ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

এমন আবহাওয়া দেখা যায়নি চার দশকেও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০টি নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। সুরমা, কুশিয়ারা, মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এবারের বর্ষার এই উগ্র রূপ কেবল অস্বাভাবিক নয়, বরং গত চার দশকের রেকর্ডেও এমন চিত্র দেখা যায়নি।

দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নৌযান ও বিমান বাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের বর্ষণে স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা গত কয়েক দশকের তুলনায় ব্যতিক্রম। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রহমান জানান, জুলাই মাসে একদিনে এত বেশি বৃষ্টিপাত গত ৪০ বছরের রেকর্ডে বিরল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালের ৫ জুলাই সর্বোচ্চ ৪০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। গত বুধবার চট্টগ্রামে ৩৯৪ মিলিমিটার এবং শুক্রবার সাতক্ষীরায় ২২৭ মিলিমিটারের মতো রেকর্ড বৃষ্টিপাত প্রমাণ করে প্রকৃতি কতটা অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে এবারের বর্ষায় অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে স্বল্প সময়ে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়েছে।

রাজধানী ঢাকাতেও টানা বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মিরপুর, মালিবাগ, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেক সড়কে হাঁটুপানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তীব্র যানজটে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিভিন্ন মার্কেটেও পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বঙ্গোপসাগরে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।

এই ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা আবহাওয়া ও নদ-নদীর পানির তথ্য হালনাগাদ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢলে বসবাসকারী লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়বে। তাই দ্রুত ত্রাণ, নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এমন আবহাওয়া দেখা যায়নি চার দশকেও

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০টি নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। সুরমা, কুশিয়ারা, মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এবারের বর্ষার এই উগ্র রূপ কেবল অস্বাভাবিক নয়, বরং গত চার দশকের রেকর্ডেও এমন চিত্র দেখা যায়নি।

দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নৌযান ও বিমান বাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের বর্ষণে স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা গত কয়েক দশকের তুলনায় ব্যতিক্রম। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রহমান জানান, জুলাই মাসে একদিনে এত বেশি বৃষ্টিপাত গত ৪০ বছরের রেকর্ডে বিরল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালের ৫ জুলাই সর্বোচ্চ ৪০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। গত বুধবার চট্টগ্রামে ৩৯৪ মিলিমিটার এবং শুক্রবার সাতক্ষীরায় ২২৭ মিলিমিটারের মতো রেকর্ড বৃষ্টিপাত প্রমাণ করে প্রকৃতি কতটা অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে এবারের বর্ষায় অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে স্বল্প সময়ে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়েছে।

রাজধানী ঢাকাতেও টানা বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মিরপুর, মালিবাগ, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেক সড়কে হাঁটুপানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তীব্র যানজটে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিভিন্ন মার্কেটেও পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বঙ্গোপসাগরে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।

এই ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা আবহাওয়া ও নদ-নদীর পানির তথ্য হালনাগাদ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢলে বসবাসকারী লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়বে। তাই দ্রুত ত্রাণ, নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।