ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

খেতুরীধামে ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব মহোৎসব শুরু

খ্রীষ্টফার জয়
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর গোদাগাড়ীর গৌরাঙ্গবাড়ির খেতুরীধামে বৈষ্ণব ধর্মের মহাপুরুষ নরোত্তম দাস ঠাকুরের তিরোভাব তিথি মহোৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে তিনদিনের এ উৎসব আয়োজন শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার অরুনোদয় থেকে অষ্টপ্রহরব্যাপী চলবে নাম সংকীর্ত্তন। বুধবার ভোগ মহোৎসব, দধিমঙ্গল ও মহান্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ইতোমধ্যে নরোত্তম ভক্তরা ধামে আসতে শুরু করেছেন।

এবার নরোত্তম ঠাকুরের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে ৪৯০তম মহোৎসবের আয়োজন। প্রতিবছর লক্ষ্মী পূর্ণিমার পাঁচদিন পর পঞ্চমী তিথিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সারা দুনিয়ায় বৈষব ধর্মের অনুসারীদের পাঁচটি ধাম রয়েছে। এরমধ্যে চারটিই ভারতবর্ষে। বাংলাদেশের একমাত্র ধাম এই খেতুরে। তাই বাংলাদেশের সনাতন বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীদের কাছে এর গুরুত্ব অনেক। দেশের আর কোথাও বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীদের এত বড় জমায়েত হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা সমাজসেবক এহসানুল কবির টুকু জানান, উৎসব চলাকালে প্রেমতলী থেকে বসন্তপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুধু ভক্তদের ভিড় থাকে। এ উপলক্ষে খেতুরীধামের আশপাশে মেলা বসেছে।

গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্ট বোর্ড পরিচালনা কমিটির সম্পাদক শ্যামাপদ সান্যাল বলেন, ‘খেতুরীধামের উৎসব নিয়ে এ এলাকার মানুষ যথেষ্ট আন্তরিক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। কখনও এখানে বিশৃঙ্খলা হয়নি। তিনি জানান, গতবছর অবরোধের কারণে উৎসবে ভক্তদের সংখ্যা কম ছিল। এবার কমপক্ষে পাঁচ লাখ ভক্ত সমবেত হবে বলে তারা আশা করছেন। ভক্তদের জন্য পর্যাপ্ত প্রসাদের ব্যবস্থা করছেন তারা। ভক্তদের জন্য এখানে এক সারিতেই করা আছে ৬২টি শৌচাগার।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হায়াত বলেন, ‘উৎসব ঘিরে প্রতিবছর বসন্তপুর থেকে প্রেমতলী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক থাকে। এবার পুলিশের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে এক হাজার জন করা হয়েছে। এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। এখানে নরোত্তম ভক্তরা এসে মুসলিমদের বাড়িতে থাকে পর্যন্ত। এবারও এই সম্প্রীতি বজায় থাকবে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খেতুরীধামে ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব মহোৎসব শুরু

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর গোদাগাড়ীর গৌরাঙ্গবাড়ির খেতুরীধামে বৈষ্ণব ধর্মের মহাপুরুষ নরোত্তম দাস ঠাকুরের তিরোভাব তিথি মহোৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে তিনদিনের এ উৎসব আয়োজন শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার অরুনোদয় থেকে অষ্টপ্রহরব্যাপী চলবে নাম সংকীর্ত্তন। বুধবার ভোগ মহোৎসব, দধিমঙ্গল ও মহান্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ইতোমধ্যে নরোত্তম ভক্তরা ধামে আসতে শুরু করেছেন।

এবার নরোত্তম ঠাকুরের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে ৪৯০তম মহোৎসবের আয়োজন। প্রতিবছর লক্ষ্মী পূর্ণিমার পাঁচদিন পর পঞ্চমী তিথিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সারা দুনিয়ায় বৈষব ধর্মের অনুসারীদের পাঁচটি ধাম রয়েছে। এরমধ্যে চারটিই ভারতবর্ষে। বাংলাদেশের একমাত্র ধাম এই খেতুরে। তাই বাংলাদেশের সনাতন বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীদের কাছে এর গুরুত্ব অনেক। দেশের আর কোথাও বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীদের এত বড় জমায়েত হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা সমাজসেবক এহসানুল কবির টুকু জানান, উৎসব চলাকালে প্রেমতলী থেকে বসন্তপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুধু ভক্তদের ভিড় থাকে। এ উপলক্ষে খেতুরীধামের আশপাশে মেলা বসেছে।

গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্ট বোর্ড পরিচালনা কমিটির সম্পাদক শ্যামাপদ সান্যাল বলেন, ‘খেতুরীধামের উৎসব নিয়ে এ এলাকার মানুষ যথেষ্ট আন্তরিক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। কখনও এখানে বিশৃঙ্খলা হয়নি। তিনি জানান, গতবছর অবরোধের কারণে উৎসবে ভক্তদের সংখ্যা কম ছিল। এবার কমপক্ষে পাঁচ লাখ ভক্ত সমবেত হবে বলে তারা আশা করছেন। ভক্তদের জন্য পর্যাপ্ত প্রসাদের ব্যবস্থা করছেন তারা। ভক্তদের জন্য এখানে এক সারিতেই করা আছে ৬২টি শৌচাগার।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হায়াত বলেন, ‘উৎসব ঘিরে প্রতিবছর বসন্তপুর থেকে প্রেমতলী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক থাকে। এবার পুলিশের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে এক হাজার জন করা হয়েছে। এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। এখানে নরোত্তম ভক্তরা এসে মুসলিমদের বাড়িতে থাকে পর্যন্ত। এবারও এই সম্প্রীতি বজায় থাকবে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি