পুলিশ বাহিনী আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আমরা শিক্ষকমন্ডলী এর প্রতিবাদ জানায়
জা.বি অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজের ৩৫০০ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও করার দাবিতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ১০:৪২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
৩২ বছরের বৈষম্য অবসান কল্পে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ আদেশে এমপিওভুক্তির দাবিতে এবং ঢাকা শিক্ষা ভবনের সামনে কর্মসূচিতে শিক্ষকদের উপর পুলিশের অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে “অ্যাপ্লিকেশন টু দ্যা চিপ অ্যাডভাইজার” দিয়েছে শিক্ষকমন্ডলী ।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নগরীর জিরো পয়েন্টে মোড়ে বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অর্নাস-মাষ্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন রাজশাহী জেলা কমিটির উদ্দ্যেগে আতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে সমূহে বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ও নিয়মিত কর্মরত ৩৫০০ জন অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে শিক্ষককে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ আদেশে এমপিওভুক্তির দাবিতে এবং গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা শিক্ষা ভবনের সামনে কর্মসূচিতে শিক্ষকদের উপর পুলিশের অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে “অ্যাপ্লিকেশন টু দ্যা চিপ অ্যাডভাইজার” কর্মসূচি পালন করেছে।
রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি মো: সানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: আলাল হোসেন এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে জেলার ১১ টি কলেজ থেকে শিক্ষকমন্ডলী উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষক। ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক রোষানলে পড়ে গত ৩২ বছর ধরে আমাদের ৪৯৫টি বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে প্রায় ৩৫০০ জন নন-এমপিও অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষককে কোন বেতন-ভাতা না দিয়ে এমপিওবিহীন করে চরম বৈষম্য সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। এর ফলে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা আমাদের প্রাপ সন্মান চাই।
মানববন্ধনে শিক্ষকগণ আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যলয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে সারাদেশের বেসরকারি কলেজ সমূহে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। বিগত সরকারগুলো অনার্স-মারার্স শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত না করায় একদিকে যেমন এ সকল শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে পারছে না, অন্যদিকে প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক হিসেবে কলেজ থেকে পূর্ণস্কেলে বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও ইতঃপূর্বে কলেজ ভেদে ২০০০-১০,০০০ টাকার বেশি কখনই দেওয়া হয় নি। এছাড়া করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় থেকে অধিকাংশ কলেজগুলোতে বেতন বন্ধ ছিল। ফলে, উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত এ সকল শিক্ষক পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় সদ্য জাতীয়করণকৃত ৩০২টি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকগণ ক্যাডার/নন-ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন, ডিগ্রিপ্তরের ৩য় শিক্ষকগণ জনবল কাঠামোয় না থাকার পরও এমপিওভুক্ত হয়েছেন। আমারা এই সকল বৈষম্য থেকে মুক্তি চাই এবং আমাদের যেন এমপিওনীতিমালায় অন্তুর্ভুক করা হয় সেই দাবি জানায়।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার পরেও অদ্যবধি সরকারি বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছি। এ ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ থেকে ১৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত ঢাকায় শিক্ষা ভবনের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে ১৭ অক্টোবর ২০২৪ বিকাল ৪:৩০ মিনিটে আমরা ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি ঘোষণা করি। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদেরকে অগ্রসর হতে বাধা দেয়। ফলে আমরা রাস্তায় বসে পড়ি। এরই মধ্যে আসরের নামাজের আজান হলে আমরা সেখানেই নামাজ আদায় করি এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টার অসুস্থতার কথা জানতে পেরে তাদের সুস্থতার জন্য দোয়া করি। এমন সময় পেছনের দিক থেকে অর্থাৎ খাদ্য অধিদপ্তরের দিক থেকে পুলিশ বাহিনী আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এতে আমাদের অনেক শিক্ষক আহত, রক্তাক্ত হয় এবং সমাবেশ পণ্ড হয়। যার ভিডিও ও স্থির চিত্র বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশন মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আমরা শিক্ষক সমাজ লজ্জিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উক্ত মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, মোঃ মেহেদি হাসান, মো: অলিউল্লাহ রহমান অলি, কাজল কুমার মন্ডল, মোঃজালাল হোসেন, মো: সানোয়ার হোসেন, মো: বাসার হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সহ ১১ টি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ।
প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি
























