ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোরে নিম্নমানের কীটনাশকে সয়লাব বাজার, উদাসীন কৃষি বিভাগ

সারোয়ার হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে ভেজাল ও নিম্নমাণের কীটনাশকে বাজার সয়লাবের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, মানহীন এসব কীটনাশক জমিতে দফায় দফায় প্রয়োগ করেও সুফল মিলছে না কৃষকের। আবার কৃষি দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের (এসএএও) পরামর্শও পাচ্ছেন না কৃষকরা। অথচ মাঠে কৃষি বিভাগের তেমন কোনো নজরদারি নাই, নাই ভ্রাম্যমান অভিযান। ফলে দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ কীটনাশক ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা জানান, কীটনাশক আসল না নকল ও নিম্নমাণের সেই সম্পর্কে অধিকাংশ কৃষকের তেমন কোনো ধারণা নাই। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর কীটনাশক ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের মানহীন কীটনাশকে বাজার সয়লাব করে রমরমা বাণিজ্য করে কৃষকের পকেট কাটছে। কৃষকদের অভিযোগ, কীটনাশক ভেজাল ও নিম্নমানের হওয়ায় জমি থেকে পচন ও পোকা সরানো যাচ্ছে না। খেতের মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকা সরাতে অনেক কৃষককে এরই মধ্যে জমিতে ৩ থেকে ৪ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে।

আগামিতে পচন ও কারেন্ট পোকা রোধে কয়েকদফা স্প্রে দিতে হবে। এতে ধানের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। ফলন বিপর্যয়েরও আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, কৃষকদের এখন চরম সংকটময় অবস্থা চলছে। এ সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তেমন কোন সহায়তা ও পরামর্শ পাচ্ছেন না কৃষকরা। অধিকাংশ সময় মাঠে কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে জানতে চাওয়া হয়,বর্তমানে উপজেলা জুড়ে কতটি সরকার অনুমোদিত বালাইনাশক দোকান রয়েছে। যার কোন নির্ধারিত তথ্য দিতে পারেনি কৃষি অফিস। অথচ কৃষি অফিসের কোন অনুষ্ঠান হলেই প্রতিটি বালাইনাশক দোকান থেকে আনুপাতিক হারে তোলা হয় চাঁদা। কেউ চাঁদা দিতে অসম্মতি জানালে তার বিরুদ্ধে শুরু হয় অমানুষিক ভাবে হয়রানি। কারো কারো দোকানে অবৈধ কীটনাশক আছে বলে করা হয় মোটা অংকের জরিমানা। যার জন্য বাধ্য হয়ে কৃষি অফিসের সকল চাহিদা পুরোন করতে হয় কীটনাশক ব্যবসায়ীদের। যার ফলে কৃষি অফিস কে অবৈধ সুবিধা দিতে গিয়ে কীটনাশক ব্যবসায়ীরাও নকল কীটনাশকে সয়লাব করছেন বাজার। আর নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে নিম্নমানের কীটনাশকে সয়লাব বাজার, উদাসীন কৃষি বিভাগ

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে ভেজাল ও নিম্নমাণের কীটনাশকে বাজার সয়লাবের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, মানহীন এসব কীটনাশক জমিতে দফায় দফায় প্রয়োগ করেও সুফল মিলছে না কৃষকের। আবার কৃষি দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের (এসএএও) পরামর্শও পাচ্ছেন না কৃষকরা। অথচ মাঠে কৃষি বিভাগের তেমন কোনো নজরদারি নাই, নাই ভ্রাম্যমান অভিযান। ফলে দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ কীটনাশক ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা জানান, কীটনাশক আসল না নকল ও নিম্নমাণের সেই সম্পর্কে অধিকাংশ কৃষকের তেমন কোনো ধারণা নাই। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর কীটনাশক ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের মানহীন কীটনাশকে বাজার সয়লাব করে রমরমা বাণিজ্য করে কৃষকের পকেট কাটছে। কৃষকদের অভিযোগ, কীটনাশক ভেজাল ও নিম্নমানের হওয়ায় জমি থেকে পচন ও পোকা সরানো যাচ্ছে না। খেতের মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকা সরাতে অনেক কৃষককে এরই মধ্যে জমিতে ৩ থেকে ৪ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে।

আগামিতে পচন ও কারেন্ট পোকা রোধে কয়েকদফা স্প্রে দিতে হবে। এতে ধানের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। ফলন বিপর্যয়েরও আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, কৃষকদের এখন চরম সংকটময় অবস্থা চলছে। এ সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তেমন কোন সহায়তা ও পরামর্শ পাচ্ছেন না কৃষকরা। অধিকাংশ সময় মাঠে কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে জানতে চাওয়া হয়,বর্তমানে উপজেলা জুড়ে কতটি সরকার অনুমোদিত বালাইনাশক দোকান রয়েছে। যার কোন নির্ধারিত তথ্য দিতে পারেনি কৃষি অফিস। অথচ কৃষি অফিসের কোন অনুষ্ঠান হলেই প্রতিটি বালাইনাশক দোকান থেকে আনুপাতিক হারে তোলা হয় চাঁদা। কেউ চাঁদা দিতে অসম্মতি জানালে তার বিরুদ্ধে শুরু হয় অমানুষিক ভাবে হয়রানি। কারো কারো দোকানে অবৈধ কীটনাশক আছে বলে করা হয় মোটা অংকের জরিমানা। যার জন্য বাধ্য হয়ে কৃষি অফিসের সকল চাহিদা পুরোন করতে হয় কীটনাশক ব্যবসায়ীদের। যার ফলে কৃষি অফিস কে অবৈধ সুবিধা দিতে গিয়ে কীটনাশক ব্যবসায়ীরাও নকল কীটনাশকে সয়লাব করছেন বাজার। আর নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি