ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে ২১ পিস ইয়াবাসহ কথিত সাংবাদিক ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মিশাল আটক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগে ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল সরকার জনগণের গণরায় উপেক্ষা করায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: এটিএম আজহারুল ইসলাম রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে শ্রমিক কল্যানের ষান্মাসিক রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত  পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারলেন ছাত্রদল নেতা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের হুঁশিয়ারি কেন পে-স্কেল কবে, জানা গেল সম্ভাব্য সময় দেশের উন্নয়নে বিরোধী দলের সহযোগিতা দরকার : পানিসম্পদ মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

৭০০ শিক্ষার্থীর নামে মামলা করা শিক্ষিকাকে অধ্যক্ষ নিয়োগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: জুলাই আন্দোলনে তিতুমীর কলেজের ৭০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী এবার নিয়োগ পেলেন অধ্যক্ষ হিসেবে। কলেজটির অধ্যাপক মালেকা আক্তার বানুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

গত ২ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তারা তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, একই বছরের ১৮ জুলাই সরকারি ছুটি থাকায় ক্লাস ও ছাত্রাবাস বন্ধ ছিল। সেদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে অজ্ঞাতনামা বিএনপি, জামায়াত, শিবির ও তার অঙ্গ সংগঠনের দুষ্কৃতকারীরা কলেজে তাণ্ডব চালায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খন্দকার সাইমা সুলতানা জানান, আমরা চাই না তিনি আমাদের অধ্যক্ষ হন। তিনি ৭০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া আমাদের জন্য অবমাননাকর।

শিক্ষার্থী সাদেকুর নাহার কবিতা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী হিসেবে তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, ফ্যাসিবাদের দোসর অধ্যাপক মালেকাকে মেনে নেবে না শিক্ষার্থীরা। এ সময় তার নিয়োগের আদেশটি বাতিলের দাবি জানান। নইলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যাবে জেলা ছাত্রদল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র প্রতিনিধি বায়েজিদুর রহমান সিয়াম জানান, ফ্যাসিবাদের দোসর অধ্যক্ষকে মেনে নেবে না শিক্ষার্থীরা। তার নিয়োগটি দ্রুত বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা দ্রুত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মরকলিপি দেব।

শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মেহেরুন্নেছা মুনিয়া জানান, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসলে একদিনের জন্যও তাকে অফিস করতে দেওয়া হবে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে নিয়োগ পাওয়া নতুন অধ্যক্ষ মালেকা আখতার বানুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, যখন মামলার বাদী হওয়ার জন্য কেউ রাজি হচ্ছিল না, তখন অধ্যক্ষের কথামতো বিগত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মামলার বাদী হতে রাজি হই। তবে আমার জানা ছিল না, শিক্ষার্থীরা এই মামলার আসামি। আমি একজন শিক্ষক ও মা হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেতে পারিনি। আমি মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৭০০ শিক্ষার্থীর নামে মামলা করা শিক্ষিকাকে অধ্যক্ষ নিয়োগ

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
জাতীয় ডেস্ক: জুলাই আন্দোলনে তিতুমীর কলেজের ৭০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী এবার নিয়োগ পেলেন অধ্যক্ষ হিসেবে। কলেজটির অধ্যাপক মালেকা আক্তার বানুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

গত ২ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তারা তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, একই বছরের ১৮ জুলাই সরকারি ছুটি থাকায় ক্লাস ও ছাত্রাবাস বন্ধ ছিল। সেদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে অজ্ঞাতনামা বিএনপি, জামায়াত, শিবির ও তার অঙ্গ সংগঠনের দুষ্কৃতকারীরা কলেজে তাণ্ডব চালায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খন্দকার সাইমা সুলতানা জানান, আমরা চাই না তিনি আমাদের অধ্যক্ষ হন। তিনি ৭০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া আমাদের জন্য অবমাননাকর।

শিক্ষার্থী সাদেকুর নাহার কবিতা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী হিসেবে তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, ফ্যাসিবাদের দোসর অধ্যাপক মালেকাকে মেনে নেবে না শিক্ষার্থীরা। এ সময় তার নিয়োগের আদেশটি বাতিলের দাবি জানান। নইলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যাবে জেলা ছাত্রদল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র প্রতিনিধি বায়েজিদুর রহমান সিয়াম জানান, ফ্যাসিবাদের দোসর অধ্যক্ষকে মেনে নেবে না শিক্ষার্থীরা। তার নিয়োগটি দ্রুত বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা দ্রুত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মরকলিপি দেব।

শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মেহেরুন্নেছা মুনিয়া জানান, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসলে একদিনের জন্যও তাকে অফিস করতে দেওয়া হবে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে নিয়োগ পাওয়া নতুন অধ্যক্ষ মালেকা আখতার বানুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, যখন মামলার বাদী হওয়ার জন্য কেউ রাজি হচ্ছিল না, তখন অধ্যক্ষের কথামতো বিগত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মামলার বাদী হতে রাজি হই। তবে আমার জানা ছিল না, শিক্ষার্থীরা এই মামলার আসামি। আমি একজন শিক্ষক ও মা হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেতে পারিনি। আমি মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।