ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

চলমান নার্সিং আন্দোলন নিয়ে রাজশাহী নার্সিং কলেজের সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: চলমান নার্সিং আন্দোলন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী নার্সিং কলেজের বিএসসি ইন নার্সিং (বেসিক) এর সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে বাংলাদেশের সকল নার্সিং কলেজ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ২৮ এপ্রিল তারিখে। কিন্তু বি এস সি ইন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি কে নষ্ট করতে বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষক রনি মোল্লা একটি ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের সকল বিএসসি শিক্ষার্থীদের হামলার হুমকি দেয়। যার ফলে বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ মে তারিখে রাজশাহী নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়াই, রাজশাহী নার্সিং কলেজ অডিটোরিয়ামে একটি গোপন মিটিং এর আয়োজন করে পোস্ট বেসিক এর কিছু শিক্ষার্থী, টিচার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

এসময় রাজশাহী নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে সাউন্ড বক্সের শব্দ শুনতে পেয়ে ভিতরে কি হচ্ছে তা দেখতে যায়। বিষয়টিতে রেগে যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর সিনিয়র স্টাফ নার্স ময়েজ উদ্দিন এবং আব্দুর রহমান। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বহিরাগত দিয়ে মারার হুমকি দেওয়া হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জীবনের নিরাপত্তার জন্য কলেজের মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে কতিপয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স এ বেসরকারীর ডিপ্লোমা ইন্টার্ন নার্সরা রাজশাহী নার্সিং কলেজের মেইন গেট ভেঙে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। হামলার হাত থেকে মেয়েরাও রক্ষা পায়নি। এসময় মেয়েদের শরীরে হাত, হিজাব, বোরখা ছিঁড়ে ফেলা হয়। একই সাথে হোস্টেল গেট ভেঙে হামলার সময় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

হোস্টেলের কাঁচের গেট ভাঙ্গার সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্সরা আহত হন এবং কাচের ভাঙ্গা টুকরো তাদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে যায় এবং দোষ দেওয়া হয় রাজশাহী নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর।

পরবর্তীতে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ওয়ার্ড নম্বর ০৪ এবং ০৮ এ পুনরায় হামলা করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের সহায়তায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাসপাতাল থেকে বের হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

কিন্তু কলেজ অডিটোরিয়ামে সভা করার জন্য প্রিন্সিপালের অনুমতির কোনো চিঠি বা নির্দেশনা এখনো তারা দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় কলেজ প্রশাসন কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে বরং তারা রাজশাহী নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ত্যাগের নোটিশ প্রদান করে।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন একজন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ডিউটি বাদ দিয়ে কিভাবে অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা করে, সেই সাথে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আহত করে? শিক্ষার্থীরা এটির অতি দ্রুত বিচার দাবি করেন। যদি দ্রুত এর বিচার করা না হয় তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দেন।

এছাড়াও শিক্ষার্থীরা ৩টি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো সরকারি চাকরিজীবী ডিউটি টাইমে যারা হামলা করেছে তাদেরকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকল বেসরকারি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্র্যাক্টিস এবং ইন্টানশীপ বন্ধ করতে হবে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চলমান নার্সিং আন্দোলন নিয়ে রাজশাহী নার্সিং কলেজের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১২:৩২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার: চলমান নার্সিং আন্দোলন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী নার্সিং কলেজের বিএসসি ইন নার্সিং (বেসিক) এর সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে বাংলাদেশের সকল নার্সিং কলেজ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ২৮ এপ্রিল তারিখে। কিন্তু বি এস সি ইন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি কে নষ্ট করতে বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষক রনি মোল্লা একটি ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের সকল বিএসসি শিক্ষার্থীদের হামলার হুমকি দেয়। যার ফলে বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ মে তারিখে রাজশাহী নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়াই, রাজশাহী নার্সিং কলেজ অডিটোরিয়ামে একটি গোপন মিটিং এর আয়োজন করে পোস্ট বেসিক এর কিছু শিক্ষার্থী, টিচার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

এসময় রাজশাহী নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে সাউন্ড বক্সের শব্দ শুনতে পেয়ে ভিতরে কি হচ্ছে তা দেখতে যায়। বিষয়টিতে রেগে যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর সিনিয়র স্টাফ নার্স ময়েজ উদ্দিন এবং আব্দুর রহমান। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বহিরাগত দিয়ে মারার হুমকি দেওয়া হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জীবনের নিরাপত্তার জন্য কলেজের মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে কতিপয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স এ বেসরকারীর ডিপ্লোমা ইন্টার্ন নার্সরা রাজশাহী নার্সিং কলেজের মেইন গেট ভেঙে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। হামলার হাত থেকে মেয়েরাও রক্ষা পায়নি। এসময় মেয়েদের শরীরে হাত, হিজাব, বোরখা ছিঁড়ে ফেলা হয়। একই সাথে হোস্টেল গেট ভেঙে হামলার সময় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

হোস্টেলের কাঁচের গেট ভাঙ্গার সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্সরা আহত হন এবং কাচের ভাঙ্গা টুকরো তাদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে যায় এবং দোষ দেওয়া হয় রাজশাহী নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর।

পরবর্তীতে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ওয়ার্ড নম্বর ০৪ এবং ০৮ এ পুনরায় হামলা করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের সহায়তায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাসপাতাল থেকে বের হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

কিন্তু কলেজ অডিটোরিয়ামে সভা করার জন্য প্রিন্সিপালের অনুমতির কোনো চিঠি বা নির্দেশনা এখনো তারা দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় কলেজ প্রশাসন কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে বরং তারা রাজশাহী নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ত্যাগের নোটিশ প্রদান করে।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন একজন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ডিউটি বাদ দিয়ে কিভাবে অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা করে, সেই সাথে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আহত করে? শিক্ষার্থীরা এটির অতি দ্রুত বিচার দাবি করেন। যদি দ্রুত এর বিচার করা না হয় তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দেন।

এছাড়াও শিক্ষার্থীরা ৩টি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো সরকারি চাকরিজীবী ডিউটি টাইমে যারা হামলা করেছে তাদেরকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকল বেসরকারি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্র্যাক্টিস এবং ইন্টানশীপ বন্ধ করতে হবে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি উল্লেখ করেন।