মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়ার লেখা মুসলিম জাতিসত্তা এবং ১৯০৫ সালই হল বাংলাদেশের ভিত্তি মূল-পর্ব ১৩
- আপডেট সময় : ০১:৪০:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
বিষয়:- লিগ্যাসির আবশ্যিকতা: পাঠক, কোন রাষ্ট্র আছাবিয়্যাত এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হোক অথবা আদর্শিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হোক তা কোন না কোন লিগ্যাসি বহন করে। কোন রাষ্ট্র যদি হঠাৎ করে সূষ্টি হয় এবং তা কোন লিগ্যাসি বহন না করে তাহলে সেই রাষ্ট্র যত শক্তিশালী হোক না কেন , অচিরেই এসব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ চে্গিশ খার নেতূত্বে মো্গল সাম্রাজ্যের উখান লিগ্যাসি বহন না করায় কিছুদিনের মধ্যেই পতন ঘটে।
একটি রাষ্ট্র বেশ কয়েক ধরনের লিগ্যাসি বহন করে। প্রথমত – পূথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্র আছাবিয়্যাত ভিত্তিক লিগ্যাসি বহন করে। খুব অল্প স্খ্যক রাষ্ট্র আদর্শিক লিগ্যাসি বহন করে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বসনিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ প্রকূত অর্থে ইসলামের আদর্শিক লিগ্যাসি বহন করে। যদিও এসব রাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে শরীয়া অনুসরণ করে না।
পাঠক, কোন রাষ্ট্র আছাবিয়্যাত ভিত্তিতে গঠিত হোক অথবা আদর্শিক ভিত্তিতে গঠিত হোক, আত্মরক্ষা সহ রাষ্ট্রীয় ভিত্তির মজবুতীর জন্য লিগ্যাসি আবশ্যক।
উদাহরণ স্বরূপ, হযরত ওমরের আমলে উত্তর আফ্রিকা ইসলামের পতাকাতলে আসে এবং একই
সময় পারস্য সাম্রাজ্য ইসলামের পতাকাতলে আসে। ইসলামের পতাকাতলে আসার পর পারস্য সাম্রাজ্যের লিগ্যাসি বহনকারী কোন জনগোষ্ঠী না থাকায় পরবর্তীতে মুসলমানদের কোন প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হয় নি।
অপরদিকে আফ্রিকার জিনতা ও কুতামা জনগোষ্ঠী বারবার লিগ্যাসি বহন করার কারণে মুসা বিন নুসাইর শাসনামল পর্যন্ত মুসলিম বাহিনী প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। এই বারবার জনগোষ্ঠী জাহেলী যুগের আছাবিয়্যাত ধারণ করত। মুসা বিন নুসাইর এর দাওয়াতের বদৌলতে হাজার হাজার বার্বার ইসলাম গ্রহণ করার ফলে তারা খিলাফত ভিত্তিক আদর্শিক রাষ্ট্রের সহযোগী হয়ে উঠে। স্পেন বিজয়ী তারিক বিন জিয়াদ এই বারবার জনগোষ্ঠীর ছিল।
আবার ভূল লিগ্যাসি বহন করলে গোলামে রূপান্তরিত হতে হয়। উদাহরণ স্বরূপ আরব জাতীয়তাবাদীরা ইসলামী লিগ্যাসি পরিত্যাগ করে ভূল লিগ্যাসি বহন করার কারণে তারা গোলামে পরিনত হয়েছে। বস্তুত ইসলাম আগমনের পূর্বে মুদারী আরবরা কোন রাজনৈতিক লিগ্যাসি বহন করত না, হিমারি আরবরা কিছু লিগ্যাসি বহন করলেও এই লিগ্যাসি নি্শেষের পথে ছিল। আর আরবদের যে রাজনৈতিক লিগ্যাসি তা হল, ইয়েমেনের কয়েক জন তুব্বা বাদশাহ ব্যতিত সবটুকুই জাহেলী যুগের আছাবিয়্যাত ভিত্তিক লিগ্যাসি যার মধ্যে কুফরীর প্রভাব বিদ্যমান ছিল। আরবরা জাহেলী যুগের কুফরী মিশ্রিত ঠুনকো লিগ্যাসি গ্রহণ করার জন্য অমুসলিমদের গোলামে পরিনত হয়েছে।
যে কোন রাষ্ট্রের পরিচয়ের জন্য লিগ্যাসি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ স্বরূপ তুরস্কের নাম নিলে উসমানীয় সালতানাতের কথা এসে যায়, আবার ইরানের নাম নিলে সাফাভী সাম্রাজ্যের কথা এসে যায়। লিগ্যাসি নিজেদের লোকদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সহায়তা করে, চাই তা আছাবিয়্যাত ভিত্তিক লিগ্যাসি হোক অথবা আদর্শিক ভিত্তিক লিগ্যাসি হোক। তাই বাংলাদেশকে অবশ্যই লিগ্যাসি বহন করতে হবে, সেই লিগ্যাসি হল বে্গল মুসলিম সালতানাত এবং ১৯০৫ সালের মুসলিম স্খ্যা গরিষ্ঠ বে্গল আসাম প্রদেশ ।





















