অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১০২ বার পড়া হয়েছে
অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার দুপুর ১টায় নগরীর নিউমার্কেট সেফ গার্ডেনে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগী বুলবুল হোসেন তার
লিখিত বক্তব্যে পাঠে জানান, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী চলমান সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে না পারাই রাজশাহীর সকল সাংবাদিকদের নিকট ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ইং) তারিখ আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। এই মর্মে আমি আপনাদের অবগতি করিতেছি যে, অভিযুক্ত জিয়ারুল ইসলাম (জিয়া) পিতা- মোঃ ইয়াদ আলী, গ্রাম- মাসকাটা দীঘি, ডাকঘর- শ্যামপুর, থানা-কাটাখালি, জেলা- রাজশাহী গত ১৫/০১/২০২২ইং তারিখ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী নিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পূবালী ব্যাংক কাটাখালি শাখার হিসাব নাম-নাফি নিহান ফার্মেসী, হিসাব নং-৩২৯৫৯০১০১০৬৮৩ এর ০৫/১২/২০২৪ইং তারিখ উল্লেখ করে ব্যাংক চেক নং ৮৪৩৯৫২২ এর বিনিময়ে ২৫ লক্ষ এবং ১৫/১২/২০২৪ইং তারিখ উল্লেখ করে চেক নং ৮৪৩৯৫২৩ এর বিনিময়ে ২০ লক্ষ টাকা, সর্বমোট ৪৫ লক্ষ (পয়তাল্লিশ লক্ষ টাকা) টাকা নিয়েছে। ওই সময় সে বলে আমি চাকুরী না নিয়ে দিতে পারলে উক্ত দুটি চেকের মাধ্যমে আপনি আপনার টাকা উত্তোলন করে নিবেন। এই মোতাবেক আমি তার “নাফি নিহান ফার্মেসী” প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলে তার ব্যাংক একাউন্টে কোন অর্থ নেই।
ওই সময় সে বলে, আওয়ামীলীগ সরকারের সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের যে কোন পদে নিয়োগ দেওয়া তার কাছে কোন বিষয়ই না বলে, আমাকে আশ্বস্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী প্রাপ্তির আশায় মাসের পর মাস এবং কয়েকটি বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে আমি আমার পাওনা টাকা (৪৫ লক্ষ) ফেরত নেওয়ার দাবি জানায়। কিন্তু সে বিভিন্ন সময়ে আমার অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে থাকে। সময়ের ব্যবধানে সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে অসম্মতি প্রকাশ করে। একাধিকবার তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন রিসিব করে না। কদাচিৎ ফোন রিসিব করে বলে, রাজশাহীতে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যে, তার কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পারবে। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আছে, বেশি বিরক্ত করলে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিবে বলে হুমকি প্রদর্শন করে।
প্রসঙ্গত, আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর পুনরায় তার নিকট আমার পাওনা টাকা ফেরত চাই। কিন্তু সে বলে, পরিস্থিতি ভালো না, সরকার ক্ষমতায় নেই, প্রয়োজনে তার জমি বা বিভিন্ন সম্পদ বিক্রয় করে দিয়ে টাকা দিবে বলে, ফোনে জানায়। দীর্ঘ দিনের তার কৌশলী প্রতারণা জালে আমাকে নিঃস্ব করে দিয়ে আমি ও আমার পরিবারকে নানা রকমের হুকমি দিয়ে যাচ্ছে। আমার পাওনা টাকার বিষয়ে তার সাথে আলোচনা করার জন্য অনেকবার তাকে ফোন দেওয়া হয়। কিন্ত সে আর ফোন রিসিব করেনা।
তবে গত ২০/০২/২০২৫ইং তারিখ বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে রাজশাহী কোর্ট চত্বরে তার সাথে দেখা হয়ে যায়। ওই সময় আমি তাকে বিষয়টি নিয়ে বসে আলোচনার অনুরোধ জানাই। কিন্তু সে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালানোর চেষ্টা করে। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা আত্মীয়রা তাকে পালানোর চেষ্টায় বাঁধা দেয়। তদুপরি তাকে নিয়ে আমার পাওনা টাকার বিষয়ে আলোচনা শেষ করি। আলোচনার সময় সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে বলে, অল্প সময়ের মধ্যে তার জমি বিক্রয় করে দিয়ে আমার পাওনা টাকা পরিশোধ করে দিবে।
ঘটনাস্থল থেকে সে বাড়ি ফিরে আমার নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ এবং মামলা দিয়ে হয়রানির নতুন প্রতারণা সৃষ্টি করছে এবং অজ্ঞাত অনেকের নাম জড়িত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি নিজে প্রতারিত হওয়ার পর তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি, সে রাজশাহী জেলার কাটাখালি এলাকায় আমার মতো অনেকের কাছ থেকে চাকুরী দেওয়ার নাম করে অনেক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। সে একজন প্রতারক, চাকুরী দেওয়ার নামে দালালী ব্যবসা করছে। বর্তমানে সে ওই দিনের ঘটনাকে মিথ্যা ব্যাখ্যা সাজিয়ে সাধারন মানুষের কাছে সহানুভুতি নেওয়ার চেষ্টার নতুন ফাঁদ বুনছে। উল্লিখিত বিষয়টির সত্যতা রয়েছে। যার ভুক্তভোগী আমি নিজেই। এমতাবস্থায়, আপনাদের মাধ্যমে সত্যতার উদঘাটন করার প্রত্যাশা করছি এবং তার সাথে দাবি জানাচ্ছি যে, প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় নিয়ে উপযুক্ত বিচার করতে হবে এবং আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা কামনা করছি।


























