ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম লিড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
স্পোর্টস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে স্বপ্নের মতো দিন কাটাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই প্রথমবারের মতো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন পার করেছে টাইগাররা। টেস্টের প্রথম দিনে পেসার হাসান মাহমুদের মারাত্বক বোলিংয়ে দু’শত রানের আগেই অল আউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল দ্বিতীয় দিনে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
ওপেনার তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ-সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনর শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে বাংলাদেশ। তানজিদ ১০১ ও শান্ত ৮৪ রান করেন। ডারউইনের মারার স্টেডিয়ামে টেস্টের প্রথম দিনই অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর নিজেদের ইনিংস শুরু করে প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে ছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় উইকেটে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তানজিদ-মোমিনুল।
তানজিদ ৩২ ও মোমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিন হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে আউট হন মোমিনুল। অস্ট্রেলিয়া পেসার জশ হ্যাজেলউডের প্রথম শিকার হওয়ার আগে ৮টি চারে ৪৯ রান করেন মোমিনুল। তানজিমের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ১৮৯ বলে ১০২ রানের জুটি গড়েন মোমিনুল। এই জুটি গড়া পথে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান তানজিদ। দলীয় ১৩৮ রানে মোমিনুল ফেরার পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে ১৫৭ বল খেলে স্কোর বোর্ডে ৯৩ রান যোগ করেন তানজিদ। এই জুটিতেই শান্ত সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি এবং তানজিদ টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতরানের দেখা পান।
৮টি চার ও ১টি ছক্কার সহায়তায় ১৮৮ বল খেলে তিন অঙ্কে পা রাখেন তানজিদ। সাবেক বাঁ-হাতি ব্যাটার শাহরিয়ার নাফীসের পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে অসিদের বিপক্ষে ১৩৮ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেছিলেন নাফীস। সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি তানজিদ। অস্ট্রেলিয়া স্পিনার নাথান লায়নের বলে স্টার্ককে ক্যাচ দিয়ে থামেন তিনি। ১০১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। দলীয় ২৩১ রানে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে তানজিদ আউট হবার পর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখেন শান্ত।
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৮৪ রানে থামেন তিনি। পেসার হ্যাজেলউডের বলে দলীয় ২৯৭ রানে স্লিপে স্টিভেন স্মিথকে ক্যাচ দেন ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১২৬ বলে ৮৪ রান করা শান্ত। মুশফিক-শান্ত জুটি ৬৬ রান যোগ করেন। শান্তর আউটের পর ২৩ বল ও ১১ রানের ব্যবধানে মুশফিক এবং লিটন দাসকে হারায় বাংলাদেশ। দুজনই স্লিপে স্মিথকে ক্যাচ দেন। মুশফিক ৩৬ রানে কামিন্সের এবং লিটন শূন্য হাতে স্টার্কের শিকার হন। ৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতন হয় বাংলাদেশের।
এরপর দিনের বাকী সময় অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ১৪৭ বল খেলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। তবে দিনের শেষ বলে ক্যাচ ফেলে দিলে জীবন পান মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার বোলার মার্নাস লাবুশেনের করা দিনের শেষ ওভারের শেষ বলে গালিতে মিরাজের ক্যাচ ফেলেন ক্যামেরন গ্রিন। ৩ চারে ৩২ এবং বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক ও হ্যাজেলউড ২টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৯৮

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (আগের দিন ৯৬/১) (তানজিদ ১০১, মুমিনুল ৪৯, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, লিটন ০, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; স্টার্ক ২১-২-৬৮-২, হেইজলেউড ২০-৩-৬৮-২, গ্রিন ৮-২-২৬-০, কামিন্স ২০-৩-৫০-১, লায়ান ২৫-১-৯২-১, ওয়েবস্টার ১০-১-২৮-০, হেড ২-০-৩-০, লাবুশেন ৪-১-৪-০)।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম লিড

আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে স্বপ্নের মতো দিন কাটাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই প্রথমবারের মতো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন পার করেছে টাইগাররা। টেস্টের প্রথম দিনে পেসার হাসান মাহমুদের মারাত্বক বোলিংয়ে দু’শত রানের আগেই অল আউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল দ্বিতীয় দিনে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
ওপেনার তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ-সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনর শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে বাংলাদেশ। তানজিদ ১০১ ও শান্ত ৮৪ রান করেন। ডারউইনের মারার স্টেডিয়ামে টেস্টের প্রথম দিনই অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর নিজেদের ইনিংস শুরু করে প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে ছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় উইকেটে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তানজিদ-মোমিনুল।
তানজিদ ৩২ ও মোমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিন হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে আউট হন মোমিনুল। অস্ট্রেলিয়া পেসার জশ হ্যাজেলউডের প্রথম শিকার হওয়ার আগে ৮টি চারে ৪৯ রান করেন মোমিনুল। তানজিমের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ১৮৯ বলে ১০২ রানের জুটি গড়েন মোমিনুল। এই জুটি গড়া পথে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান তানজিদ। দলীয় ১৩৮ রানে মোমিনুল ফেরার পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে ১৫৭ বল খেলে স্কোর বোর্ডে ৯৩ রান যোগ করেন তানজিদ। এই জুটিতেই শান্ত সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি এবং তানজিদ টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতরানের দেখা পান।
৮টি চার ও ১টি ছক্কার সহায়তায় ১৮৮ বল খেলে তিন অঙ্কে পা রাখেন তানজিদ। সাবেক বাঁ-হাতি ব্যাটার শাহরিয়ার নাফীসের পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে অসিদের বিপক্ষে ১৩৮ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেছিলেন নাফীস। সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি তানজিদ। অস্ট্রেলিয়া স্পিনার নাথান লায়নের বলে স্টার্ককে ক্যাচ দিয়ে থামেন তিনি। ১০১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। দলীয় ২৩১ রানে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে তানজিদ আউট হবার পর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখেন শান্ত।
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৮৪ রানে থামেন তিনি। পেসার হ্যাজেলউডের বলে দলীয় ২৯৭ রানে স্লিপে স্টিভেন স্মিথকে ক্যাচ দেন ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১২৬ বলে ৮৪ রান করা শান্ত। মুশফিক-শান্ত জুটি ৬৬ রান যোগ করেন। শান্তর আউটের পর ২৩ বল ও ১১ রানের ব্যবধানে মুশফিক এবং লিটন দাসকে হারায় বাংলাদেশ। দুজনই স্লিপে স্মিথকে ক্যাচ দেন। মুশফিক ৩৬ রানে কামিন্সের এবং লিটন শূন্য হাতে স্টার্কের শিকার হন। ৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতন হয় বাংলাদেশের।
এরপর দিনের বাকী সময় অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ১৪৭ বল খেলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। তবে দিনের শেষ বলে ক্যাচ ফেলে দিলে জীবন পান মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার বোলার মার্নাস লাবুশেনের করা দিনের শেষ ওভারের শেষ বলে গালিতে মিরাজের ক্যাচ ফেলেন ক্যামেরন গ্রিন। ৩ চারে ৩২ এবং বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক ও হ্যাজেলউড ২টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৯৮

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (আগের দিন ৯৬/১) (তানজিদ ১০১, মুমিনুল ৪৯, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, লিটন ০, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; স্টার্ক ২১-২-৬৮-২, হেইজলেউড ২০-৩-৬৮-২, গ্রিন ৮-২-২৬-০, কামিন্স ২০-৩-৫০-১, লায়ান ২৫-১-৯২-১, ওয়েবস্টার ১০-১-২৮-০, হেড ২-০-৩-০, লাবুশেন ৪-১-৪-০)।