নওহাটা সরকারি কলেজে জাল সনদে চাকরির অভিযোগ: প্রভাষকের অপসারণ চেয়ে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ১০:১৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: জাল সনদপত্র দাখিল, একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের এক প্রভাষকের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। মঙ্গলবার সকালে কলেজ ফটকের সামনের সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযুক্ত প্রভাষকের নাম মো. আব্দুর রব। তিনি কলেজটিতে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত এবং জেলা যুবলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
মানববন্ধনে কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন। “জাল সনদের ঠিকানা, এই কলেজে হবে না”, “দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের বহিষ্কার চাই”, “মামলার আসামির হাতে কলম কেন?”—ইত্যাদি শ্লোগান দিতে দেখা যায় মানববন্ধনকারীদের।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, “যে শিক্ষক নিজেই প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত, তাঁর কাছে আমরা নৈতিকতার শিক্ষা কীভাবে পাব ? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় আমরা তাঁর অপসারণ চাই।”
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছি জ্ঞান অর্জনের জন্য। কিন্তু যদি শিক্ষকের বিরুদ্ধেই এমন গুরুতর অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়। কর্তৃপক্ষ কেন এখনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি ও মাদকসহ একাধিক মামলার অভিযোগ, তাঁর কাছে আমাদের সন্তানেরা কী শিখবে ? প্রতিষ্ঠান প্রধানও যদি তাঁকে রক্ষা করতে চান, তাহলে আমরা কোথায় যাব ?”
সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আব্দুর রব গ্রেপ্তার হন। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় কোনো কর্মচারী গ্রেপ্তার হলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম। কিন্তু নওহাটা কলেজের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ মোস্তফা জামান তা না করে উল্টো রবের জামিনের জন্য কলেজ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র দেন। এই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতেই রব প্রায় এক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রভাষক মো. আব্দুর রবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ মোস্তফা জামান প্রভাষক আব্দুর রবকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আইন মোতাবেক তাকে কলেজ থেকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে।” গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তা করা হয়নি।





















