চাঁদার টাকা না দেয়ায় বিএনপির নেতার উপর ছুরিকাঘাত
- আপডেট সময় : ০৩:০২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ৩২৮ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির ছাত্র দলের পবা উপজেলা ৩ নং ইউপির সাবেক সদস্য সচিব মাসুম সরকারকে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা
শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে মাসুদ ও হাবিব সহ প্রায় ৬জনের মত কর্নহার থানার মোড় পার হয়ে নওহাটা যাওয়ার আগের মোড়ে পুকুরে চাঁদা চাওয়াকে নিয়ে দলের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হয় ।
ঘটনা স্থানে তাঁতী দলের নেতা পাপ্পুর নেতৃত্বে ৭টি মোটরসাইকেল করে প্রায় ২১ জনের মত সন্ত্রাসবাহিনী এসে মাসুম ও হাবিবকে এলোপাতাড়ি ভাবে ছুরিকাঘাত করে। সেই সাথে একজন বাইকে করে সাদা বস্তায় চাপাতি, রামদাসহ ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসে জবাই করার জন্য। অপর দিকে পাশে থেকে একজন অস্ত্র বের করে গুলি চালাতে বলে। সেই সময় স্থানী কয়েকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা চলে যায় ও মাসুম ও হাবিবকে স্থানীয় এক অটোতে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাসুম সরকারকে অফারেশন শেষ করে রাত্রি সাড়ে ১১টার দিকে ওয়ার্ডে নেয়া হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি গণমাধ্যমেকর্মীদের জানান, তাঁতী দলের নেতা পাপ্পু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমি যে পুকুরের প্রজেক্ট করছি সেখান গিয়ে বড় অংকের টাকা দাবি করে। আমি তাদের এত টাকা দিতে পারবো না বলে জানায়। তবে তাদের বলি আপনাদের পিকনিকের জন্য কিছু খরচ আমি দিব। পরে গতকাল বিকেলে ৫টার দিকে আমি, হাবিব সহ কয়েকজন পুকুরের দিকে যায়। আর সেই সময় পাপ্পু তার সুযোগ বুঝে সন্ত্রাসী বাহিনী দল ৭টি মোটরসাইকেলে নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে ও ছুরিকাঘাত করে । তারা আমাকে খুন করার পরিকল্পনা নিয়ে এই কাজটি করে। আমার পেটে, ঘরে , হাতে প্রায় ৫বার আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় আমি মাটিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা এসে আমাকে অটোতে করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমি এমন ঘটনার সর্বোচ্চ বিচার চাই।
অপরদিকে একই সাথে হাবিব ঘটনা স্থলে ছিলেন। তিনি গণমাধ্যমে জানান, আমাদের সাথে এমন ঘটবে সত্যি আমরা জানতাম না। একই দলের মানুষ এভাবে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করবে ভাবিনি।। আমার ঘাড়ে দুবার ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা আমাকে ও মাসুম ভাইকে হাসপাতালে নেয়। আমি এই সকল সন্ত্রাসবাহিনীর দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার খবর খেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ (রাজশাহী বিভাগীয়) সাবেক সহ সংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি আহতদের দেখতে আসেন। পরে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, যারা চাঁদাবাজি করে তারা কখনো বিএনপির কোন কর্মী
হতে পারে না। আমি এর তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং যদি কেউ এমনটি করে তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে একই ঘটনার বিষয় নিয়ে তাঁতি দলে মহানগরের সভাপতি কাজল বলেন, আমি বিষয়টি এখনো ঠিক মতো জানিনা। তবে বিএনপির দলের কেউ যদি এমন করে তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। সেই সাথে তাকে আইনের হাতে সপর্দ করা হবে।
ঘটনার বিষয় নিয়ে কর্ণহার থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমি নিজে হাসপাতালে তাদের দেখতে গেছি। তাদের দুজনের চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পায়নি। তবে অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো অপরাধীদের বিরুদ্ধে।
এমন আর্তর্কিত হামলার দিব্র নিন্দা ও যারা এর সাথে জড়িতো তাদের শাস্তির দাবি জানান পরিবারের স্বজনেরা।
প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি













