুন তফসিল ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাহমুদ রেজা মেহেদী ও কাজল নামের দুজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

যাচাই-বাছাই শেষে তাদের দুজনেরই মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ইসিতে আপিলের পরেও তাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে হাইকোর্টে আপিল করলে বৈধতা ফিরে পান মাহমুদ রেজা মেহেদী।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নওগাঁ-২ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ১৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৯ জন। প্রথম দিকে প্রচার-প্রচারণা কম থাকলেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।

পথসভা, গণসংযোগ এবং নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় ভোট প্রার্থনা করছেন তারা। নির্বাচনী এলাকায় শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টার। মাইকে চলছে প্রচারণা। নেতাকর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ধারণা, নৌকার সঙ্গে ট্রাকে ও ঈগলের লড়াই হবে।

তবে কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় জনমতে দেখা দিয়েছে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছে এমন সাজানো নাটক না করলেও হয়।
এলাকা ভেদে সাধারণ খেটে খাওয়া জনগণ বলছে, বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে একজন এমপি আছেন আমাদের এলাকায়। তবে কি যে উন্নয়ন করেছেন সেটি ভাববার বিষয়। আরে ভাই আমাদের তো তারা ভাত কাপড় দিবে না । নেতা হওয়া এত সহজ না। নেতা হতে হলে মাস্টারডিগ্রী নিয়ে ঘরের ভিতরে এসির বাতাস খেয়ে একটা পাজেরু গাড়িতে চড়লেই নেতা হওয়া যায় না।

আমরা চাই কর্মীবান্ধব নেতা। যারা জনগণের কাতারে এসে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করবে ও সেই সমস্যা নিয়ে সমাধান কথায় গেলে হবে সেই ব্যবস্থা করবে । উন্নয়ন তো এভাবেই হবে । তাহলেই না জনগন ভোট দিবে। আপনাদের তাহলে মানুষের কাছে গিয়ে আর ভোট চেয়ে বেড়াতে হবে না। কর্মীবান্ধব নেতা হোন দেখবেন জনগণ এমনি ভোট দিবে । জনগণ আর বোকা না।

তবে এমন পরিস্থিতিতে নারীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ । কেউ কেউ বলছে, নির্বাচনের আগে পারলে পা ধরে কিছু নেতা। তবে নির্বাচনের পরে যেমন জিতে যাবে তেমনি শুরু হয় তাদের লীলাখেলা। ভাই টাকা আর নারী শাড়ি ছাড়া তখন এমপিরা কিছুই বুঝে না। এই সকল এমপিদের সময় শেষ। সময় থাকতে নিজেদের জনতার কাতারে নিয়ে আসেন। নইলে ভোট চুরি করেই জিততে হবে ।

আরেকজন মহিলা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ফাটা কেষ্ট ছবি দেখেছেন ? এই এমপিদের বলেন আমাকে ৭দিনের জন্য ক্ষমতা দিতে। আমার জমি বেঁচে হলেও একলার রাস্তাঘাট নিজের টাকা দিয়ে মেরাতম করবো। নির্বাচনের বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায় অনেক জায়গায়তে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে ও কিছু এমপিদের পোস্টরা ব্যানার ছিড়ে নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে একই সাথে প্রচার মাইক থেকে মেমোরি কেড়ে নেয়া হচ্ছে।

বিষয়গুলো নিয়ে ঈগল প্রতীকের এমপি প্রার্থী মেহেদী মাহমুদ রেজা বলেন, আমার প্রচারণায় কে বা কারা বাধা দিচ্ছে জানি না । রাতের অন্ধকারে আমার পোস্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলছে এবং প্রচার মাইক থেকে ম্যামোরি কেড়ে নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। তারা তদন্ত করে বিচার করবেন।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে পত্নীপলা থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, পত্নীতলায় ৩৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে তাদের নজরদারি রয়েছে। এবং প্রশাসনের তৎপরতা চলোমান রয়েছে। মোবইল কোর্ট সার্বক্ষণিক মাঠ পরিদর্শন করছে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি