ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোরে ভূমিদস্যু উত্তম আতঙ্কে প্রতিবেশী সংখ্যালঘুদের জীবনযাপন

সারোয়ার হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে নব্য ভূমিদস্যু উত্তম কুমার কর্মকারের আতঙ্কে দিনরাত গরীব অসহায় সংখ্যালঘু কিছু প্রতিবেশী পরিবার জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে রয়েছে,তানোর পৌর এলাকার শিবতলা হিন্দুপাড়া গ্রামে।

জানা গেছে, শিবতলা হিন্দুপাড়া গ্রামের নব্য ভূমিদস্যু উত্তম কুমার কর্মকার ভূমি অফিসের সাথে প্রতারণা করে ভিপি সম্পত্তি লীজ নিয়ে সেখানে রাতারাতি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এতে করে উত্তম কুমার কর্মকার রাতারাতি ভিপি সম্পত্তির উপরে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে প্রতিবেশী নিমাই, নিতাই,গৌর নামের সংখ্যালঘু তিন ব্যক্তির জায়গা জোর পৃর্বক দখল করে নেন ভূমিদস্যু উত্তম কুমার কর্মকার।

এমনকি প্রয়াত প্রতিবেশী স্বপন দাসের ছেলে অচিন্ত কুমার দাস ও বাদলা কুমার দাসের জায়গাও দখলে নিতে জোর করে ইটের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন ভূমিদস্যু উত্তম কুমার কর্মকার। ফলে ভূমিদস্যু উত্তমের আত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে প্রতিবেশী গরীব অসহায় সংখ্যালঘু পরিবার গুলো। তারা ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে না পারছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারছে তার সাথে শক্তি দিয়ে জায়গা রক্ষা করতে। শুধু তাই নয়,ধানতৈর গ্রামের মাহফুজ মোল্লা নামের এক ব্যক্তি ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের বাড়ির পাশে তিনি ১৪শতক জমি ক্রয় করেন। কিন্তু ভূমিদস্যু উত্তম কুমার তার সেই জায়গার উপরে রাতারাতি তাঁর কাঁটার বেড়া ভাংচুর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন।

এমনকি ক্রয়কৃত জমির প্রকৃত মালিক মাহফুজ মোল্লা উত্তম কুমারকে নিষেধ করতে গেলে তাকে ভূমিদস্যু উত্তম কুমার মহিলা দিয়ে নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে হয়রানি করারও হুমকি ধামকি দেন। এতে করে মাহফুজ মোল্লা তার সাথে দ্বন্দ্বে না গিয়ে প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আশ্রয় নেন।

ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তানোর পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের শিবতলা হিন্দুপাড়া গ্রামে সরকারি খাস ভিপি সম্পত্তি লীজ নিয়ে সেই জায়গার উপরে গড়ে তুলেছেন দ্বিতল আলিশান ভবন। যার ভিপি কেস নম্বর- ১৯/৮৬ দাগ নম্বর-১৬০২ /১৬০৩, খতিয়ান আরএস-১২। যার লীজকৃত সময় ছিলো ১৪২৯ সাল পর্যন্ত। যা বর্তমানে লীজের সময় শেষ হয়ে গেছে ১৪২৯ সাল থেকে।

বিষয়টি নিয়ে ভূমি অফিসে গিয়ে খাস জায়গা ভূমিহীন পরিবারকে লীজ দেয়া হয় কিন্তু সেই জায়গা প্রভাবশালী ভূমিদস্যু উত্তম কি ভাবে পেলো এবং লীজকৃত জায়গায় কোন পাকা স্থাপনা গড়ে তুলতে পারবেনা,তাহলে উত্তম কুমার কি ভাবে খাস জায়গার উপরে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করলো জানতে চাইলে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আমানত আলী জানান, ইতিমধ্যে আমরা অভিযোগ পেয়েছি, উত্তম কুমার ভূমি অফিসের সাথে প্রতারণা করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছে। যার জন্য উত্তম কুমারকে প্রতারণার দায়ে ভূমি অফিস থেকে খাস জায়গার উপরে দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য নোটিশ প্রদান করা হবে বলে জানান।

অন্যদিকে এই নব্য ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা একাধিক। সম্প্রতি,বছর খানেক আগে ভূমিদস্যু উত্তম কুমার তার প্রতিবেশী মামীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় হাতে নাতে জনগণ ধরে পুলিশের হাতে তুলে সর্পদ করে। এছাড়াও তালন্দ ইউপির মোহর গ্রামের এক আদিবাসী নারীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের সময়ও গ্রামবাসী আটক করে উত্তমমধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেন উত্তম কে।

তার পরেও যেন দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই নব্য ভূমিদস্যু উত্তম কুমার। এছাড়াও সম্প্রতি,মাস তিনেক আগে তানোর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জাল চেক তৈরি করে দলিল রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে ধরা পড়েন ভূমিদস্যু উত্তম কুমার। যার জন্য তাকে ৬মাসের জন্য সাসপেন্ড করেন সাবরেজিস্টার। ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের নির্যাতনের শিকার প্রতিবেশী নিমাই, নিতাই,গৌর, অচিন্ত কুমার দাস চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভূমিদস্যু উত্তম কুমার আমাদের পার্শবিক মানুষিক নির্যাতন করে আমাদের বাড়ির জায়গা দখল করেছে। তাকে বাঁধা দিতে গেলে আমাদের মারপিট করাসহ বিভিন্ন মামলা হামলা দিয়ে হয়রানির শিকার করান।

যার জন্য আমরা কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু করতে সাহস পায়না। তার টাকার কাছে আমরা গরীব মানুষ অসহায়। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের নিরুপায় হয়ে থাকতে হয় তার নির্যাতন শয়ে। এই দুনিয়াতে টার টাকার কাছে কোন বিচার নাই বলে চরম হতাশাগস্থ হয়ে প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের কাছে বিচার দাবি জানান তাঁরা।

এবিষয়ে জানতে উত্তম কুমার কর্মকারে মোবাইল(০১৭১৮-৯৩৯২০৭) নম্বরে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে তানোর উপজেলা এসিল্যান্ড(ভূমি) কর্মকর্তা আদিবা সিফাত বলেন,ভিপি জায়গার উপরে পাকা স্থাপনা করার কোন সুযোগ নেই, যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রহিম জানান, এসব বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে. সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে ভূমিদস্যু উত্তম আতঙ্কে প্রতিবেশী সংখ্যালঘুদের জীবনযাপন

আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে নব্য ভূমিদস্যু উত্তম কুমার কর্মকারের আতঙ্কে দিনরাত গরীব অসহায় সংখ্যালঘু কিছু প্রতিবেশী পরিবার জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে রয়েছে,তানোর পৌর এলাকার শিবতলা হিন্দুপাড়া গ্রামে।

জানা গেছে, শিবতলা হিন্দুপাড়া গ্রামের নব্য ভূমিদস্যু উত্তম কুমার কর্মকার ভূমি অফিসের সাথে প্রতারণা করে ভিপি সম্পত্তি লীজ নিয়ে সেখানে রাতারাতি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এতে করে উত্তম কুমার কর্মকার রাতারাতি ভিপি সম্পত্তির উপরে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে প্রতিবেশী নিমাই, নিতাই,গৌর নামের সংখ্যালঘু তিন ব্যক্তির জায়গা জোর পৃর্বক দখল করে নেন ভূমিদস্যু উত্তম কুমার কর্মকার।

এমনকি প্রয়াত প্রতিবেশী স্বপন দাসের ছেলে অচিন্ত কুমার দাস ও বাদলা কুমার দাসের জায়গাও দখলে নিতে জোর করে ইটের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন ভূমিদস্যু উত্তম কুমার কর্মকার। ফলে ভূমিদস্যু উত্তমের আত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে প্রতিবেশী গরীব অসহায় সংখ্যালঘু পরিবার গুলো। তারা ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে না পারছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারছে তার সাথে শক্তি দিয়ে জায়গা রক্ষা করতে। শুধু তাই নয়,ধানতৈর গ্রামের মাহফুজ মোল্লা নামের এক ব্যক্তি ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের বাড়ির পাশে তিনি ১৪শতক জমি ক্রয় করেন। কিন্তু ভূমিদস্যু উত্তম কুমার তার সেই জায়গার উপরে রাতারাতি তাঁর কাঁটার বেড়া ভাংচুর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন।

এমনকি ক্রয়কৃত জমির প্রকৃত মালিক মাহফুজ মোল্লা উত্তম কুমারকে নিষেধ করতে গেলে তাকে ভূমিদস্যু উত্তম কুমার মহিলা দিয়ে নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে হয়রানি করারও হুমকি ধামকি দেন। এতে করে মাহফুজ মোল্লা তার সাথে দ্বন্দ্বে না গিয়ে প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আশ্রয় নেন।

ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তানোর পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের শিবতলা হিন্দুপাড়া গ্রামে সরকারি খাস ভিপি সম্পত্তি লীজ নিয়ে সেই জায়গার উপরে গড়ে তুলেছেন দ্বিতল আলিশান ভবন। যার ভিপি কেস নম্বর- ১৯/৮৬ দাগ নম্বর-১৬০২ /১৬০৩, খতিয়ান আরএস-১২। যার লীজকৃত সময় ছিলো ১৪২৯ সাল পর্যন্ত। যা বর্তমানে লীজের সময় শেষ হয়ে গেছে ১৪২৯ সাল থেকে।

বিষয়টি নিয়ে ভূমি অফিসে গিয়ে খাস জায়গা ভূমিহীন পরিবারকে লীজ দেয়া হয় কিন্তু সেই জায়গা প্রভাবশালী ভূমিদস্যু উত্তম কি ভাবে পেলো এবং লীজকৃত জায়গায় কোন পাকা স্থাপনা গড়ে তুলতে পারবেনা,তাহলে উত্তম কুমার কি ভাবে খাস জায়গার উপরে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করলো জানতে চাইলে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আমানত আলী জানান, ইতিমধ্যে আমরা অভিযোগ পেয়েছি, উত্তম কুমার ভূমি অফিসের সাথে প্রতারণা করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছে। যার জন্য উত্তম কুমারকে প্রতারণার দায়ে ভূমি অফিস থেকে খাস জায়গার উপরে দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য নোটিশ প্রদান করা হবে বলে জানান।

অন্যদিকে এই নব্য ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা একাধিক। সম্প্রতি,বছর খানেক আগে ভূমিদস্যু উত্তম কুমার তার প্রতিবেশী মামীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় হাতে নাতে জনগণ ধরে পুলিশের হাতে তুলে সর্পদ করে। এছাড়াও তালন্দ ইউপির মোহর গ্রামের এক আদিবাসী নারীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের সময়ও গ্রামবাসী আটক করে উত্তমমধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেন উত্তম কে।

তার পরেও যেন দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই নব্য ভূমিদস্যু উত্তম কুমার। এছাড়াও সম্প্রতি,মাস তিনেক আগে তানোর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জাল চেক তৈরি করে দলিল রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে ধরা পড়েন ভূমিদস্যু উত্তম কুমার। যার জন্য তাকে ৬মাসের জন্য সাসপেন্ড করেন সাবরেজিস্টার। ভূমিদস্যু উত্তম কুমারের নির্যাতনের শিকার প্রতিবেশী নিমাই, নিতাই,গৌর, অচিন্ত কুমার দাস চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভূমিদস্যু উত্তম কুমার আমাদের পার্শবিক মানুষিক নির্যাতন করে আমাদের বাড়ির জায়গা দখল করেছে। তাকে বাঁধা দিতে গেলে আমাদের মারপিট করাসহ বিভিন্ন মামলা হামলা দিয়ে হয়রানির শিকার করান।

যার জন্য আমরা কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু করতে সাহস পায়না। তার টাকার কাছে আমরা গরীব মানুষ অসহায়। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের নিরুপায় হয়ে থাকতে হয় তার নির্যাতন শয়ে। এই দুনিয়াতে টার টাকার কাছে কোন বিচার নাই বলে চরম হতাশাগস্থ হয়ে প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের কাছে বিচার দাবি জানান তাঁরা।

এবিষয়ে জানতে উত্তম কুমার কর্মকারে মোবাইল(০১৭১৮-৯৩৯২০৭) নম্বরে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে তানোর উপজেলা এসিল্যান্ড(ভূমি) কর্মকর্তা আদিবা সিফাত বলেন,ভিপি জায়গার উপরে পাকা স্থাপনা করার কোন সুযোগ নেই, যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রহিম জানান, এসব বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে. সি